সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবারও হামলা হয়েছে। রোববার (১১ অক্টোবর) বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৪ লক্ষ্য করে একটি অজ্ঞাত বস্তু আঘাত হানলে সেখানে আগুন ধরে যায় বলে জানিয়েছে ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। এ ছাড়া কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবিও করেছে জোটটি।
এর কয়েক ঘণ্টা আগে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও আকাশসীমা ব্যবহার না করতে বিমান সংস্থা, কর্মী ও যাত্রীদের সতর্ক করে। শনিবার রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় ১২ জন নিহত ও তিন শতাধিক আহত হওয়ার পরও বিমানবন্দরটি বন্ধ রয়েছে। এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সৌদি আরবে এটি সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলাগুলোর একটি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রোববারের হামলা সম্পর্কে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, অজ্ঞাত বস্তুটি বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৪ লক্ষ্য করে ছোড়া হয়। তবে হামলার ধরন, ক্ষয়ক্ষতি কিংবা হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে হুথিরা সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও আকাশসীমা ব্যবহার না করতে সতর্ক করে। পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনার বিমানবন্দর ছাড়া সৌদি আরবের অন্য বিমানবন্দরগুলো হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে দাবি করে তারা। সতর্কবার্তাকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে যেকোনো হামলা প্রতিহত করতে ব্যর্থ হলে তার দায় সৌদি আরবকে নিতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেয় গোষ্ঠীটি।
সৌদি হামলা বন্ধ না হলে আরও কঠোর জবাবের হুঁশিয়ারি
গত কয়েক সপ্তাহে ইয়েমেনে সামরিক তৎপরতা বাড়িয়েছে সৌদি আরব। গত মাসে লোহিত সাগর উপকূলের কৌশলগত এলাকা দখল করে নেয় হুথিরা। এরপর গোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে হামলা জোরদার করে সৌদি আরব এবং ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর পাল্টা অভিযানে সমর্থন দেয়।
রোববার হুথি-নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, দেশটিতে সৌদি আরবের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকলে আরও শক্তিশালী জবাব দেওয়া হবে। হুথি-নিয়ন্ত্রিত আল মাসিরাহ টেলিভিশনে প্রচারিত বিবৃতিতে বলা হয়, সৌদি আরব ইয়েমেনে আগ্রাসন ও হস্তক্ষেপ বন্ধ না করলে সামনে আরও কঠোর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।
এদিকে শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি হামলায় যুক্তরাষ্ট্র যোগ দেবে কি না, তা বিবেচনা করছে ওয়াশিংটন। ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা বৃহত্তর যুদ্ধের প্রভাব ইয়েমেনের সংঘাতেও ছড়িয়ে পড়েছে।
বিমানবন্দর বন্ধ, তবু জ্বালানি সম্মেলন চলবে
বিমানবন্দর বন্ধ থাকলেও রিয়াদে পূর্বনির্ধারিত আন্তর্জাতিক জ্বালানি সম্মেলন আয়োজনের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয়। চলতি সপ্তাহে শহরের বিমানবন্দর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরের একটি সম্মেলন কেন্দ্রে পাঁচ দিনব্যাপী ডব্লিউপিসি এনার্জি কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
সৌদি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের তথ্য অনুযায়ী, সম্মেলনে ৭০ জনের বেশি মন্ত্রী, ৩০০ জন কোম্পানি নির্বাহী এবং ২৫টিরও বেশি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার প্রতিনিধির অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। তবে তাঁরা সরাসরি উপস্থিত থাকবেন, নাকি ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হবেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি।
এ ছাড়া আন্তর্জাতিক জ্বালানি ফোরামের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকও রোববার হওয়ার কথা রয়েছে। আয়োজকদের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বৈঠকের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন রুদ্ধদ্বার কক্ষে অনুষ্ঠিত হবে।
নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে সৌদি কর্তৃপক্ষ রোববার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মীদের সশরীরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিতি স্থগিত করে অনলাইনে পাঠদানের নির্দেশ দিয়েছে।
এক সপ্তাহে বিমানবন্দরে তিন দফা হামলা
সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, শনিবারের হামলাটি এক সপ্তাহের মধ্যে রিয়াদ বিমানবন্দরে তৃতীয় হামলা। এতে নিহত ১২ জনের মধ্যে চারজন সৌদি নাগরিক, দুজন বাংলাদেশি এবং যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান ও মিসরের নাগরিক রয়েছেন।
এর আগে সপ্তাহের শুরুর দিকে বিমানবন্দরে দুটি হামলায় চারজন নিহত হন। ওই হামলাগুলোর একটিতে বিমানবন্দরের রানওয়েতে দাঁড়িয়ে থাকা সৌদি আরবের একটি বাণিজ্যিক উড়োজাহাজও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/
