আজকাল ওয়েবডেস্ক: লাদাখ নিয়ে চীনের সাম্প্রতিক দাবিকে আবারও সরাসরি খারিজ করে দিল ভারত।মঙ্গলবার ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, লাদাখ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসাবে দেশের এক অবিচ্ছেদ্য এবং অবিচ্ছিন্ন অংশ। বেজিং যতই একথা যতই অস্বীকার করার চেষ্টা করুক না কেন, এই প্রমাণিত সত্যকে কোনওভাবেই বদলানো যাবে না বলে কড়া ভাষা জানিয়ে দিল বিদেশ মন্ত্রক।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক লাদাখের ২৮টি স্থান ও ভৌগোলিক অঞ্চলকে নামকরণ করেছে। সেই ঘোষণার পর জায়াগুলি সরকারি মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য একটি বিজ্ঞপ্তিও জারি করা হয়েছে। তালিকায় ভারত-চীনের সীমান্তবর্তী বেশ কিছু বিতর্কিত এলাকা এবং চীনের নিয়ন্ত্রণে থাকা কিছু জায়গাও রয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, লাদাখের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং স্থানীয় অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনার পরেই এই ঘোষণা করা হয়। 'সার্ভে অব ইন্ডিয়া'-র মানচিত্রে জায়গাগুলির নিখুঁত ও নির্ভুল পরিচিতি দেওয়া এবং জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতেই এই নামগুলি নির্দিষ্ট করা হয়েছিল।
ভারতের এই পদক্ষেপের পরই সুর চড়ায় চীন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের মুখপাত্র মাও নিং মঙ্গলবার মন্তব্য করেন যে, "বেজিং কখনওই ভারতের একতরফা এবং তথাকথিত 'লাদাখ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল'-কে স্বীকৃতি দেয়নি।" পাশাপাশি, ভারতের তরফে জায়গাগুলির নামকরণকেও 'অবৈধ ও অকার্যকর' আখ্যা দিয়েছেন তিনি। দাবি করেছেন, এর ফলে ভারত-চীন সীমানার পশ্চিমাঞ্চলের ইতিহাস বদলে যাবে না। ওই অঞ্চলগুলি চীনেরই অন্তর্ভুক্ত।
চীনের এই আপত্তির মন্তব্যের পরই কড়া জবাব দেয় ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। মঙ্গলবার মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, "লাদাখ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলটি ভারতের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। চীন যতবারই অস্বীকার করুক না কেন, এই ঐতিহাসিক সত্যকে পরিবর্তন করা যাবে না।" তিনি আরও স্পষ্ট করে দেন যে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তিটিতেও তা স্পষ্ট করা হয়েছে। দেশের মানচিত্রে নিজেদের ভূখণ্ডের নাম সঠিকভাবে নথিভুক্ত করার সম্পূর্ণ অধিকার ভারতের রয়েছে বলেও জানান তিনি।
