সংবাদ · সাধারণ
সাফল্যের গল্প : ১,৫০০ টাকার চাকরি থেকে লাখ টাকার খামার
২০/১০/২০২৬

সংসারে অভাব ছিল নিত্যদিনের সঙ্গী। স্বামী ছিলেন সামান্য দিনমজুর। অল্প আয় দিয়ে দুই সন্তানসহ চারজনের সংসারের খরচ সামলানো ছিল তীব্র কঠিন এক চ্যালেঞ্জ। কিন্তু অভাবের কাছে হার মানেননি সালমা বেগম। বরং নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর পথ বেছে নেন তিনি। গৃহপালিত হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল পালন এবং কায়িক কৃষিকাজ করে আজ তিনি ভোলার এক সফল নারী উদ্যোক্তা।সালমা বেগমের বয়স এখন ৩৩ বছর। বসবাস করেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার শশীভূষণ থানার হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে। ২০০৭ সালে এসএসসি পাস করার পরপরই বিয়ে হয় তার। বিয়ের পর থেকেই সংসারের টানাপোড়েন খুব কাছ থেকে দেখেছেন। স্বামীর স্বল্প আয়ে সংসার না চলায় শেষমেশ নিজে কর্মজীবনে পা রাখার সিদ্ধান্ত নেন। মাত্র ১ হাজার ৫০০ টাকা মাসিক বেতনে পুষ্টি মাঠকর্মী হিসেবে চাকরি নেন তিনি। পাশাপাশি রাতে বাড়িতে ছোট শিশুদের পড়াতেন। কঠোর পরিশ্রমের সেই আয় থেকে সংসারের খরচ চালিয়ে অল্প অল্প করে টাকা জমাতে শুরু করেন।সালমার জীবনের মোড় ঘুরতে শুরু করে ২০১২ সালে। জমানো অল্প কিছু টাকা দিয়ে মাত্র ৫ থেকে ১০টি হাঁস-মুরগি নিয়ে ছোট পরিসরে পালন শুরু করেন তিনি। সেখান থেকে অর্জিত লাভের টাকা তুলে না নিয়ে পুনরায় খামার সম্প্রসারণে বিনিয়োগ করতে থাকেন। একসময় হাঁস-মুরগির পাশাপাশি গরু ও ছাগল পালন শুরু করেন। আজ তার খামারে রয়েছে প্রায় ৩৫টি হাঁস, ২৫টি মুরগি, ৭টি গরু এবং ১১টি ছাগল। শুধু গবাদিপশু-পাখি পালনেই থেমে থাকেননি, বাড়ির আঙিনায় শাকসবজি চাষের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ফসল উৎপাদন করছেন।বর্তমানে প্রতিবছর প্রায় আড়াই লাখ টাকার হাঁস-মুরগি বিক্রি করেন সালমা। এ পর্যন্ত প্রায় ৩ লাখ টাকার ছাগল এবং ৭ লাখ টাকার গরু বিক্রি করেছেন তিনি। কেবল গত বছরই প্রায় ২৫০টি হাঁস বিক্রি করে তার আয় হয়েছে ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।সালমার খামার এখন শুধু আয়ের উৎস নয়, এটি তার স্বাবলম্বিতা ও আত্মবিশ্বাসের প্রতীক। পশুপাখির যত্ন নেওয়া, খাবার দেওয়া থেকে শুরু করে বিক্রির জন্য বাজারে পাঠাল–সবকাজেই তার সরাসরি অংশগ্রহণ রয়েছে। নিজের ও স্বামীর কষ্টার্জিত আয় সঞ্চয় করে ইতোমধ্যে ১৬০ শতক (প্রায় এক কানি) জমি কিনেছেন তিনি। সেই সঙ্গে প্রায় ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ে তৈরি করেছেন পাকা বসতঘর।নিজের এই সাফল্য প্রসঙ্গে সালমা বেগম বলেন, 'ইচ্ছা থাকলে অল্প পুঁজি দিয়েই কাজ শুরু করা যায়। শুরুটা ছোট হলেও পরিশ্রম আর ধৈর্য থাকলে একদিন সেটাই বিশাল হয়ে ওঠে।'ভবিষ্যতে নিজের খামারকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার। জীবনের এত কঠিন পথ পেরিয়ে নিজের পায়ে দাঁড়ানো সালমার এখন সবচেয়ে বড় স্বপ্ন সন্তানদের ঘিরে–পড়াশোনা শেষ করে সন্তানরা যেন সৎ ও ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে। জমানো সামান্য টাকা আর অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোর যে একটি পুরো পরিবারের ভাগ্য বদলে দিতে পারে, সালমার জীবনসংগ্রাম তারই বাস্তব দলিল।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