Published on
:
2 min read
পুজোয় বড় পর্দায় একেনবাবু ফিরলে দর্শকদের মন ভালো হয়ে যায়। তাঁরা ধরেই নেন এই ছবিটা দেখা মানেই, খোশমেজাজে বাড়ি ফেরা। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। পুজোয় যে ক’টি ছবি মুক্তি পাচ্ছে, তার মধ্যে ‘দ্য একেন: কেরালায় কুরুক্ষেত্র’–র নাম বিশেষ ভাবে উল্লেখ করতেই হয়। কারণ দুরন্ত অভিনয়, মজার সংলাপ, জমজমাট গল্প–পরিচালনা আর দারুণ দৃশ্যায়ন পর্দা থেকে চোখ ফেরাতে দেয় না।
ছবির গল্প একটু ধরিয়ে দেওয়া যাক। নাম শুনেই নিশ্চয়ই বুঝে ফেলেছেন, এবার একেন (অনির্বাণ চক্রবর্তী), প্রমথ (সোমক ঘোষ) আর বাপির (সুহোত্র মুখোপাধ্যায়) অ্যাডভেঞ্চার কেরালায়। সেখানে সাংঘাতিক এক উগ্রপন্থী ইরফান ফাজ়িলের (ঋত্বিক চক্রবর্তী) হাত থেকে দেশ এবং বিজ্ঞানী মিহিরকে (কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়) রক্ষা করার দায়িত্ব পড়েছে তাদের উপর। কিন্তু যেখানে একেনবাবু আছে, এত সহজে কি সব কিছুর মীমাংসা হয়? তাই রয়েছে একের পর এক প্লট ট্যুইস্ট। যা বেশ তাক লাগাবে দর্শকদের। আর এই ট্যুইস্টেই রয়েছে ফিল্মের আসল মজা। কিন্তু সেটা লিখে দিলে গোয়েন্দা গল্পের সাসপেন্সটাই তো আর থাকবে না যে! তাই সিনেমাহলে গিয়ে ছবিটা না দেখা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।
Ei Samay
প্রতিবারের মতো এবারও অনির্বাণ চক্রবর্তীর অভিনয় ছবিকে দারুণ ভাবে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে। তাঁকে ছাড়া একেন ভাবাই সম্ভব নয়। তবে এবার অনির্বাণের দায়িত্ব আরও অনেকটা বেশি। কারণটা, ওই যে প্লট ট্যুইস্ট! লেখা যাবে না। সোমক ঘোষ, সুহোত্র মুখোপাধ্যায়, অর্ণ মুখোপাধ্যায়, কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়, সুব্রত দত্ত, অম্বরীশ ভট্টাচার্য— সবাই ভালো অভিনয় করেছেন। ভালো লাগে রাইমা সেনকে।
Ei Samay
বেশ অন্য রকম একটা চরিত্র বেছে নিয়েছেন তিনি। আশা করা যায়, ছকের বাইরে তাঁকে দেখতে পছন্দ করবেন দর্শকরা। ঋত্বিক চক্রবর্তী যে কোনও চরিত্রই দারুণ ভাবে ফুটিয়ে তোলেন। এ ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। কারও কাঁধে অভিনয়ের দায়িত্ব একটু বেশি, সুযোগ একটু বেশি, কারও একটু কম থাকলেও টিম ওয়ার্কটা যে ভালো হয়েছে তা ফিল্মের মেকিং–ই বলে দেয়। অভিনয়কে আবার আরও কিছুটা এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে চিত্রনাট্য আর সংলাপ। তার জন্য ধন্যবাদ জানাতে হয় পদ্মনাভ দাশগুপ্তকে। সঙ্গে কোচির প্রাকৃতিক দৃশ্য মুগ্ধ করবে দর্শকদের।
একেনবাবু কবে থেকেই বাঙালি দর্শকদের ঘরের মানুষ হয়ে গিয়েছে। তাই পুজোর সময়ে সপরিবারে একেনকে বড় পর্দায় দেখতে দর্শকরা যে ভিড় করবেন তা আশা করাই যায়। এই ফ্র্যাঞ্চাইজ়ির শেষ ফিল্মের বক্স অফিস রেকর্ডও সেই কথাই বলে। ‘কর্পোরেট বুকিং’ করে হল ভরানোর অভিযোগ অন্তত ‘একেন’ ফ্রাঞ্চাইজ়ির বিরুদ্ধে নেই। পুজোর বাকি ছবিগুলো নিঃসন্দেহে ভালো কম্পিটিশন দেবে। তবে ‘দ্য একেন: কেরালায় কুরুক্ষেত্র’ও যে টক্কর দিতেই এসেছে, তা স্পষ্ট। শেষে আরও একটা চমক রয়েছে। যা এই পর্বে পুরোটা দেখাননি জয়দীপ। অতএব, ‘সব পেলে নষ্ট জীবন’ ধরে নিয়ে পরের ছবির জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই। শোনা যাচ্ছে, পরের পর্ব নিয়ে ফিরতে নাকি কিছুটা সময় নেবেন পরিচালক।