Published on
:
2 min read
এই সময়: ট্রেনের কামরায় অপরিচ্ছন্নতা, শৌচাগারের দুরবস্থা কিংবা বিছানার চাদর পেতে দেরি—অভিযোগ জানালে এ বার দু’ঘণ্টার মধ্যেই সমস্যার সমাধানের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে রেল। পরিচ্ছন্নতা ও যাত্রীস্বাচ্ছন্দ্য বাড়াতে পরীক্ষামূলক ভাবে পাঁচটি সুপারফাস্ট ট্রেনে প্রযুক্তিনির্ভর অনবোর্ড পরিষেবা চালু করেছে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল। এর মধ্যে রয়েছে দু’টি বন্দে ভারত এক্সপ্রেস এবং তিনটি দূরপাল্লার ট্রেন। সম্প্রতি রেলের তরফে এই উদ্যোগের কথা জানানো হয়েছে। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জল কিশোর শর্মা জানিয়েছেন, এই ব্যবস্থায় পরিষেবার মান যাচাইয়ে ব্যবহার করা হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই।
নতুন পরিষেবা চালু হয়েছে কামাখ্যা–এসএমভিটি বেঙ্গালুরু এক্সপ্রেস, গুয়াহাটি–কলকাতা গরিব রথ এক্সপ্রেস, ডিব্রুগড়–মুম্বই এলটিটি এক্সপ্রেস, নিউ জলপাইগুড়ি–পাটনা বন্দে ভারত এক্সপ্রেস এবং নিউ জলপাইগুড়ি–গুয়াহাটি বন্দে ভারত এক্সপ্রেসে। রেল জানাচ্ছে, গুয়াহাটি–কলকাতা গরিব রথে ১০ অক্টোবর এবং ডিব্রুগড়–মুম্বই এলটিটি এক্সপ্রেসে ১১ অক্টোবর থেকে এই পরিষেবা চালু হয়েছে। বাকি তিনটি ট্রেনে ১৪ অক্টোবর থেকে ব্যবস্থা কার্যকর হয়েছে। ওই দিন নিউ জলপাইগুড়ি থেকে চলা দুই বন্দে ভারতে উপস্থিত ছিলেন রেলের পদস্থ আধিকারিকেরা। কামাখ্যা–বেঙ্গালুরু এক্সপ্রেসেও যাত্রা শুরুর স্টেশন কামাখ্যা থেকেই নতুন পরিষেবা মিলছে।
যাত্রাপথে নিয়মিত কামরা পরিষ্কার, শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কামরার জানলা পরিষ্কার রাখা, শৌচাগারের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং বর্জ্য দ্রুত সরানোর দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হবে নতুন ব্যবস্থায়। যাত্রীদের বিছানার চাদর ও অন্য শয্যাসামগ্রী সময়মতো দেওয়া এবং ব্যবহারের পরে সংগ্রহ করাও পরিষেবার অন্তর্ভুক্ত। পাশাপাশি, জল সরবরাহ ঠিক রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করবেন নির্দিষ্ট কর্মীরা। প্রয়োজন হলে তাঁরা প্রাথমিক প্রযুক্তিগত সহায়তাও দেবেন।
অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তির জন্যেও নির্দিষ্ট কর্মীদল থাকবে। অভিযোগ পাওয়ার পরে দু’ঘণ্টার মধ্যে তার সমাধান করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমস্যার সুরাহা না হলে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট রেল কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। অভিযোগের প্রতিটি ধাপের ডিজিটাল নথি নিয়মিত সংরক্ষণ করা হবে।
পরিষেবার কাজে নজরদারিতে থাকছে ডিজিটাল ব্যবস্থা। কোথায়, কখন পরিষেবা দেওয়া হলো—তা জিও-ট্যাগের মাধ্যমে যাচাই করা হবে। কর্মীদের গতিবিধি অনুসরণ এবং অনবোর্ড পরিচ্ছন্নতার কাজ কেন্দ্রীয় ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। যাত্রীরা সরাসরি মতামত জানাতে পারবেন। তাঁদের দেওয়া ফিডব্যাক ও স্টার রেটিং দিয়ে পরিষেবার মান বিচার করা হবে। এআই-ভিত্তিক পরিচ্ছন্নতা মূল্যায়নে কোথায় ঘাটতি রয়েছে, তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় উন্নতির ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শর্মা।
রেল–আধিকারিকদের দাবি, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, নিয়মিত পরিষ্কার এবং দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তি—এই তিনের সমন্বয়ে পাঁচটি ট্রেনে যাত্রার অভিজ্ঞতা আরও স্বস্তিদায়ক হবে। চালু হওয়া এই উদ্যোগে পরিচ্ছন্নতার মান কতটা বাড়ে, তা নজরে থাকবে যাত্রীদেরও।
