গাজীপুরের শ্রীপুরে স্বামীকে পাশের ঘরে আটকে রেখে এক পোশাকশ্রমিককে (২০) দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। গত সোমবার (১২ অক্টোবর) দিনগত রাতে উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের নয়নপুর হানু মার্কেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্তদের হুমকি-ধমকিতে দুদিন ঘরবন্দী থাকার পর বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাতে স্বজনদের সহায়তায় শ্রীপুর থানায় গিয়ে আইনের আশ্রয় নেন ভুক্তভোগী পরিবার।
শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার বাসিন্দা ওই নারী স্থানীয় ডিবিএল গ্রুপের একটি তৈরি পোশাক কারখানায় কর্মরত। তিনি ও তার স্বামী হানু মার্কেট এলাকার একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। জানা গেছে, সম্প্রতি এলাকায় চোরের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় তারা বাসা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন। সোমবার বাসার মালামাল সরানোর সময় স্থানীয় দুই যুবক- ফারুক ও নয়ন প্রথমে তার স্বামীকে ডেকে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে রাতে তারা অচেনা আরও দুজনকে সঙ্গে নিয়ে ঘরে প্রবেশ করে এবং পাওনা টাকার অজুহাতে স্বামীকে জোরপূর্বক পাশের একটি ঘরে আটকে রাখে।
ভুক্তভোগী নারী বলেন, দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হাত-পা বেঁধে তার ওপর চারজন মিলে পাশবিক নির্যাতন চালায়। এ ঘটনার পর অভিযুক্তরা বাড়ির আশপাশে পাহারা বসিয়ে তাদের নজরবন্দি করে রাখে এবং কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। ফলে দুই দিন ধরে তারা বের হতে পারেননি। পরবর্তীতে কৌশলে আত্মীয়স্বজনদের খবর পাঠালে স্বজনরা এসে তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগীর স্বামী বলেন, আমাকে পাশের ঘরে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। তারা বলছিল, আমার স্ত্রী টাকা আনতে গেছে। একেকজন একেক সময় এসে আমাকে নির্যাতন করে। স্ত্রীকে নির্যাতনের বিষয়টি আমাকে জানানো হয়নি। সবকিছু শেষ করে স্ত্রীর কাছে নিয়ে গেলে তার ওপর নির্যাতনের আলামত বুঝতে পারি। বিচার চাইতে বের হতে চাইলে প্রাণনাশের হুমকি দেয় তারা। ভয়ে বের হতে পারিনি। পরে আত্মীয়স্বজনের সহযোগিতা নিয়ে থানায় এসেছি। স্বামী হিসেবে কী চাইব, আপনারাই বলুন।
এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, ঘটনার বিস্তারিত জানার পরপরই শ্রীপুর থানা-পুলিশের পরিদর্শককে (তদন্ত) দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
