চাঁদপুরের মতলব উত্তরে তিন সন্তানের জননী হাসনেহেনা আক্তারের (৩০) রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৮ অক্টোবর) সকালে উপজেলার এখলাসপুর ইউনিয়নের জামতলা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনার প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্বামী ছেংগারচর সরকারি কলেজের গণিত বিভাগের প্রভাষক মো. শাহাবুদ্দিনকে (৪৬) থানায় নেওয়া হয়েছে।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, অন্য এক নারীর সঙ্গে স্বামীর পরকীয়া সম্পর্কের জের ধরে তাদের দাম্পত্য জীবনে দীর্ঘদিন ধরে অশান্তি চলছিল। এর প্রতিবাদ করায় হাসনেহেনাকে নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো বলেও দাবি স্বজনদের।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, হাসনেহেনা আক্তার ও শাহাবুদ্দিন দম্পতির দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। স্বামীর সঙ্গে মোহনপুর ইউনিয়নের মাথাভাঙ্গা গ্রামের কেয়া আক্তার ইভার সম্পর্ক নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল বলে অভিযোগ পরিবারের। বিষয়টি পারিবারিকভাবে মীমাংসার চেষ্টাও করা হয়েছিল।
নিহতের খালা সালমা বেগম অভিযোগ করে বলেন, আমার ভাগনি অত্যন্ত মেধাবী ও ধৈর্যশীল ছিল। তার স্বামীর অন্য এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি জানার পর আমরা তার সঙ্গে কথা বলেছিলাম। কিন্তু তিনি আমাদের কথা শোনেননি। এ নিয়ে তাদের সংসারে অশান্তি চলছিল।
নিহতের চাচাতো ভাই আবুল হোসেন ও শাহজালাল শিকদার বলেন, খবর পেয়ে তারা বাড়িতে গিয়ে হাসনেহেনার মরদেহ দেখতে পান। তাদের দাবি, মৃত্যুর পরিস্থিতি দেখে তাদের সন্দেহ হয়েছে। তারা ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি জানান।
এদিকে নিহতের মা আফিয়া বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে বলে তিনি সন্দেহ করছেন। তার অভিযোগ, স্বামীর পরকীয়ার বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ ছিল এবং বিভিন্ন সময়ে তার মেয়েকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি দাবি করেন।
মতলব উত্তর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. বাবুল জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। পুলিশ পৌঁছানোর আগে স্থানীয় লোকজন মরদেহটি ঝুলন্ত অবস্থা থেকে নামিয়ে মেঝেতে শুইয়ে রেখেছিলেন। এ সময় গলায় ব্যবহৃত ওড়নাটি ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল বলে জানান তিনি।
মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মানস বড়ুয়া জানান, নিহতের স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
