সবার আগে দেশের স্বার্থ প্রাধান্য দিয়ে সবার জন্য একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দেশের তরুণ ও যুবসমাজকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো দেশ বা সমাজকে এগিয়ে নিতে হলে তরুণ প্রজন্মের ভূমিকাই সবচেয়ে অগ্রগণ্য; দেশের প্রতিটি ঐতিহাসিক অর্জন ও বিজয়ের পেছনে রয়েছে যুবসমাজের আত্মত্যাগ।
শনিবার যুব ভলান্টিয়ার ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে আয়োজিত ‘ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর শাপলা হল থেকে সরাসরি আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসন, পুলিশ সুপার এবং শত শত তরুণ স্বেচ্ছাসেবী ভার্চুয়ালি সংযুক্ত ছিলেন।
বিজ্ঞাপন
তরুণদের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অলিম্পিকের পদক জয় থেকে শুরু করে হিমালয় জয় কিংবা উত্তাল মহাসাগর পাড়ি দেওয়া—সবখানেই তরুণদের অদম্য শক্তির প্রকাশ দেখা যায়। একইভাবে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে মাঠে নেমে সরাসরি যুদ্ধ করা কিংবা ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানকে সফল করার মূল কারিগর ছিল এ দেশের নির্ভীক যুবসমাজ।
যুব উদ্ভাবকদের উৎসাহিত করতে সরকারের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, তরুণদের উদ্ভাবনী উদ্যোগ ও স্টার্টআপকে এগিয়ে নিতে প্রাথমিকভাবে ৫০০ কোটি টাকার ‘স্টার্টআপ ফান্ড’ গঠন করা হয়েছে। তরুণদের কার্যকর আবিষ্কার ও সামাজিক উদ্যোগ মানুষের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেললে ভবিষ্যতে এ তহবিলের বরাদ্দ আরো বাড়ানো হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
তিনি আরো উল্লেখ করেন, সরকারের মূল লক্ষ্য হলো মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা। তরুণ সমাজের লক্ষ্য এবং সরকারের উদ্দেশ্যের মধ্যে কোনো মৌলিক ব্যবধান নেই। দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষা করলেই কেবল ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’ বিনির্মাণ সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত তরুণ ভলান্টিয়ার ও সংগঠনগুলোকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান তিনি। একই সঙ্গে সমাজসেবা ও জাতি গঠনে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ চালিয়ে যাওয়ার তাগিদ দেন।
