আজকাল ওয়েবডেস্ক: দীর্ঘমেয়াদে সম্পদ গড়ে তোলার জন্য মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছেন? হাতে যদি ১০ বছরের সময় থাকে, তা হলে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সঠিক কৌশল বেছে নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সময় ধরে বাজারে বিনিয়োগ করে রাখলে শেয়ার বাজারের বৃদ্ধির সুফল পাওয়ার সুযোগ থাকে। তবে শুধু সাম্প্রতিক সময়ে সর্বোচ্চ রিটার্ন দেওয়া ফান্ড বেছে নিলেই হবে না। বরং বর্তমান বাজারের অস্থিরতার মধ্যে ঝুঁকি সামলাতে বৈচিত্র্যপূর্ণ পোর্টফোলিও তৈরি করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিনিয়োগকারীর ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা, আগে থেকে থাকা বিনিয়োগ, আর্থিক লক্ষ্যের ধরন এবং বিভিন্ন সম্পদের আপেক্ষিক মূল্যায়নের উপর ভিত্তি করেই পোর্টফোলিও সাজানো উচিত।
১০ বছরের পোর্টফোলিওতে কেন ইক্যুইটির পাশাপাশি সোনা ও ঋণপত্র জরুরি?
দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ইক্যুইটিতে তুলনামূলক বেশি অর্থ রাখা যেতে পারে। তবে তার অর্থ এই নয় যে সম্পূর্ণ টাকা শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করতে হবে। আর্থিক লক্ষ্যে পৌঁছনোর ঠিক আগে বাজারে বড়সড় পতন হলে সঞ্চিত অর্থের উপর তার প্রভাব পড়তে পারে।
মাঝারি থেকে বেশি ঝুঁকি নিতে পারেন এমন বিনিয়োগকারীরা পোর্টফোলিওর প্রায় ৬৫ শতাংশ ভারতীয় ইক্যুইটিতে, ৫-১০ শতাংশ আন্তর্জাতিক ইক্যুইটিতে এবং ১০ শতাংশ সোনায় রাখতে পারেন। বাকি অর্থ ঋণভিত্তিক বিনিয়োগে রাখা যেতে পারে।
সোনাকে স্বল্পমেয়াদে দাম বাড়ার সুযোগ হিসেবে না দেখে দীর্ঘমেয়াদি পোর্টফোলিওর অংশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। সোনার দাম বেড়ে গেলে বা কমে গেলে নির্ধারিত বরাদ্দের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিনিয়োগের ভারসাম্য ফেরানো যেতে পারে।
অন্যদিকে, ঋণভিত্তিক ফান্ড পোর্টফোলিওতে স্থিতিশীলতা ও তারল্য আনতে সাহায্য করে। বর্তমান অনিশ্চিত সুদের হারের পরিস্থিতিতে স্বল্পমেয়াদি ও অ্যাক্রুয়াল ডেট ফান্ড বিবেচনা করতে হবে। তবে নতুন করে ঋণভিত্তিক ফান্ডে বিনিয়োগের আগে ইপিএফ, পিপিএফ এবং ফিক্সড ডিপোজিটে থাকা অর্থের হিসাব রাখা জরুরি।
আন্তর্জাতিক ইক্যুইটিতে বিনিয়োগ কেন গুরুত্বপূর্ণ?
শুধু ভারতীয় বাজারের উপর নির্ভর না করে বিদেশি শেয়ারে বিনিয়োগের মাধ্যমেও পোর্টফোলিওতে বৈচিত্র্য আনা যায়। আন্তর্জাতিক ইক্যুইটি ফান্ডের মাধ্যমে বিশ্ববাজারের প্রযুক্তি, সেমিকন্ডাক্টর, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং মহাকাশ শিল্পের মতো ক্ষেত্রে বিনিয়োগের সুযোগ পাওয়া যায়। পোর্টফোলিওর ১০-১৫ শতাংশ বিদেশি শেয়ারে রাখা যেতে পারে। এতে আন্তর্জাতিক ব্যবসার বৃদ্ধির সুযোগ পাওয়ার পাশাপাশি টাকার দরপতনের ঝুঁকির বিরুদ্ধে কিছুটা সুরক্ষা মিলতে পারে।
কোন ফান্ডে বিনিয়োগে সতর্ক থাকবেন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা কম হলে থিম্যাটিক ও সেক্টরাল ফান্ডের পাশাপাশি নতুন ফান্ড অফার বা এনএফও-তে বিনিয়োগ সীমিত রাখা উচিত। কারণ, নির্দিষ্ট শিল্প বা বিনিয়োগের বিষয়ের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
নিয়মিত এসআইপি-র মাধ্যমে বিনিয়োগ করলে বিভিন্ন সময়ে বাজারের ওঠানামার মধ্যে টাকা বিনিয়োগের সুযোগ মেলে। পাশাপাশি, আর্থিক লক্ষ্যে পৌঁছনোর শেষ দুই থেকে তিন বছর আগে ধীরে ধীরে ইক্যুইটির পরিমাণ কমিয়ে ঋণভিত্তিক বিনিয়োগ বাড়ালে বাজারের বড় পতনের ঝুঁকি কিছুটা কমানো সম্ভব।
সব মিলিয়ে, ১০ বছরের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে লক্ষ্য হওয়া উচিত শুধু বেশি রিটার্ন নয়, বরং ঝুঁকি সামলে দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ তৈরি করা। তবে মনে রাখতে হবে, মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ বাজারের ঝুঁকির অধীন।
https://www.youtube.com/watch?v=JwFdq_tA9cE
