শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি।।
বঙ্গোপসাগরের উত্তাল ঢেউয়ে জীবন বাজি রেখে মাছ ধরতে যাবেন জেলেরা। জালে উঠে আসবে কোরাল, লাক্ষ্যা, রূপচাঁদা, রইট্যা, ছুরি, চিংড়িসহ নানা প্রজাতির মাছ। সেই মাছ রোদে শুকিয়ে তৈরি হবে শুঁটকি। সামুদ্রিক মাছের তৈরি সেই সুস্বাদু শুঁটকি ব্যবসায়ীদের হাত বদল হয়ে চলে যাবে দেশের নানা প্রান্তে। সেখান থেকে উঠবে ভোজন রসিকদের পাতে। এভাবে প্রায় ১০০ বছর ধরে চলছে সামুদ্রিক শুঁটকির এই বাণিজ্য।
সেই লক্ষ্যে প্রতিবছরের মতো এবারও পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলার চরে আগামী ৩০ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে পাঁচ মাসের শুঁটকি আহরণ মৌসুম। এরই মধ্যে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন দেশের বিভিন্ন এলাকার জেলে ও বহদ্দাররা (মহাজন)। বন বিভাগের অনুমতিপত্র (পাস) নিয়ে ২৯ অক্টোবর শুঁটকি পল্লীর উদ্দেশে যাত্রা করবেন তারা।
তবে নতুন মৌসুমের প্রস্তুতির পাশাপাশি তাদের মনে ভর করেছে দস্যু আতঙ্ক, বৈরী আবহাওয়ার ঝুঁকি আর পাহাড়সম ঋণের বোঝা। গত মৌসুমে দস্যুদের চাঁদাবাজি, জেলে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের পাশাপাশি একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত হয়েছেন তারা। মাছ ধরতে না পারা, বৃষ্টিতে মাছ নষ্ট হওয়া এবং চাঁদা ও মুক্তিপণ দিতে গিয়ে অনেক মহাজন বিনিয়োগের টাকাও তুলতে পারেননি। অনেকেই ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছেন। জায়গাজমি বিক্রি করে ঋণ শোধ করেছেন কেউ কেউ।
গত মৌসুমের লোকসান ও ঋণের বোঝা মাথায় নিয়েও এবার নতুন করে আবারও লাখ লাখ টাকা ঋণ ও চড়া সুদে পুঁজি সংগ্রহ করছেন অনেকে। তাদের আশা, এবারের ব্যবসা ভালো হলে শোধ করতে করবেন পুরনো ঋণ। কিন্তু সাগরে কি নিরাপদে মাছ ধরতে পারবেন? রক্ষা পাবেন কি দস্যুদের হাত থেকে? আর বিনিয়োগের টাকা তুলে ঋণ শোধ করতে পারবেন কি না, এসব প্রশ্নই এখন ভাবিয়ে তুলছে তাদের।
চাঁদা দিয়েও লোকসান ১৫ লাখ টাকা
বাগেরহাটের মোংলার বাসিন্দা মো. জাকির শেখ আলোরকোল শুঁটকি পল্লীর রামপাল জেলে সমিতির সাধারণ সম্পাদক। একই সঙ্গে তিনি একজন বহদ্দার। গত মৌসুমে দস্যুদের তিন লাখ টাকা চাঁদা দিতে হয়েছে তাকে। সব মিলিয়ে তার লোকসান হয়েছে প্রাায় ১৫ লাখ টাকা। আগের ঋণ রয়ে গেছে আরও ১৫ লাখ। তবুও ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে এবার নতুন করে ৪০ লাখ টাকা ঋণ ও সুদে নিয়ে শুঁটকি উৎপাদনে যাওয়ার প্রস্তুতিত নিয়েছেন তিনি। তার সমিতিতে দুই শতাধিক ব্যবসায়ী সদস্য রয়েছেন। গত মৌসুমে তাদের বেশিরভাগই লোকসানে রয়েছেন।
জাকির শেখ বলেন, গত মৌসুমে লাখ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হয়েছে দস্যুদের। অন্যদিকে বৈরী আবহাওয়ার কারণে অনেক সময় সাগরে মাছ ধরতে পারেননি জেলেরা। এতে ব্যবসায় বড় ধরনের লোকসান হয়েছে। আগের ঋণই শোধ করা সম্ভব হয়নি। তারপরও বাধ্য হয়ে নতুন করে ঋণ নিয়ে ব্যবসায় নামতে হচ্ছে। এবারও যদি লোকসান হয়, তাহলে ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হয়ে পড়বে।
নিজের সমিতির অন্য সদস্যদের দুরবস্থার কথাও তুলে ধরেন জাকির শেখ। তার দেওয়া তথ্যানুযায়ী, শুঁটকি ব্যবসায়ী মোয়াজ্জেম শেখ তার সমিতিরই সদস্য। গত মৌসুমে আড়াই লাখ টাকা চাঁদা দিয়েছেন দস্যুদের। লোকসান হয়েছে ১০ লাখ টাকা। আগের ঋণ রয়েছে আরও ১০ লাখ টাকা। এবার তিনি নতুন করে ৩০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ব্যবসা শুরু করছেন।
