পরিচালক আমাকে কুপ্রস্তাব দিয়েছিল : নীতি টেইলর
রুপালি জগতের আলোর ঝলকানির পেছনে অন্ধকার দিকও রয়েছে। প্রায়ই কাস্টিং কাউচ, যৌন হেনস্তা, স্বজনপ্রীতিসহ নানা অভিযোগ শোনা যায়। এ নিয়ে অনেক তারকা অভিনয়শিল্পী কথা বলেছেন। এবার নীরবতা ভাঙলেন ভারতীয় অভিনেত্রী নীতি টেইলর। কয়েক দিন আগে ভারতীয় গণমাধ্যম হাটারফ্লাইকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন হিন্দি টিভি ধারাবাহিকের জনপ্রিয় অভিনেত্রী নীতি টেইলর। এ আলাপচারিতায় তিনি অভিযোগ করেন—পরিচালক তাকে কুপ্রস্তাব দিয়েছিলেন। ঘটনা বর্ণনা করে ৩১ বছর বয়েসি নীতি টেইলর বলেন, ‘আমার প্রথম সিনেমার পরিচালক আরেকটি সিনেমার কাজের জন্য ফোন করেছিলেন। সিনেমার বিষয়ে আলোচনা শেষে তিনি বলেন, ‘এবারের সিনেমায় কাজ করতে হলে, তোমাকে আমার সঙ্গে শুতে হবে।’ বুঝতেই পারছেন, এমন পরিস্থিতিতে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে হয়, তা বুঝে উঠতে পারবেন না। আমি শুধু ফোন কেটে দিয়েছিলাম, তার ফোন নম্বর ব্লক করে দিয়েছিলাম। তারপর মাকে ফোন করে বলেছিলাম—ওই বুড়ো লোকটার কথা একবার ভাবো!’ পরিচালকের কুপ্রস্তাবে নীতি এতটাই হতবাক হন যে, তাকে সরাসরি কিছু বলার মতো অবস্থায় ছিলেন না। এর আগেও ওই পরিচালককে অন্য অভিনেত্রীদের সঙ্গে দেখেছিলেন তিনি। কিন্তু কখনো ভাবেননি, তাকেও এমন প্রস্তাব দেবেন। এই অভিজ্ঞতা চলচ্চিত্রে কাজ করার বিষয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গিই বদলে দেয় বলেও জানান নীতি। এ বিষয়ে নীতি টেইলর বলেন, ‘আমি তাকে অন্য মেয়েদের সঙ্গেও এ ধরনের আচরণ করতে দেখেছি। কিন্তু কখনো ভাবিনি, আমার সঙ্গেও এমন কিছু করার চেষ্টা করবেন। সেই ঘটনার পরই সিদ্ধান্ত নিই, আর কখনো কোনো সিনেমায় অভিনয় করব না। আমি এতটাই হতবাক হয়েছিলাম যে, শুধু তার ফোন নম্বর ব্লক করেছিলাম। বিষয়টি কাউকে বলিনি। কারণ আমি পুরোপুরি স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলাম।’ ২০১২ সালে তেলেগু ভাষার ‘মেম বায়াসুকু ভাচাম’ সিনেমার মাধ্যমে বড়পর্দায় অভিষেক হয় নীতি টেইলরের। এটি পরিচালনা করেন ত্রিনাধা রাও নাক্কিনা। সিনেমাটির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন তানিশ। মুক্তির পর সিনেমাটি বাণিজ্যিকভাবে সাফল্য পেয়েছিল। সাক্ষাৎকারে পরিচালকের নাম উল্লেখ করেননি নীতি। তবে কোনো সংশয় নেই যে, কুপ্রস্তাব দেওয়া পরিচালকের নাম—ত্রিনাধা রাও নাক্কিনা। ২০১৩ সালে নীতি অভিনয় করেন ‘পেল্লি পুস্তকাম’ সিনেমায়। রামকৃষ্ণ মাচাকান্তি পরিচালিত এই সিনেমায় নায়কের ভূমিকায় ছিলেন রাহুল রবীন্দ্রন। তবে প্রথম সিনেমার মতো সাফল্য পায়নি এটি। বক্স অফিসে ব্যর্থ হওয়ার পাশাপাশি সমালোচকদের কাছ থেকেও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া পায় সিনেমাটি। নীতি অভিনীত তৃতীয় ও শেষ তেলেগু সিনেমা ‘লাভ ডট কম’ মুক্তি পায় ২০১৪ সালে। রাজা ভান্নেম রেড্ডি পরিচালিত সিনেমাটির