সোভিমার নাগাল্যান্ড ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সোমবার এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হলেন দর্শকরা। রঞ্জি ট্রফিতে মিজোরামের বিপক্ষে নাগাল্যান্ডের ম্যাচটিতে ঘটে গেল এক অবিশ্বাস্য ঘটনা, যা ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটে ৭৮ বছরের খরা কাটিয়ে উপহার দিল এক নতুন ইতিহাস। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে এক ব্যাটারের চার শ রান করার দীর্ঘ অপেক্ষা ফুরোলো এই ম্যাচে।
ম্যাচ চলাকালীন কিংবা তার আগে এর বিশালতা বুঝতে পারেননি কেউ, এমনকি এই কীর্মমানের রূপকার চিন্ময় সুতার নিজেও শুরুতে ছিলেন এ বিষয়ে পুরোপুরি অজ্ঞ। মুম্বাইয়ের এই উনত্রিশ বছর বয়সী ব্যাটার ৫১৭ বলের এক ম্যারাথন ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন ৪০০ রানে। দল যখন ৯ উইকেটে ৫৮১ রান সংগ্রহ করে ইনিংস ঘোষণা করে, তখনই তিনি তার এই বিরাট অর্জনের কথা জানতে পারেন।
এই দুর্দান্ত ইনিংসের সুবাদে চিন্ময় সুতার নাম লিখিয়েছেন বিশ্বজুড়ে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে কুড়িও শ বা কোয়াড্রপল সেঞ্চুরি করা ১০ জন অভিজাত ক্রিকেটারের তালিকায়। ১৯৪৮-৪৯ মৌসুমে পুনেতে কাথিওয়ারের বিপক্ষে মহারাষ্ট্রের হয়ে ভাউসাহেব নিম্বালকারের অপরাজিত ৪৪৩ রানের ঐতিহাসিক রেকর্ডের পাশে এখন উজ্জ্বল তার নাম। অথচ এটি ছিল তার ক্যারিয়ারের মাত্র দ্বিতীয় প্রথম শ্রেণীর ম্যাচ, কারণ গত সপ্তাহে মনিপুরের বিপক্ষে মৌসুমের উদ্বোধনী ম্যাচেই তার অভিষেক হয়েছিল।
মুম্বাইয়ের থানেতে জন্ম নিলেও চিন্ময় তার জীবনের পুরোটা সময় কাটিয়েছেন পালঘর জেলার চিনচানি নামক এক ছোট গ্রামে। চলতি বছর বিজয় হাজারে ট্রফিতে তিনি মুম্বাইকে প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন এবং জুনের শুরুতে মুম্বাই টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে মারাঠা রয়্যালস দস্যের হয়েও মাঠে নেমেছিলেন। নিজের এই অবিস্মরণীয় কীর্তির পর তিনি বলেন, মুম্বাইয়ের হয়ে খেলার স্বপ্ন পূরণ না হলেও মিজোরামের জার্সিতে রঞ্জি ট্রফি খেলার সুযোগ পাওয়ায় তিনি অত্যন্ত আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ।
দীর্ঘ সময় ক্রিজে টিকে থাকার নেপথ্যের কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন কঠোর শারীরিক কসরত, সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও শৃঙ্খলার কথা। এর আগে মুম্বাই লিগের ইয়ং কমরেড শিল্ডে ক্রিকেট ক্লাব অব ইন্ডিয়ার হয়ে ২১৩ রান এবং গত বছর টাইমস শিল্ডে ১৭০ রানের ইনিংস খেলার অভিজ্ঞতা থাকলেও চার শ রানের এই মাইলফলকটি তাকে পৌঁছে দিয়েছে অনন্য এক উচ্চতায়। ব্যাংক অব বরোদার এই কর্মী তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে রোহিত শর্মা, সূর্যকুমার যাদব, শ্রেয়াস আইয়ারদের মতো তারকাদের সঙ্গে খেলেছেন এবং মুম্বাইয়ের ঐতিহ্যবাহী 'খাড়ুস' মানসিকতাকেই নিজের সাফল্যের চাবিকাঠি বলে মনে করেন।
