চট্টগ্রামে জাল ব্যক্তিগত গ্যারান্টিনামা তৈরি করে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার মামলায় মোহাম্মদ শাহ আলম নামে এক ব্যবসায়ীকে ১৬ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
তবে আদালতের আদেশ অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে দেওয়া বিভিন্ন ধারার সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে। ফলে ১৬ বছরই পৃথক সাজা যোগ করে নির্ধারিত মেয়াদ নয়, বরং সব সাজা একযোগে কার্যকরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. মিজানুর রহমান এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মোকাররম হোসাইন কালবেলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মামলায় মোট সাতজন সাক্ষ্য দিয়েছেন।
শাহ আলম চট্টগ্রাম নগরীর সদরঘাট এলাকার আইমান এন্টারপ্রাইজের মালিক। তিনি দক্ষিণ খুলশী আবাসিক এলাকার বাসিন্দা মৃত মফজল আহমেদের ছেলে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে প্রিমিয়ার ব্যাংকের শাখা থেকে মেসার্স আইমান এন্টারপ্রাইজের নামে ২০১২ সালে ৫টি এলটিআর হিসাবের বিপরীতে ২৫ কোটি ৭৭ লাখ ৫৯ হাজার ২৮২ টাকা এবং একটি সিসি (হাইপো) হিসাবের বিপরীতে দুই কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়। সব মিলিয়ে ঋণের পরিমাণ ছিল ২৭ কোটি ৭৭ লাখ ৫৯ হাজার ২৮২ টাকা।
দুদকের অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, শাহ আলম ও তার ছেলে এস এম পারভেজ আলম পরস্পর যোগসাজশে শাহ আলমের তিন সহোদর দিদারুল আলম, সোলায়মান ও ইলিয়াসের নামে জাল ব্যক্তিগত গ্যারান্টিনামা তৈরি করেন। এসব গ্যারান্টিনামায় প্রত্যেকের নামে ২৫ কোটি টাকা করে সম্পদ প্রদর্শন করা হয়েছিল। গ্যারান্টিনামাগুলোতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগও আনা হয়।
দুদকের মামলার এজাহারের তথ্য অনুযায়ী, ঋণের বিপরীতে শাহ আলম মাত্র ৮৩ লাখ ২৩ হাজার ৯৬৪ টাকা পরিশোধ করেন। বাকি অর্থ পরিশোধ না করায় ২০১৪ সালের ১১ আগস্ট পর্যন্ত ঋণের দায় সুদসহ দাঁড়ায় ৩৯ কোটি ৬৮ লাখ ১৪ হাজার ৭১২ টাকা।
দুদকের অনুসন্ধানে আরও উঠে আসে, ঋণসুবিধার বিপরীতে শাহ আলমের মালিকানাধীন মোট ১১২ দশমিক ৯৭ ডেসিমেল জমি ব্যাংকে বন্ধক রাখা হয়েছিল। এর মধ্যে চট্টগ্রামের উত্তর পাহাড়তলী মৌজায় ৩০ ও ৪২ দশমিক ৯৭ ডেসিমেল এবং সীতাকুণ্ডের জঙ্গল লতিফপুর মৌজায় ৪০ ডেসিমেল জমি ছিল। এজাহারে বলা হয়েছে, এসব জমি ব্যাংকের কাছে বন্ধক থাকা সত্ত্বেও ঋণের বড় অংশ অনাদায়ি থেকে যায়।
এ ঘটনায় ২০১৮ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন দুদকের তৎকালীন সহকারী পরিচালক এইচ এম আখতারুজ্জামান। মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। ২০২১ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর শাহ আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন তৎকালীন বিচারক মুনসী আবদুল মজিদ। মঙ্গলবার আদালত তাকে দণ্ডবিধির ৪২০ ধারায় তিন বছর, ৪৬৭ ধারায় পাঁচ বছর, ৪৬৮ ধারায় তিন বছর এবং ৪৭১ ধারায় পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত।
রায়ের আদেশে বলা হয়েছে, সব ধারার সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে। আসামি পলাতক থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করতে পরোয়ানা জারির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, ২০১৮ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি রাতে শাহ আলম এবং তার ছেলে এস এম পারভেজ আলমকে নগরীর জাকির হোসেন রোড থেকে গ্রেপ্তার করে দুদক। পরে তিনি জামিন পেয়ে পালিয়ে যান।
