৫১ মিনিট আগে
সর্বশেষ আপডেট: ৫১ মিনিট আগে
স্টার অনলাইন ডেস্ক
আরব সাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এ লক্ষ্যে আরব সাগরে অবস্থানরত মার্কিন বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনে নতুন করে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও বাংকারবিধ্বংসী বোমা তোলা হচ্ছে। একই সময়ে মার্কিন নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে গেছে ইরানও—এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নিরাপত্তা সতর্কতা বাড়িয়েছে ওয়াশিংটন। বিভিন্ন দেশের মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেট থেকে কর্মীদের সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
আজ শনিবার দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়, সরেজমিনে আরব সাগরে অবস্থানরত রণতরি ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনে গিয়ে পত্রিকাটির প্রতিবেদক শেলবি হলিডে দেখতে পান, বিপুলসংখ্যক গোলাবারুদের বাক্স স্তূপ করে রাখা হয়েছে।
Watch as sailors in the USS George Washington strike group prepare for a possible escalation in fighting on the front lines of the Iran war. https://t.co/0DuuHijABS
— The Wall Street Journal (@WSJ) October 24, 2026
এর মধ্যে দূর থেকে স্থল লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র এবং ভূগর্ভস্থ সুরক্ষিত স্থাপনা ধ্বংসে ব্যবহৃত বাংকারবিধ্বংসী বোমা রয়েছে। মার্কিন সেনারা অস্ত্র তোলার পাশাপাশি সম্ভাব্য নতুন সামরিক অভিযানের জন্য যুদ্ধবিমানও প্রস্তুত করছিলেন বলে দেখেন তিনি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, রণতরিতে তোলা অস্ত্রগুলো ইরানের ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনা এবং অত্যন্ত সুরক্ষিত সামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালানোর উপযোগী।
এদিকে দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে নিজেদের কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন যুক্তরাষ্ট্র।
সম্প্রতি দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে পাঠানো জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক জে ক্লেটনের এক স্মারকলিপির বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন কর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করার প্রচেষ্টা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে ইরান—এমন গোয়েন্দা তথ্য পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন এক কর্মকর্তার বরাতে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দেশটির নাগরিকদের বিরুদ্ধে হুমকির মাত্রা এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।
নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, গত তিন সপ্তাহ ধরে রাষ্ট্রদূতসহ মার্কিন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হামলার হুমকি নিয়ে গোয়েন্দা তথ্য পর্যালোচনা করছেন বিশ্লেষকরা।
কিছু তথ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও ইরানের এজেন্ট থাকার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা।
শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, ইউরোপের বিভিন্ন স্থানও ইরানের সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশন থেকে কূটনীতিক ও অন্যান্য মার্কিন সরকারি কর্মীদের সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট জানান, সৌদি আরব থেকে কর্মী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের ইতোমধ্যে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে ইরাক, জর্ডান ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন কূটনৈতিক মিশন থেকে কর্মীদের সরিয়ে নেয় ওয়াশিংটন। একইসঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সব মার্কিন কূটনৈতিক মিশনের কার্যক্রম সীমিত করেছে।
এছাড়া, যুক্তরাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত রয়্যাল এয়ার ফোর্সের ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি থেকে ১২টি বি-১ বোমারু বিমানও সরিয়ে নেয় ওয়াশিংটন।
তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্য দেশে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা সীমিত। দেশটির হামলা চালানোর আকাঙ্ক্ষা বেশি হলেও বাস্তবে সক্ষমতা অনেক কম।
নতুন হামলা কবে
প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন করে হামলার পরিকল্পনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। তবে এ বিষয়ে ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরানে বড় আকারে হামলার নির্দেশ দেওয়া থেকে বিরত থেকেছেন ট্রাম্প। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর বহু সপ্তাহ আগে থেকেই ট্রাম্প প্রশাসন ও ইসরায়েল গোপনে ইরানে হামলার পরিকল্পনা করছিল।
