দেশের ক্রীড়াঙ্গনে আধুনিক অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণসুবিধার অভাব দীর্ঘদিনের। এই সংকট কাটিয়ে খেলাধুলাকে আন্তর্জাতিক মানে এগিয়ে নিতে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় গড়ে উঠেছে এবিজি স্পোর্টস সিটি। প্রায় ৩০০ বিঘা জমিতে বিস্তৃত এই ক্রীড়া কমপ্লেক্সে ফুটবল, ক্রিকেট, স্কোয়াশ ও হকিসহ বিভিন্ন খেলার আধুনিক সুযোগ-সুবিধা তৈরি করা হচ্ছে।
বসুন্ধরা গ্রুপ ২০১৯ সালে এই প্রকল্পের কাজ শুরু করে। এর লক্ষ্য শুধু মাঠ ও স্টেডিয়াম নির্মাণ নয়, বরং নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলায় উৎসাহিত করা, প্রতিভাবান খেলোয়াড় তৈরি এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের পরিচিতি বাড়ানো।
এবিজি স্পোর্টস সিটির অন্যতম আকর্ষণ বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনা। ২০২২ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি উদ্বোধনের পর ২০২৩ সালের ৩ সেপ্টেম্বর এখানে প্রথম আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ম্যাচ আয়োজনের মধ্য দিয়ে ভেন্যুটি দেশের ফুটবলে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক মানের মাঠ, অনুশীলন গ্রাউন্ড, জিম ও পুনর্বাসনসুবিধাও এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
ফুটবলের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তৈরিতে ২০২৪ সালের ৫ অক্টোবর এখানে অনাবাসিক ফুটবল একাডেমি চালু করা হয়। ভবিষ্যতে আবাসিক একাডেমি চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। ক্রিকেটেও বাড়ছে কার্যক্রম। আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক ম্যাচ ও প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগের খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাশাপাশি ক্রিকেট প্রশিক্ষণ ও খেলোয়াড় তৈরির উদ্যোগ এগিয়ে চলছে।
অন্যান্য খেলাতেও বিস্তৃত হচ্ছে আয়োজন। সম্প্রতি ১১টি দেশের অংশগ্রহণে আন্তর্জাতিক স্কোয়াশ প্রতিযোগিতা এবং সাত দেশের অংশগ্রহণে জুলকান ফাইটিং চ্যাম্পিয়নশিপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করতে ফুটবল ও ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হকির জন্য অ্যাস্ট্রোটার্ফ স্থাপনের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে।
বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই ক্রীড়া কমপ্লেক্সে তাঁর পরিবারের সদস্যরাও ক্রীড়ার প্রসারে ভূমিকা রাখছেন। এবিজি চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীরের প্রত্যাশা, এখানকার একাডেমি থেকে ভবিষ্যতে মানসম্পন্ন ফুটবলার উঠে আসবে এবং অন্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও খেলাধুলায় বিনিয়োগে উৎসাহিত হবে।
এবিজি স্পোর্টস সিটির পরিচালক ও বসুন্ধরা কিংসের সভাপতি মো. ইমরুল হাসান বলেন, খেলাধুলার মাধ্যমে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পরিসরে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরাই তাঁদের অন্যতম লক্ষ্য। তাঁর মতে, আধুনিক অবকাঠামো প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতার সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং তরুণদের সুস্থ জীবনযাপনে উৎসাহিত করবে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় রয়েছে ‘শাহ আলম ক্রিকেট স্টেডিয়াম’, ‘আবদুস সাদেক স্টেডিয়াম’ নামে হকি স্টেডিয়াম এবং ‘আবদুস সোবহান সুইমিংপুল’। ঐতিহ্যবাহী কয়েকটি ক্লাবকে নিয়ে ক্রীড়া ও বিনোদন উৎসব আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
দেশের ক্রীড়ার উন্নয়নে প্রতিভার পাশাপাশি প্রয়োজন আধুনিক অবকাঠামো, নিয়মিত প্রশিক্ষণ, প্রতিযোগিতা ও দীর্ঘমেয়াদি পৃষ্ঠপোষকতা। ফুটবল-ক্রিকেট থেকে শুরু করে বিভিন্ন খেলার সুযোগ তৈরি করে এবিজি স্পোর্টস সিটি সেই প্রয়োজন পূরণে ভূমিকা রাখছে। উদ্যোগটি সফলভাবে এগিয়ে গেলে নতুন খেলোয়াড় তৈরি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ক্রীড়াক্ষেত্রের সক্ষমতা তুলে ধরার সুযোগ আরও বাড়বে।
বিআলো/শিলি