তায়েব আলী শেখ চাঁদা দিয়েছেন আড়াই লাখ টাকা। তার লোকসান হয়েছে ২০ লাখ টাকা। এবার আবার সুদে ৪০ লাখ টাকা সংগ্রহ করেছেন। লতিফ শেখ তিন লাখ টাকা চাঁদা দিয়েছেন, লোকসানে পড়েছেন ২০ লাখ টাকা। এবার ঋণ নিয়েছেন আরও ৩৫ লাখ টাকা।
মাসুম শেখেরও একই অবস্থা। গত মৌসুমে তাকে চাঁদা দিতে হয়েছে আড়াই লাখ টাকা। লোকসান হয়েছে ২০ লাখ টাকা। আগের দেনা রয়েছে আরও ২০ লাখ টাকা। এবার নতুন করে ৩৫ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ব্যবসায় নামছেন তিনিও।
রামপাল এলাকার এনামুল হককে গত মৌসুমে তিন লাখ টাকা চাঁদা দিতে হয়েছে দস্যুদের। লোকসান হয়েছে ২০ লাখ টাকা। এখনো দেনা রয়েছেন ১০ লাখ টাকা। এবার নতুন করে ৪০ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছেন তিনি। একই এলাকার জিয়া শেখ তিন লাখ টাকা চাঁদা দিয়েছেন, লোকসানে আছেন ৩০ লাখ টাকা। তার আগের দেনা রয়েছে ২০ লাখ টাকা। এবার আবার ঋণ নিয়েছেন ৪৫ লাখ টাকা।
এসব হিসাব থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, গত মৌসুমে লোকসানে পড়া অনেক মহাজনই আগের ঋণ শোধ করার আগেই নতুন ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে ব্যবসায় নামছেন। ঋণের চাপ সামলাতে না পেরে ব্যবসা বন্ধ করে পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে মোংলার মোজাম গাজীকে।
৩০০ মহাজনের প্রত্যেকেই ঋণগ্রস্ত
সাতক্ষীরার আশাশুনি এলাকার বাসিন্দা এবং আলোরকোলের চাকলা মৎস্য সমবায় সমিতির সভাপতি আব্দুর রউফ মেম্বর বলছিলেন, আমাদের সমিতিতে তিন শতাধিক বহদ্দারের মধ্যে ৯০ শতাংশই ঋণগ্রস্ত। গতবার আমার ১২ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। ১১ কাঠা জমি বিক্রি করে জেলে ও শ্রমিকদের মজুরি শোধ করেছি। এবার ব্র্যাক থেকে ১২ লাখ টাকা এবং সুদে নিয়েছি আরও ৮ লাখ, সব মিলিয়ে ঋণ নিয়েছি ২০ লাখ টাকা। তাদের সমিতির সদস্য মোবারেক সানা ২০ লাখ টাকা লোকসানে রয়েছেন। এবার ঋণ নিয়েছেন আরও ২০ লাখ।
তার তথ্য মতে, গতবার লোকসানে পড়ে জাল-নৌকা বিক্রি করেও দেনা শোধ করতে না পেরে এক বিঘা জমি বিক্রি করেছেন ব্যবসায়ী নূর মোহাম্মদ শেখ। তার মতো ঋণের দায়ে ব্যবসা বন্ধ করতে হয়েছে চাকলা সমিতির ইউসুফ খান, নূর নবী শেখ, রফিকুল ঢালী, বাবলু ঢালী, আহম্মদ শেখসহ ১৭ জন ব্যবসায়ীকে।
গত মৌসুমে প্রত্যেককেই চাঁদা দিতে হয়েছে দস্যুদের। প্রতি গোনে একেকটি নৌকা ও ট্রলারের ওপর ৫০-৬০ হাজার টাকা চাঁদা নির্ধারণ করে দস্যুরা। যেসব ব্যবসায়ী নিয়মিত চাঁদা পরিশোধ করেছিলেন, তাদের জেলেরা কিছুটা নিরাপদে মাছ ধরতে পেরেছেন। আর যারা দস্যুদের চাঁদার কার্ড গ্রহণ করেননি, তাদের জেলেদের অপহরণের শিকার হতে হয়েছে। পরে লাখ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়িয়ে আনতে হয়েছে তাদের।
আব্দুর রউফ বলেন, দস্যুদের তৎপরতার কারণে জেলেরা ঠিকমতো মাছ ধরতে পারেননি। ফলে সাধারণ ব্যবসায়ীর প্রত্যেকের ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত লোকসান হয়েছে। বড় ব্যবসায়ীদের কারও কারও লোকসানের পরিমাণ ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা। প্রত্যেকের মাথায় ঋণ ও সুদের বোঝা রয়েছে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা করে। সেই ঋণ শোধ করতে না পেরে এবার আবারও নতুন করে ঋণ নিয়ে ব্যবসায় নামতে হচ্ছে।
এবারও যদি দস্যুদের দৌরাত্ম্য বন্ধ না হয় এবং সাগরে মাছ ধরার পরিবেশ নিশ্চিত করা না যায়, তাহলে অনেকের পক্ষে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না। বারবার লোকসানে পড়ে ব্যবসা বন্ধ করা ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না। এমন শঙ্কার কথাই জানালেন আব্দুর রউফ মেম্বর।
