রাজধানীর মোহাম্মদপুরে চাঁদার টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে প্রকাশ্যে রাস্তার ওপর ফেলে বাবাকে গুলি ও ছেলেকে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডের অদূরে ময়ূরভিলার সামনে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন—মো. সুমন (৪৫) এবং তার ছেলে ফাহিম (১৮)। আহত দু'জনই ভ্যানে করে ফুটপাতে আলু-পেঁয়াজ বিক্রি করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, সুমন ও তার ছেলে দুজনে মিলে প্রতিদিনের ন্যায় ময়ূরভিলার সামনে আলু-পেঁয়াজ বিক্রি করছিলেন। হঠাৎ রাত সাড়ে আটটার দিকে ছয় থেকে সাতজন দুর্বৃত্ত এসে সুমনের পায়ে গুলি করে এবং তার ছেলে ফাহিমকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। পরে আহত অবস্থায় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। আশেপাশের ব্যবসায়ীদের দাবি, ফুটপাতে ব্যবসা করার জন্য একটি মহলকে নির্দিষ্ট চাঁদার টাকা দিতে হয়। কিন্তু কিছুদিন ধরেই এই চাঁদার টাকা বাড়িয়ে দেয়ার জন্য জোরাজোরি করছিল সংশ্লিষ্ঠরা। সেই বাড়তি চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে এ নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এরই জেরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। ব্যবসায়ের বলেন, ফুটপাতের এই চাঁদাবাজির নেপথ্যে রয়েছেন বাদল শরীফ ওরফে কাইল্যা বাদল নামে এক ব্যক্তি। তিনি শ্রমিক দলের পরিচয় ব্যবহার করে স্থানীয় ফুটপাত নিয়ন্ত্রণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড এলাকা থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে বাদল গ্রেপ্তারের পর তার অনুসারীরা ফুটপাতের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছেন।
এদিকে ঢামেকে চিকিৎসা নেয়া আহত মো. ফাহিম বলেন, রাতে কাঁচামালের দোকানে বসা ছিলাম এ সময় মুখ ও মাথায় মাস্ক, রুমাল ও ক্যাপ পরা ছয়জন দুর্বৃত্ত অতর্কিত হামলা চালায়। আমি নিজেকে বাঁচাতে দৌড় দিলে হামলাকারীরা আমার পেটের ডান পাশে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। পরে আমার বাবা দূর থেকে দেখতে পেয়ে দৌড়ে এসে আমাকে বাঁচানোর চেষ্টা করে এবং হামলাকারীদের একজনকে জাপটে ধরেন। এ সময় দুর্বৃত্তরা আমার বাবা সুমন আলীকে বাম পায়ের হাঁটুর নিচে গুলি করে। হামলাকারীরা ‘সাজ্জাদ গ্রুপ ’এর সদস্য। তাদের ছয়জনের মধ্যে মুন্না (২৬), রাব্বি (২৬) ও মনির হোসেন নামে কয়েকজনকে চিনতে পেরেছি। গত মাসে একইভাবে ফরহাদ নামের আমার এক মামাকেও তারা খুন করে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. হাবিবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে বাবা-ছেলে গুলি ছুরিকাঘাতে ঢাকা মেডিকেলে এসেছে। আহত দুজনেই বর্তমানে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
