খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেছেন, লালন সাঁই শুধু একজন বাউল সাধক নন, তিনি মানবতারও সাধক। তিনি অসাম্প্রদায়িক চেতনার পথপ্রদর্শক এবং মানবতার কণ্ঠস্বর। তার দর্শনের কেন্দ্রে ছিল মানুষ—মানুষের মর্যাদা এবং মানুষের প্রতি ভালোবাসা। লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে শনিবার বিকালে মানিকগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। খাদ্যমন্ত্রী বলেন, লালন ধর্ম-বর্ণ ও পরিচয়ের ভেদাভেদ ভুলে মানুষের মনের কথা বলেছেন। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন, মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় তার মনুষ্যত্ব। বর্তমান সময়ে লালনের এই দর্শন আরও বেশি প্রয়োজনীয় ও প্রাসঙ্গিক।
তিনি আরও বলেন, গত ১৭ বছরে মানুষের মধ্যে হিংসা-বিদ্বেষ বেড়ে গেছে। একজন আরেকজনের প্রতি যে ভালোবাসা, তা-ও যেন আজ বিলুপ্তপ্রায়। আমরা সেই অন্ধকার জায়গা থেকে ফিরে আসতে চাই। রিতা বলেন, আজ লালন শাহের সেই চেতনাকে ধারণ করেই প্রধানমন্ত্রী আমাদের মাঝে এই বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছেন। আমরা এমন একটি সমাজ চাই, যেখানে পরিচয়ের কারণে কেউ অবহেলিত হবে না, ধর্মের কারণে কেউ বৈষম্যের শিকার হবে না। ঘৃণা নয়—ভালোবাসাই হবে মানুষের সম্পর্কের ভিত্তি। মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় এবং জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবার এই লালন স্মরণের অনুষ্ঠান আয়োজন সম্ভব হয়েছে, যাতে লালন সাঁইয়ের মানবতাবাদী বাণী গ্রামের প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়া যায়।
শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আজ এখানে যে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা এসেছে, তারা যখন শৈশব থেকেই এই মানবতার গান শুনবে, ভালোবাসার কথা শুনবে এবং হিংসা-বিদ্বেষ থেকে দূরে থাকার শিক্ষা পাবে, তখন তাদের ভেতরে একজন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে উঠার চেতনা জাগ্রত হবে। অভিভাবক হিসেবে আমরা চাই, আমাদের সন্তানেরা পড়ালেখার পাশাপাশি একজন মানবিক ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠুক। সেই ভালো মানুষ তৈরির প্রয়াসেই মূলত আজকের এই আয়োজন। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং জেলা শিল্পকলা একাডেমির সহযোগিতায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা এবং পুলিশ সুপার সারওয়ার আলম।