ঋণ শোধ করতে গিয়ে বাড়ছে ঋণের বোঝা
দুবলার চরের শুঁটকি ব্যবসায় যুক্ত বহদ্দারদের ভাষ্য, সাধারণত পাঁচ মাসের মৌসুমকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিভিন্ন সমিতি ও মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করেন তারা। সেই টাকা দিয়ে মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারের খরচ, জেলেদের মজুরি, জ্বালানি, খাবার, জাল এবং শুঁটকি তৈরির প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহ করা হয়। মৌসুম শেষে মাছ ও শুঁটকি বিক্রি করে আসল টাকার সঙ্গে লাভের অংশ পরিশোধ করে থাকেন।
কিন্তু গত দুই-তিন বছর ধরে দস্যুতা, চাঁদাবাজি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে তাদের হিসাব মেলাতে পারছেন না তারা। সবকিছুই এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। প্রত্যাশিত মাছ না পাওয়ায় আয় কমছে। অন্যদিকে চাঁদা ও মুক্তিপণ দিতে গিয়ে বাড়ছে ব্যয়। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে বৃষ্টিতে মাছ নষ্ট হওয়ার ক্ষতি। ফলে আগের ঋণ পরিশোধ না করেই নতুন করে ঋণ নিতে হচ্ছে তাদের।
ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, এভাবে লোকসান ও ঋণের চক্র চলতে থাকলে একসময় ছোট ও মাঝারি মহাজনদের পক্ষে শুঁটকি ব্যবসায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে। এতে শুধু মহাজনরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না, কাজ হারানোর ঝুঁকিতে পড়বেন তাদের ওপর নির্ভরশীল হাজারো জেলে ও শ্রমিক।
দস্যু আতঙ্কে অনিরাপদ সাগর
দুবলা চর ফিশারমেন গ্রুপের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রায় ১০০ বছর ধরে দুবলার চরে শুঁটকি উৎপাদন হয়ে আসছে। এখানকার শুঁটকির একটি ঐতিহ্যগত সুখ্যাতি রয়েছে দেশ-বিদেশে। এই পেশার সঙ্গে যারা জড়িত তারা প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে এবং লাভ-লোকসানের হিসাব মাথায় নিয়েই ব্যবসায় আসেন।
তবে বর্তমানে দস্যুদের তৎপরতার কারণে এই ব্যবসা অনেকটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেদের মধ্যে বিরাজ করছে আতঙ্ক। শুঁটকি মৌসুমকে কেন্দ্র করে নতুন নতুন দস্যু বাহিনী সংগঠিত হওয়ার খবর শোনা যাচ্ছে। গত মৌসুমে ব্যবসায়ীদের লাখ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হয়েছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে জেলেদের অপহরণ করে নির্যাতন করা হয়। পরে মুক্তিপণ দিয়ে তাদের ছাড়িয়ে আনতে হয়।
তিনি বলেন, দুবলার চরের শুঁটকি উৎপাদন শুধু কয়েকজন মহাজনের ব্যবসা নয়। এর সঙ্গে একটি বড় জেলে সম্প্রদায়ের জীবন-জীবিকা জড়িয়ে আছে। শুঁটকি মৌসুমে সরাসরি ১০ হাজারের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হয়। এ ছাড়া মাছ ধরা, পরিবহন, খাদ্য সরবরাহ, নৌযান মেরামত, শুঁটকি প্রক্রিয়া ও বাজারজাতকরণের সঙ্গে আরও কয়েক হাজার মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকেন।
কামাল উদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, দস্যুদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করা না গেলে এবারও বড় ধরনের লোকসানে পড়বেন ব্যবসায়ীরা। এতে অনেকে ব্যবসা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবেন। মৌসুমের শুরু থেকেই দস্যুদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালানোর জন্য এরই মধ্যে আমাদের ফিশারমেন গ্রুপের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, এসআরবি ও কোস্ট গার্ডের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। সাগরে নিরাপদে মৎস্য আহরণ ও জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য দাবি জানানো হয়েছে। আমা করি এবারের মৌসুম নিরাপদ হবে।
