৩-১ গোলে পিছিয়ে পড়েও অসাধারণ প্রত্যাবর্তনে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে রোমার বিপক্ষে ৪-৩ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। একেবারে নিজেদের চিরাচরিত প্রত্যাবর্তনের গল্প যাকে বলে সেটিই লস ব্লাঙ্কোসরা লিখলো শেষ ৭ মিনিটে ৩ গোল করে।
চ্যাম্পিয়নস লিগে স্তাদিও অলিম্পিকোয় মরিনহোর ফেরার ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত রূপ নেয় রোমাঞ্চকর এক লড়াইয়ে।
বিজ্ঞাপন
২০২০-২১ মৌসুমে রোমাকে কনফারেন্স লিগ জেতাতে ভূমিকা রাখেন মরিনহো। সেই মৌসুমেই ক্লাবটিকে ইউরোপা লিগের ফাইনালে ওঠান মরিনহো। সাবেক কোচকে সম্মান জানিয়ে একাধিক ব্যানার মাঠে আনতে দেখা যায় রোমা সমর্থকদের।
তবে মরিনহোর বর্তমান শিষ্যরা ৮৩ মিনিটে ২ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর পরাজয়ের মুখেই ছিলো। কিন্তু বদলি হিসেবে নামা কার্লোস এস্পি ও এন্দ্রিকের গোলে সমতায় ফেরে স্প্যানিশ জায়ান্টরা। এরপর ৯০তম মিনিটে কাছ থেকে গোল করে নাটকীয় জয় নিশ্চিত করেন অ্যান্থনি রুডিগার।
বিজ্ঞাপন
রোমার রক্ষণভাগ শেষ দিকে রিয়ালের বদলি খেলোয়াড় আর্দা গুলারের নেওয়া কর্নার সামলাতে ব্যর্থ হয়। তাতেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারায় স্বাগতিকরা।
মাঠে নামার পাঁচ মিনিটের মধ্যেই গোল করেন এস্পি। ৮৩ মিনিটে এনদ্রিকের হেড গোলরক্ষক ফিরিয়ে দিলে ফিরতি বলে জাল খুঁজে নেন তিনি। এরপর মিনিট দুয়েক পর ম্যাচের ৮৫ মিনিটে আর্দা গুলারের কর্নার থেকে হেডে গোল করেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড এনদ্রিক। আর ৯০ মিনিটে গুলারের আরেকটি সেট-পিস থেকে কাছ থেকে ভলিতে গোল করে রিয়ালের জয় নিশ্চিত করেন রুডিগার।
টানটান উত্তেজনার ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত পায় অবিশ্বাস্য এক সমাপ্তি।
বিজ্ঞাপন
ম্যাচের ২০ মিনিটে মাতিয়াস সুলের পাস থেকে প্রথমবারের শটে প্রায় ২০ গজ দূর থেকে গোল করে রোমাকে এগিয়ে দিয়েছিলেন মার্টেন ডি রুন। তবে পাঁচ মিনিটের বেশি ব্যবধান ধরে রাখতে পারেনি স্বাগতিকরা।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজের শততম ম্যাচ খেলতে নামা কিলিয়ান এমবাপের শট রোমার জিয়ানলুকা মানচিনির গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে। বলটি উঁচু হয়ে গোলরক্ষক পিয়েরলুইজি গোলিনির মাথার ওপর দিয়ে জালে জড়ায়। প্রতিযোগিতাটিতে এটি এমবাপের ৭২তম গোল।
বিজ্ঞাপন
তবে দ্বিতীয়ার্ধে মাত্র ৬ মিনিটের ব্যবধানে ডনিয়েল মালেনের দুই গোলে ম্যাচে শক্ত অবস্থান তৈরি করে রোমা। ২০২৫ সালে অ্যাস্টন ভিলার হয়ে খেলা এই ডাচ ফরোয়ার্ড প্রথমে রিয়ালের ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ভুল পাস থেকে বল পেয়ে শট নেন। বলটি রিয়াল অধিনায়ক ফেদেরিকো ভালভের্দের গায়ে লেগে জালে ঢুকে যায়। তাতে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় রোমা।
এরপর ঠান্ডা মাথায় নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান ৩-১ করেন মালেন। প্রথমে অফসাইডের পতাকা উঠলেও ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) পর্যালোচনায় দেখা যায়, ভালভের্দে তাকে অনসাইডে রেখেছিলেন।
জয় ধরে রাখতে রোমার কোচ জিয়ান পিয়েরো গাসপেরিনি একের পর এক রক্ষণাত্মক বদলি করেন। কিন্তু মরিনহোর বদলির সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের চিত্র পাল্টে দেয়।
বিজ্ঞাপন
লা লিগায় শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার চেয়ে ছয় পয়েন্ট পিছিয়ে আছে রিয়াল। তবে চ্যাম্পিয়নন্স লিগে নিজেদের দুই ম্যাচেই জয় পেয়েছে তারা। অন্যদিকে এক ড্র ও এক হারে রোমার সংগ্রহ মাত্র এক পয়েন্ট।
আইএন
ফলো করুন
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন jagofeature@gmail.com ঠিকানায়।
