বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা এখন দারুণ ব্যস্ত। সারা বছর শুধু অনুশীলনেই কাটে না, আজ এখানে, কাল সেখানে, পরশু অন্য কোনো দেশে। আজ টেস্ট, কাল ওয়ানডে আবার কখনো টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলেই ব্যস্ত সময় কাটছে টাইগারদের। এর বাইরে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপেও কাটছে সময়।
এই তো সেদিন আরব আমিরাতের মাটিতে আফগানিস্তানের সঙ্গে নিশ্চিত জয় হাতছাড়া করলো নাজমুল হোসেন শান্তর দল। জেতার সম্ভাবনা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত ড্র হলো টেস্ট। সেই টেস্টের রেশ না কাটতেই আজ ১৭ অক্টোবর আরব আমিরাতের মাটিতেই শুরু হচ্ছে তিন জাতি ক্রিকেট, যেখানে বাংলাদেশের সঙ্গে আছে প্রায় সমশক্তির আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ে।
বিজ্ঞাপন
মাঝে ২০২৩ এর ওয়ানডে বিশ্বকাপ, এক বছর পর ২০২৪ এর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, এশিয়া কাপ এগুলো মিলে সাদা বলেও ব্যস্ত সময় কেটেছে টাইগারদের। এর বাইরে দ্বিপাক্ষিক পূর্ণ সিরিজ, পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে সিরিজ, আইসিসির প্রোগ্রাম শিডিউলের মধ্যে এফটিপির আওতায় টেস্ট, ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি সিরিজ তো রয়েছেই। সব মিলিয়ে খেলা নানা খেলায় ব্যতিব্যস্ত লিটন দাস, নাজমুল শান্ত, তানজিদ তামিম, তাওহিদ হৃদয়, মুশফিকুর রহিম, তাসকিন, মোস্তাফিজ, নাহিদ রানা, হাসান মাহমুদ গংরা।
আজ শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আরব আমিরাতে টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামবে লিটন দাসের দল। এই টুর্নামেন্টের আগে বাংলাদেশ শেষ কবে একটি তিন জাতি ওয়ানডে টুর্নামেন্ট খেলেছিল তা নিয়ে রাজ্যের কৌতূহল ক্রিকেট অনুরাগীদের। ইতিহাস জানাচ্ছে, আজ থেকে যে তিন জাতি ওয়ানডে টুর্নামেন্ট শুরু হবে। এই টুর্নামেন্টের আগে ২০১৯ সালের বিশ্বকাপকে সামনে রেখে যুক্তরাজ্যের অন্তর্গত আয়ারল্যান্ডে একটি তিন জাতি ক্রিকেট টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েছিল বাংলাদেশ। সেই টুর্নামেন্টে স্বাগতিক আয়ারল্যান্ডের পাশাপাশি ওয়েস্ট ইন্ডিজও ছিল টাইগারদের প্রতিপক্ষ। এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়েই সেই টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ।
বিজ্ঞাপন
দেশের মাটিতে তারও এক বছর আগে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ আরও একটি তিন জাতি ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিল। সেখানে ছিল শ্রীলঙ্কা এবং আজকের ম্যাচের প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে। সেই টুর্নামেন্টে অবশ্য বাংলাদেশ শেষ হাসি হাসতে পারেনি। ফাইনালে গিয়ে শ্রীলঙ্কার কাছে পরাজিত হয়ে রানার্সআপ হয়ে তুষ্ট থাকতে হয়েছে মাশরাফি বিন মোর্ত্তাজার দলকে। মোদ্দা কথা, দেশের বাইরে ৭ বছর পর এবং দেশের মাটিতে খেলা শেষ তিন জাতির ৮ বছর পর বাংলাদেশ আজ আবারও তিন জাতি ক্রিকেটে অংশ নিতে যাচ্ছে আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ের সঙ্গে।