দেশের শুঁটকি উৎপাদনের বড় উৎস দুবলার চর
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দেশের মোট শুঁটকি উৎপাদনের প্রায় ৮০ শতাংশ আসে দুবলার চরকেন্দ্রিক শুঁটকি পল্লীগুলো থেকে। সুন্দরবনের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের কোলঘেঁষা শরণখোলা রেঞ্জের আওতাধীন মাঝের কিল্লা, আলোরকোল, নারকেলবাড়িয়া ও শ্যালার চরসহ এই চারটি শুঁটকি পল্লীতে প্রতিবছর শীত মৌসুমে চলে সামুদ্রিক মাছ আহরণ ও শুঁটকি তৈরির বিশাল কর্মযজ্ঞ।
মৌসুমের পাঁচ মাস কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, বাগেরহাট, পিরোজপুর, খুলনা ও সাতক্ষীরাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে জেলে ও বহদ্দাররা এখানে এসে অস্থায়ী বসতি গড়ে তোলেন। মাছ আহরণ থেকে শুরু করে শুঁটকি তৈরি ও বাজারজাত করা পর্যন্ত নানা কাজে যুক্ত থাকেন তারা।
বন বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, জেলেঘর, ডিপোঘর ও মাছ শুকানোর মাচা তৈরিতে সুন্দরবনের কোনো বনজসম্পদ ব্যবহার করা যাবে না। প্রয়োজনীয় সব নির্মাণসামগ্রী নিজ নিজ এলাকা থেকে নিয়ে যেতে হবে। ৩০ অক্টোবর থেকে শুঁটকি পল্লীতে ঘর তৈরির কাজ শুরু হওয়ার কথা। একই সঙ্গে সাগরে মাছ আহরণ এবং শুঁটকি তৈরির কার্যক্রমও শুরু হবে। আগামী বছরের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে এই মৌসুম।
রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি গতবার
পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, গত মৌসুমে বৈরী আবহাওয়া ও দুস্যুদের কারণে জেলেরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর প্রভাব পড়েছে শুঁটকি উৎপাদন ও রাজস্ব আয়ে। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দুবলার চরের চারটি শুঁটকি পল্লী থেকে আট কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু বৈরী আবহাওয়া ও দস্যুদের উৎপাতে জেলেরা নিয়মিত মাছ ধরতে না পারায় সেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি। নানা প্রতিকূলতার মধ্যে গতবার শুঁটকি উৎপাদন হয়েচিল ৫ হাজার ৪৩১ দশমিক ৭ টন। তা থেকে রাজস্ব আয় হয়েছিল সাত কোটি ৩৭ লাখ ২২ হাজার ৪৯৩ টাকা। চলতি মৌসুমে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে সাড়ে ৭ কোটি টাকা।
এসিএফ শরিফুল বলেন, এবার জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দস্যুতা দমনে বন বিভাগ, কোস্ট গার্ডসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে। জেলেরা যাতে নির্বিঘ্নে মাছ আহরণ করতে পারেন, সে জন্য সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কোস্ট গার্ডের ভাষ্য
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেছেন, আসন্ন শুঁটকি আহরণ মৌসুমকে কেন্দ্র করে মৎস্যজীবীদের সার্বিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। মৎস্যজীবীদের সার্বিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কোস্ট গার্ডের জাহাজ, বোট ও বিশেষ টহল দল সুন্দরবনের দুবলার চর, আলোরকোল, কটকা ও আশপাশের নদী ও চ্যানেলগুলোতে সার্বক্ষণিক টহল কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
বনদস্যুদের চাঁদাবাজি ও অপহরণ প্রতিরোধসহ জেলে-মহাজনদের নিরাপদে মাছ আহরণ ও ব্যবসা পরিচালনায় কোস্ট গার্ড সর্বদা সক্রিয় রয়েছে। এ ছাড়া, যেকোনো দস্যুতার ঘটনা বা নিরাপত্তাজনিত সমস্যায় দ্রুত সহায়তা পেতে কোস্ট গার্ড জরুরি সেবা নম্বর ১৬১১১-এ যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
