Published on
:
2 min read
মাত্র ১৫ বছর বয়সে সবকিছু অর্জন করে ফেলেছে বৈভব সূর্যবংশী। ঘরোয়া ক্রিকেট, IPL, দেশের জার্সিতে যা অর্জন তা ছুঁতে ভবিষ্যতের ক্রিকেটারদের অনেক কষ্ট করতে হবে। কিন্তু বাইশ গজের সেই ঝকঝকে দুনিয়া আর কোটি টাকার খ্যাতির বাইরে গিয়ে দাঁড়ালে দেখা যায়, বৈভব আজও মাটির মানুষ। তার মন পড়ে থাকে উত্তর বিহারের মিথিলা অঞ্চলের সমস্তিপুর জেলার ছোট্ট শহর তাজপুরে। গ্ল্যামারকে দূরে সরিয়ে সে অনাড়ম্বর জীবন পালন করেছে।
গলির ভিতরে দোতলা বাড়ি
তাজপুরের এক সাধারণ গলির ভেতর অবস্থিত সূর্যবংশী পরিবারের দোতলা বাড়িটি কোনও ফিল্মস্টার বা ক্রীড়া মহাতারকার বিলাসবহুল রাজপ্রাসাদ নয়। বারান্দা আর চারপাশের সবুজে ঘেরা বাড়িটিতে রয়েছে এক পারিবারিক আবহ। সোশ্যাল মিডিয়ায় মাঝেমধ্যেই দেখা মেলে এই বাড়ির ছবি—কখনও বাবা-মায়ের সঙ্গে হাসিমুখে সেলফি, আবার কখনও পরিবারের সঙ্গে ঘরোয়া উৎসবে মেতে ওঠা। কোটি টাকার IPL চুক্তি যাকে ছুঁয়েছে, সে প্রত্যন্ত গ্রামে সাদামাটা থাকতে ভালোবাসে। দেখা যায়, ক্রিকেটাররা বড় চুক্তি পেলে সবার আগে একটা বাড়ি তৈরি করেন। কিন্তু বৈভব হেঁটেছে অন্য পথে।
তাজপুরের নেটে ভবিষ্যতের ভিত
বৈভবের এই উত্থানের পেছনে সবচেয়ে বড় স্তম্ভ ছিল তার বাবা। তাজপুরে উন্নত ক্রিকেট অ্যাকাডেমি বা মাঠের অভাব থাকায় ছেলের অনুশীলনে যাতে কোনও খামতি না থাকে, তার জন্য বাড়ির ঠিক পাশেই তৈরি করে দেওয়া হয়েছিল একটি ব্যক্তিগত প্র্যাকটিস নেট। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সেই নেটে বাবার থ্রো-ডাউনেই নিজের স্কিল ও টাইমিং শানিয়ে নিয়েছিল এই বাঁহাতি বিস্ময়। বড় স্টেডিয়াম বা টিভির পর্দায় আলো ছড়ানোর অনেক আগেই তাজপুরের এই নেটের মাটিতেই তৈরি হয়েছিল ক্রিকেটের আসল ভিত।
বৈভবের বাড়িEi Samay
সেই পরিশ্রমের ফল পেতেও দেরি হয়নি। ২০১১ সালের ২৭ মার্চ জন্ম নেওয়া বৈভব ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে মাত্র ১২ বছর বয়সে রঞ্জি ট্রফিতে অভিষেক করে জাতীয় নির্বাচকদের নজরে আসে। এরপর ২০২৫ IPL নিলামে রাজস্থান রয়্যালস তাকে ১.১০ কোটি টাকায় দলে নেয়। আসরে নেমে মাত্র ৩৫ বলে মারকুটে শতরান হাঁকিয়ে টুর্নামেন্টের অন্যতম দ্রুততম সেঞ্চুরির ইতিহাস লেখে। ২০২৬ সালের আসরেও তাকে ধরে রাখে ফ্র্যাঞ্চাইজ়ি।
তাজপুরের এই বাড়ির আর্থিক মূল্য হয়তো বড় শহরের রিয়েল এস্টেটের তুলনায় সামান্যই, কিন্তু ভারতীয় ক্রিকেটের মানচিত্রে বাড়িটির গুরুত্ব অমূল্য। সুযোগের অভাবকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে বাবা ও ছেলের যে লড়াই তাজপুরের মাটি থেকে শুরু হয়ে IPL-এর মেগা মঞ্চ কাঁপিয়ে দিয়েছে, এই দোতলা বাড়িটি আজ তারই এক প্রতীক।
