কর্মসূচিগ্রাফিক্স: অমিত কুমার ঘোষ
Published on
:
2 min read
হাওড়ার উলুবেড়িয়া, বাগনান ও আমতা এলাকার বিস্তীর্ণ জলাভূমি মেছোবিড়াল বা বাঘরোলের গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল। পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য প্রাণী এই বাঘরোল এখন নানা সমস্যার মুখে। কোথাও জলাভূমি ভরাট হয়ে যাচ্ছে, কোথাও আবার রাস্তা পার হতে গিয়ে গাড়ির ধাক্কায় মৃত্যু হচ্ছে তাদের। কখনও হাঁস বা ছাগল শিকারের অভিযোগে, আবার কখনও চিতাবাঘ ভেবে ভুল করে বাঘরোলকে মেরে ফেলার ঘটনাও ঘটছে। এই পরিস্থিতিতে বাঘরোল ও তার আবাসস্থল রক্ষায় বিশেষ উদ্যোগ নিল দুই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। তাদের উদ্যোগের নাম ‘বাঘরোল বন্ধু’।
ওয়াইল্ডলাইফ এনভায়রনমেন্ট সেভিয়ার ট্রাস্ট এবং ওয়ান ওয়াইল্ড ইন্ডিয়া কালেক্টিভের উদ্যোগে শুরু হয়েছে এই কর্মসূচি। লক্ষ্য একটাই, জলাভূমির গুরুত্ব বোঝানো এবং বাঘরোল সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো। আর সেই কাজ শুরু হয়েছে স্কুলের পড়ুয়াদের দিয়ে। কারণ, ছোটবেলা থেকেই বন্যপ্রাণী সম্পর্কে সঠিক ধারণা তৈরি হলে আগামী দিনে তাদের রক্ষা করার আগ্রহও বাড়বে।
প্রথম পর্যায়ে হাওড়ার বাগনান ও আমতা এলাকার চারটি স্কুলকে বেছে নেওয়া হয়। স্কুলগুলির আশপাশের গ্রামগুলিতে বাঘরোলের ভালো উপস্থিতি রয়েছে। সেই কারণেই এই স্কুলগুলিকে কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে বলে জানায় উক্ত সংস্থা। স্কুলগুলি হলো ভূঁয়েড়া বি.এন.এস হাইস্কুল, বাঙালপুর ইউ.সি হাইস্কুল, মুগকল্যান হাইস্কুল এবং তাজপুর এম.এন. রায় ইনস্টিটিউশন।
এই স্কুলগুলিতে পড়ুয়াদের জলাভূমি ও বাঘরোল সম্পর্কে নানা তথ্য জানানো হয়। দেখানো হয় ছবি ও ভিডিয়ো। কী ভাবে বাঘরোল জলাভূমির পরিবেশের সঙ্গে যুক্ত, কেন এই প্রাণীকে রক্ষা করা জরুরি, সেই বিষয়গুলিও তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি, পড়ুয়াদের মধ্যে তাৎক্ষণিক বক্তৃতা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এর মাধ্যমে পড়ুয়ারা নিজেদের মতো করে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের গুরুত্ব বোঝার এবং তা অন্যদের সামনে তুলে ধরার সুযোগ পায়।
সম্প্রতি শেষ হয়েছে ‘বাঘরোল বন্ধু’ কর্মসূচির প্রথম পর্যায়ের কাজ। সেই উপলক্ষে বাঙালপুর মহিলা বিকাশ কেন্দ্রের কনফারেন্স হলে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে চারটি স্কুলের সফল প্রতিযোগীদের পুরস্কার দেওয়া হয়। পাশাপাশি, জলাভূমি ও বাঘরোলকে কেন্দ্র করে একটি চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বন্যপ্রাণী সংরক্ষণকারী ও লেখিকা ঐশিমায়া সেন নাগ, উলুবেড়িয়ার এসডিপিও ঈশান সিনহা, ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ফান্ডের সিনিয়র এডুকেশন অফিসার সম্রাট চক্রবর্তী, বন্যপ্রাণ সংরক্ষণকারী শুভজিৎ মাইতি এবং হাওড়া বন বিভাগের প্রাক্তন ডেপুটি রেঞ্জার উত্তম মণ্ডল-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
এই অনুষ্ঠানে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়। হাওড়া জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ঝুঁকি নিয়ে বিপদগ্রস্ত বন্যপ্রাণী উদ্ধারের কাজ করেন বনকর্মীরা। তাঁদের সেই কাজকে স্বীকৃতি জানাতে হাওড়া বন বিভাগের ১০ জন বনকর্মীকে সম্বর্ধনা দেওয়া হয়। বন্যপ্রাণী রক্ষায় তাঁদের ভূমিকার কথাও তুলে ধরা হয়।
ওয়াইল্ডলাইফ এনভায়রনমেন্ট সেভিয়ার ট্রাস্টের সভাপতি চিত্রক প্রামাণিক জানান, ‘বাঘরোল বন্ধু প্রজেক্টের প্রথম পর্যায়ে আমরা চারটি স্কুলের কয়েক হাজার ছাত্রছাত্রীর মধ্যে সচেতনতা ছড়াতে পেরেছি। জলাভূমি ও মেছোবিড়াল রক্ষার বার্তা তাদের কাছে পৌঁছে দিতে পেরেছি।’
