আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রায় দু’বছর পর প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তন করেই নজর কাড়লেন অভিজ্ঞ পেসার উমেশ যাদব। রঞ্জি ট্রফিতে অসমের বিরুদ্ধে পাঞ্জাবের হয়ে খেলতে নেমে পাঁচ উইকেট নিলেন ৩৮ বছর বয়সি এই পেসার।
তাঁর দাপুটে বোলিংয়ে অসমের প্রথম ইনিংস শেষ হল ৩৭৩ রানে। সোমবার নিউ চণ্ডীগড়ের পিসিএ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচের দ্বিতীয় দিনে এই কৃতিত্ব অর্জন করেন উমেশ।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরের পর এই প্রথম রঞ্জি ট্রফিতে খেলতে নামলেন উমেশ। দু’দিন মিলিয়ে ২৪ ওভার বল করে ৭০ রান দিয়ে পাঁচ উইকেট নেন উমেশ এক্সপ্রেস। রবিবার বল হাতে দুটি উইকেট নিয়েছিলেন।
সোমবার আরও তিনটি উইকেট তুলে নিয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিজের কেরিয়ারের ১৬তম ফাইফারের নজির গড়েন অভিজ্ঞ পেসার। ম্যাচের প্রথম দিন থেকেই বল হাতে ছাপ ফেলেন উমেশ।
অসমের ওপেনার ঋষভ দাসকে শুরুতেই বোল্ড করেন। তিন নম্বরে ব্যাট করতে নামা রাজবীর সিংহকেও প্যাভিলিয়নে ফেরান। সোমবার আবার বল হাতে ফিরে অসমের লোয়ার অর্ডারে ধাক্কা দেন উমেশ।
আমলাঞ্জ্যোতি দাস, মুক্তার হুসেন এবং মোহিত ঠাকুরকে আউট করে ফাইফার পূর্ণ করেন তিনি। উমেশের পাশাপাশি পাঞ্জাবের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন তরুণ পেসার গুরনুর ব্রারও।
দুই পেসারের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বড় রান তোলার পথে অসমকে আটকে রাখতে সক্ষম হয় পাঞ্জাব। তবে অসমের ব্যাটিংকে সহজে দমিয়ে রাখা যায়নি। দলের অধিনায়ক দানিশ দাস এবং শিবশঙ্কর রায়ের শতরানে লড়াইয়ে টিকে থাকে অসম।
শিবশঙ্কর ১৪৩ রানে অপরাজিত থাকেন। দুই ব্যাটারের বড় ইনিংসের সুবাদে অসমের ৩৭৩ রান তোলে। দীর্ঘদিন বিদর্ভের হয়ে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলেছেন উমেশ।
২০০৮ সালে বিদর্ভের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল তাঁর। ২০২৬-২৭ মরশুমে পাঞ্জাবের হয়ে অতিথি ক্রিকেটার হিসেবে খেলছেন তিনি। অসমের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচেই পাঁচ উইকেট তুলে নিয়ে নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিলেন এই অভিজ্ঞ পেসার।
ভারতের হয়ে উমেশের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ ছিল ২০২৩ সালের জুনে, অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল। এরপর আর জাতীয় দলের জার্সিতে দেখা যায়নি তাঁকে।
এর মধ্যে গুরুতর চোট তাঁর কেরিয়ারে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ইংল্যান্ডে অস্ত্রোপচারের পর প্রায় এক বছর রিহ্যাবে কাটাতে হয়েছিল তাঁকে। গত বছর সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতে বিদর্ভের হয়ে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফেরেন আসেন উমেশ।
তবে আইপিএলের নিলামে অবিক্রিত থাকায় ২০২৬ সালের আইপিএলে ক্রিকেটার হিসেবে খেলার সুযোগ পাননি তিনি। পরিবর্তে ধারাভাষ্যকারের ভূমিকায় দেখা গিয়েছিল তাঁকে।
https://youtu.be/JwFdq_tA9cE?si=43ndm4yXsNrwpJaQ
এবার লাল বলের ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তন করে পাঞ্জাবের হয়ে প্রথম ম্যাচেই পাঁচ উইকেট নিয়ে নিজের উপস্থিতি জানান দিলেন উমেশ। ২৪ ওভার বল করে এই সাফল্য তাঁর ফিটনেস এবং লম্বা স্পেলে বল করার সক্ষমতারও ইঙ্গিত দিচ্ছে। ঘরোয়া ক্রিকেটে এই প্রত্যাবর্তন আগামী দিনে জাতীয় দলে ফেরার সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে কি না, এখন সেটাই দেখার।
