নব্বইয়ের দশকে পর্দায় করিশ্মা কপূরের ‘ক্যারিশ্মা’ দেখার জন্য মুখিয়ে থাকতেন দর্শক। অভিনয়ের গুণে আর সৌন্দর্যে একটা সময়ে তিনি মাতিয়ে রেখেছিলেন গোটা একটা প্রজন্মকে। বয়স ধরে রাখা সহজ নয়। কিন্তু করিশ্মা যে সে ক্ষেত্রে সফল, ৫২ বছর বয়সেও নায়িকার ছিপছিপে নির্মেদ চেহারা আর টানটান ত্বক তার প্রমাণ। কম বয়সের উচ্ছলতা শুধু তাঁর মনে নয়, চেহারাতেও সমান ভাবে রয়েছে। সম্প্রতি ‘কফি উইথ কর্ণ’-এর প্রিমিয়ারে এসে তিনি যে ভাবে নজর কাড়লেন, তা নিয়ে চর্চা তুঙ্গে। কী ভাবে এই বয়সেও এত ফিট, এত তারুণ্য তাঁর চেহারায়?
সম্প্রতি এই প্রশ্নের উত্তর দিলেন করিশ্মার পুষ্টিবিদ রুজুতা দিবেকর। ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্টে রুজুতা বলেন, ‘‘করিশ্মাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলবেন, তিনি শুধুই দই-ভাত খান, আলাদা করে কিছুই করেন না ফিটনেসের জন্য। তবে আমি বলব করিশ্মার আসল ফিটনেসের রহস্য লুকিয়ে আছে ৩০ বছর থেকেই শুরু করা অভ্যাসে।’’
রুজুতা জানাচ্ছেন, ২০ বছর বয়সে ফিট থাকাটা সহজ। কিন্তু ৩০ পেরোলেই খেলা ঘুরে যায়। পুষ্টিবিদ বলেন, ‘‘৩২, ৩৩, ৩৪ বছর পর্যন্ত আমরা কিছুই বুঝতে পারি না। কিন্তু ৩৬ থেকে ৩৮-এর মধ্যেই পরিবর্তন শুরু হয় মহিলাদের শরীরে। এই সময় দুটো জিনিস হয়। ভাল বিষয়টা হল, এই বয়সে মহিলাদের বোন মিনারেল ডেনসিটি বা হাড়ের ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি থাকে। আর খারাপ বিষয় হল, এই বয়সেই শরীরে হরমোনের পরিবর্তন শুরু হয়। প্রজেস্টেরন কমতে থাকে, ইস্ট্রোজেন বাড়তে থাকে। আর সেই কারণেই কোমরের মাপ বেড়ে যায়, পেট বেরিয়ে আসে, চুল ঝরে যায়, ত্বকের জেল্লা চলে যায়, ঋতুচক্রে গোলমাল শুরু হয়।’’
৩০ বছর থেকে কী ভাবে নিজের শরীরের যত্ন নিয়েছেন করিশ্মা?
রুজুতা বলছেন, ৪০, ৫০, ৬০ বছর বয়সেও যে মহিলারা ফিট থাকেন, তাঁরা কিন্তু ৩০-এর পর থেকেই সতর্ক হতে শুরু করেন। করিশ্মাও তাই করেছেন। কোন কোন বিষয়ে নজর রেখেছেন করিনা?
১. ওজন কমানোর কথা ভুলে যান, ব্যায়াম করুন
সপ্তাহে অন্তত ৩ ঘণ্টা শারীরচর্চা করুন। রুজুতার মতে, এতে হাড়ের ঘনত্ব ভাল থাকবে এবং যৌবনকে দীর্ঘদিন ধরে রাখতে পারবেন।
২. ডায়েট নিয়ে ছেলেখেলা করবেন না
এই বয়সে ডায়েট নিয়ে সতর্ক থাকতে বলছেন পুষ্টিবিদ। এই সময়ে হঠাৎ করে নিজের ইচ্ছেতে ভাত-রুটি ছেড়ে দিলে, চিনি ছেড়ে দিলে, রাতের খাবার বন্ধ করলে, উপকারের থেকে বেশি অপকারই হবে। রুজুতা বলেন, ‘‘৩০ বছর বয়সে যদি খাওয়ার আনন্দটাই চলে যায়, তাহলে জীবন থেকেই সব আনন্দ চলে যাবে। শরীরে ভিটামিন ডি, বি১২, আয়রন, ক্যালশিয়ামের ঘাটতি হবে। আর এই হরমোনাল পরিবর্তনের সময়টা আরও কঠিন হয়ে যাবে। তাই সব খান, তবে পরিমিত খান।’’
রুজুতার কথায় করিশ্মার ফিটনেসের আসল রহস্য কোনও ম্যাজিক ডায়েট নয়, ৩০ থেকেই শরীরের কথা শুনে চলা আর ধারাবাহিকতা বজায় রাখা।