জিম্বাবুয়ের সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে টাইগারদের ওয়ানডে সিরিজের ফল মোটেও সুখকর নয়। ইতিহাস জানাচ্ছে, জিম্বাবুয়ের সঙ্গে আগে ফলাফল যতই ভালো হোক না কেন! চলতি বছর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ২-১ এ হেরেছিল বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে ২৫ রানে জিতেছিল জিম্বাবুইয়ানরা, পরের খেলায় ১৩ রানে জিতে সিরিজ নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা। শেষ ম্যাচে সান্ত্বনার ৭ উইকেটে জয় তুলে নিয়েছিল বাংলাদেশ।
এখন দেখার বিষয়, এই তো গত জুলাই মাসে জিম্বাবুয়ের সঙ্গে জিম্বাবুয়ের মাটিতে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ২-১ এ হার মানা লিটন দাসের দল আজ তিন মাস পর আবার সেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন জাতি ওয়ানডে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে কী করে। একটা প্লাস পয়েন্ট বাংলাদেশের আছে। জিম্বাবুয়ের হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে বাংলাদেশ জিম্বাবুয়ের কাছে হেরেছিল মূলত জিম্বাবুইয়ান বোলারদের তোপের মুখে। ব্র্যাড ইভান্স এবং মাসাকু চিভাঙ্গা প্রমুখ ফাস্ট বোলারদের বিপক্ষে যথেষ্ট ঘাম ঝরাতে হয়েছে টাইগার বোলারদের। এটাই ছিল জিম্বাবুয়ের সঙ্গে না পারার কারণ। এবং সেই সিরিজে জিম্বাবুইয়ান ফাস্ট বোলারদের বাড়তি গতি ও হারারে স্পোর্টস ক্লাবের বাড়তি বাউন্সের কাছে হার মানতে হয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের।
বিজ্ঞাপন
আরব আমিরাতের যেকোনো পিচে সেই বাড়তি বাউন্স এবং সজীব প্রাণবন্ত উইকেট হবার সম্ভাবনা কম। তার বদলে তুলনামূলক মন্থর এবং ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে খেলা হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। মোদ্দা কথা, পেসারদের রুদ্রমূর্তি ধরার ক্ষেত্র হয়তো থাকবে না আরব আমিরাতে। এই ম্যাচে বা আজকের ম্যাচে সেটাই হতে পারে বাংলাদেশের প্লাস পয়েন্ট। যদিও অনেকেই প্রশ্ন তুলতে পারেন, বাংলাদেশের পেস ডিপার্টমেন্টও তো যথেষ্ট সমৃদ্ধ। কাজেই জিম্বাবুইয়ানদের ভয় পাবার কী আছে? ভুলে গেলে চলবে না, বাংলাদেশ জিম্বাবুয়ের সঙ্গে গত জুলাইতে তাসকিন, শরিফুল, নাহিদ রানা, মেহেদী হাসান মিরাজ, রিশাদ হোসেন, মোসাদ্দেক হোসেনের গড়া বোলিং লাইনআপ নিয়েও ২-১ এ হেরেছিল।
অর্থাৎ বাংলাদেশের পেসারদের চাইতে হারারে স্পোর্টস ক্লাবের বাড়তি গতি, সজীব এবং বাড়তি বাউন্সের পিচে জিম্বাবুইয়ান ফাস্ট বোলাররাই বেশি প্রাধান্য দেখিয়েছে এবং তাদের বোলিংয়ের বিপক্ষেই বাংলাদেশের মুজারাবানি একাই বাংলাদেশের প্রায় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। কাজে কাজেই আজ আরব আমিরাতের পিচে সেই মুজারাবানিরা হয়তোবা জেকে নাও বসতে পারেন। সেখানে বাংলাদেশের পেসার এবং স্পিনারদের সাজানো বোলিংটাই হয়তো পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। এখন দেখা যাক, তিন জাতি ক্রিকেটে ৭ বছর পর খেলতে নেমে বাংলাদেশ দল কেমন করে, শুরুটা কেমন হয়।
এআরবি/আইএন
ফলো করুন
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন jagofeature@gmail.com ঠিকানায়।
