নিজস্ব প্রতিনিধি: জায়গা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ফেনী শহরের মধ্যম মধুপুরের বাসিন্দা রুহুল আমিন কারাগারে থাকা অবস্থায় তাঁর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করা হয়। একই এলাকার বাসিন্দা মো. রসুল আমিন বাদী হয়ে এ মামলা করেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে ফেনী পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মনির আহম্মদ বাচ্চুকে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সাল থেকে রুহুল আমিন ও আবু জাফরের যৌথ মালিকানাধীন ১০ শতাংশ জমি দখলের চেষ্টা করছেন মো. রসুল আমিন। এ নিয়ে আদালতে মামলাও চলছে। মামলা চলাকালে ২০২৫ সালের ৯ নভেম্বর করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৬ সালের ১৪ জানুয়ারি আদালত ওই জমির বিষয়ে স্থিতাবস্থা জারির আদেশ দেন। তবে চলতি বছরের ২৭ জুন আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে মো. রসুল আমিন পুনরায় জমিটি দখলের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। জমি দখলের খবর পেয়ে সেখানে যান রুহুল আমিনের দুই ছেলে রায়হান ও সাগর। তাঁরা বাধা দিতে গেলে রসুল আমিন ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের দিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন তাঁরা। তবে পরে চাঁদাবাজি ও হামলার অভিযোগ এনে উল্টো তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয় বলে দাবি পরিবারের।
রুহুল আমিন ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার দিন রুহুল আমিন রসুল আমিনের করা অন্য একটি মামলায় কারাগারে ছিলেন। পরিবারের দাবি, ২৭ জুনের ঘটনাকে ২৪ জুনের ঘটনা উল্লেখ করে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে গত ৩০ আগস্ট মামলাটি দায়ের করেন রসুল আমিন। মামলায় রুহুল আমিন ছাড়াও ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মনির আহম্মদ বাচ্চু এবং রুহুল আমিনের দুই ছেলে সাগর মিয়া ও রায়হানকে আসামি করা হয়।
পরিবারের দাবি, রুহুল আমিনকে ২৫ জুন গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। তাঁদের প্রশ্ন, ২৭ জুনের ঘটনায় ২৪ জুনের তারিখ উল্লেখ করে কীভাবে তাঁকে আসামি করা হলো? তাঁদের দাবি, সিসিটিভি ফুটেজেও ঘটনার তারিখ ২৭ জুন দেখা যায়।
এ ছাড়া মামলায় ৩১ জুলাইয়ের আরেকটি ঘটনার উল্লেখ রয়েছে। অভিযোগ করা হয়েছে, ওই দিন পাঁচটি মোটরসাইকেলে এসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করার পাশাপাশি দোকান ভাঙচুর করা হয়। এ সময় পিস্তল বের করে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
রুহুল আমিনের বড় ছেলে রায়হান জানান, ঘটনার সময় তাঁর বাবা কারাগারে ছিলেন। তাঁরা জমি দখলের খবর পেয়ে সেখানে বাধা দিতে গেলে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে তিনি দাবি করেন। এ ছাড়া ৩১ জুলাইয়ের ঘটনায় তাঁরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন না এবং তাঁরা মোটরসাইকেল চালাতেও পারেন না বলে দাবি করেন তিনি।
রায়হান আরও জানান, রসুল আমিন নিজেই স্বীকার করেছেন যে জমিটি তাঁদের। ৩০ বছর ধরে জমিটি তাঁদের দখলে রয়েছে বলে রসুল আমিন আদালতে উল্লেখ করে স্বাক্ষরও করেছেন বলে দাবি করেন তিনি। এরপরও কোনো রাজনৈতিক নেতার ছত্রচ্ছায়ায় তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের।
পরিবারের সদস্যরা আরও দাবি করেন, রসুল আমিন ও রুহুল আমিনের বাবা আলাদা হলেও তদন্ত প্রতিবেদনের মতামতে তাঁদের ভাই হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
রুহুল আমিনের ছোট ছেলে সাগর বলেন, ‘রসুল আমিন নিজেই স্বাক্ষর করে জানিয়েছেন, জমিটি ৩০ বছর ধরে আমাদের দখলে রয়েছে। এরপরও তিনি মামলা দিয়ে আমাদের অযথা হয়রানি করছেন। পাশাপাশি জমি দখলেরও চেষ্টা করছেন।’
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মো. রসুল আমিনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
The post কারাবন্দীর বিরুদ্ধে ফেনীর আদালতে চাঁদাবাজির মামলা appeared first on দৈনিক ফেনীর সময়.