চিত্রনাট্য লেখার পাশাপাশি প্রযোজনাও করেছিলেন সিএইচভি বৃন্দা রেড্ডি। এতে নীতির বিপরীতে অভিনয় করেন আর্য সন্দীপ। মুক্তির পর এ সিনেমাও বাণিজ্যিকভাবে খুব একটা সাফল্য পায়নি। এই তিনটি তেলেগু সিনেমার পর আর চলচ্চিত্রে অভিনয় করেননি নীতি। মাত্র ১৫ বছর বয়সে হিন্দি ধারাবাহিক ‘পেয়ার কা বন্ধন’-এর মাধ্যমে টেলিভিশনে অভিষেক হয় নীতি টেইলরের। ২০১৪ সালে প্রচারিত ‘কাইসি ইয়ে ইয়ারিয়া’ ধারাবাহিকে অভিনয়ের মাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন তিনি। এরপর ‘বড়ে আচ্ছা লাগতে হ্যায় টু’-সহ একাধিক টেলিভিশন ধারাবাহিকে দেখা গেছে নীতিকে। সাম্প্রতিক সময়ে রিয়েলিটি শো ‘অ্যালায়েন্স’-এ অংশ নিয়ে সেমিফাইনালিস্ট হয়েছিলেন নীতি। ওই প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হন মিনি মাথুর।

‘দেবদাস’ থেকে ‘কাহানি’, বলিউডের সিনেমায় দুর্গাপূজার নানা রূপ
দুর্গাপূজার উৎসবকে হিন্দি সিনেমায় কখনো গানে-নাচে, কখনো গল্পের গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে, আবার কখনো বাঙালি সংস্কৃতির অনুষঙ্গ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। ‘দেবদাস’, ‘কাহানি’ থেকে ‘রকি অউর রানি কি প্রেম কাহানি’; বিভিন্ন সিনেমায় দুর্গাপূজা পেয়েছে নানা মাত্রা। গান ও নাচে উৎসবের উদযাপন :সঞ্জয় লীলা বানসালি ও করণ জোহরের মতো নির্মাতারা ‘ডোলা রে ডোলা’ এবং ‘ঢিনঢোরা বাজে রে’-এর মতো গান উপহার দিয়েছেন, যা সিনেমার ইতিহাসে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। ‘ডোলা রে ডোলা’ একটি আইকনিক গান। চলতি মাসে গানটি আন্তর্জাতিক সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চেও জায়গা করে নিয়েছে। অন্যদিকে, ‘ঢিনঢোরা বাজে রে’ গানের কোরিওগ্রাফির জন্য বৈভবী মার্চেন্ট দ্বিতীয়বারের মতো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। লাল রঙের আবহ, নারীত্বের উদযাপন এবং দেবী দুর্গার শক্তির প্রকাশ; সব মিলিয়ে গানগুলো দুর্গাপূজা উদযাপনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। প্রতি বছর এসব গানের মধ্য দিয়ে উৎসবের আমেজ যেন নতুন করে পর্দায় জীবন্ত হয়ে ওঠে। গল্পে বড় মোড় এনে দেয় দুর্গাপূজা : দুর্গাপূজার জাঁকজমক ও মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ ভারতীয় সিনেমায় বহুবার গল্পের বড় কোনো রহস্য উন্মোচনের পটভূমি হয়েছে। ২০১২ সালের ‘কাহানি’ সিনেমার শেষ দৃশ্যে বিদ্যা বালানের নকল অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি প্রকাশের কথা কে ভুলতে পারেন? সিনেমার ইতিহাসে অন্যতম স্মরণীয় রহস্য উন্মোচন হিসেবে দৃশ্যটি এখনো আলোচিত। ‘গুন্ডে’ সিনেমাতেও দুর্গাপূজা গল্পের গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে এসেছে। উৎসবের আয়োজনে রণবীর সিং ও অর্জুন কাপুরের অভিনীত দুই চরিত্রের সম্পর্কের সমীকরণ বদলে দিতে প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার চরিত্র তাদের একজনকে সেখানে নিয়ে যায়। উৎসবের চোখধাঁধানো আয়োজনের সঙ্গে নির্মম ও মর্মান্তিক সহিংসতার বৈপরীত্য গল্পকে নতুন দিকে এগিয়ে নেয়। বাঙালি সংস্কৃতির জানালা দুর্গাপূজা : বাঙালি সংস্কৃতিকে কাছ থেকে দেখার অন্যতম সুযোগ দুর্গাপূজার উৎসব। বলিউডও বিভিন্ন সিনেমায় সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েছে। সুজিত সরকারের ‘ভিকি ডোনার’ সিনেমায় ইয়ামি গৌতমের অভিনীত বাঙালি চরিত্রটি আয়ুষ্মান খুরানার পাঞ্জাবি চরিত্রকে নিজের জীবন ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। এ সময় সে তাকে নিয়ে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে বেড়ায়। ‘বুলবুল’ সিনেমায় দুর্গাপূজা ও কালীপূজার উপস্থিতি বাংলার প্রেক্ষাপটকে আরো স্পষ্ট করেছে। অন্যদিকে, ‘পরিণীতা’ সিনেমায় পূজা মূল প্রেমের গল্পকে এগিয়ে নেওয়ার অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। গল্পের বিভিন্ন পর্যায়ে কোমলতা, ঈর্ষা ও আগলে রাখার প্রবণতার মতো অনুভূতিগুলোও উঠে এসেছে পূজার আবহে।

বিতর্কে নিলয়-হিমির ‘প্রথম প্রেমের গল্প’
১২ অক্টোবর থেকে প্রচার শুরু হয়েছে নিলয় ও হিমি অভিনীত ধারাবাহিক নাটক ‘প্রথম প্রেমের গল্প’। প্রথম দুই পর্ব প্রচারের পর নাটকটির বিরুদ্ধে উঠেছে নকলের অভিযোগ। পাকিস্তানি সিরিয়াল ‘শাইদাই’-এর গল্প, দৃশ্য, এমনকি চরিত্রের পোশাকও হুবহু নকল করা হয়েছে। তবে নকলের অভিযোগ নিয়ে চিন্তিত নন নির্মাতা তানভীর তন্ময়। গণমাধ্যমকে তানভীর তন্ময় বলেন, ‘আমাদের নাটকের শুরুতেই উল্লেখ করা হয়েছে, বিদেশি ড্রামা থেকে অনুপ্রাণিত। কপি গল্প হলেও চেষ্টা করেছি বড় স্কেলে সেই আয়োজন দেখাতে। আরও কয়েকটি পর্বের পর দর্শক বুঝতে পারবেন, এখানে মৌলিক গল্পও আছে। তাই সমালোচনাকে বড় করে দেখছি না।’ তানভীর তন্ময় আরও বলেন, ‘সমালোচনার পাশাপাশি অনেকে ইতিবাচক মন্তব্যও করছেন। এত বড় বাজেটে আমাদের দেশে নাটক হচ্ছে, এর প্রশংসা করছেন তারা। এটা দেখে আরও অনেকে বড় বাজেটে নাটক নির্মাণ করতে সাহস পাবেন। এই সাহস পাইনি বলে প্রথম দিকে কপি গল্পের দিকে গিয়েছি। এর মধ্য দিয়ে আমাদের নিজস্ব গল্পও দেখাব।’ প্রথম প্রেমের গল্প ধারাবাহিকের টাইটেল কার্ডে সব কলাকুশলীকে পরিচয় করিয়ে দিলেও আড়ালে রাখা হয়েছে চিত্রনাট্যকারের নাম। এ প্রসঙ্গে নির্মাতা বলেন, ‘নাটকের লেখককে পরিচয় করাব যখন আমাদের মৌলিক গল্প শুরু হবে। এখন অনুপ্রাণিত গল্পের প্রচার চলছে। তাই মনে হয়েছে, এখন তার নাম উল্লেখ না করাই ভালো।’ এ বছরের শুরুতে জনপ্রিয়তা পেয়েছিল পাকিস্তানি সিরিয়াল থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নির্মিত আরেকটি ধারাবাহিক ‘এটা আমাদেরই গল্প’। সেই জনপ্রিয়তা তাকে নকল গল্পের দিকে টেনেছে কি না জানতে চাইলে নির্মাতা তন্ময় বলেন, ‘ওই নাটক জনপ্রিয় হয়েছে বলে পাকিস্তানি সিরিয়াল থেকে অনুপ্রাণিত হয়েছি, বিষয়টি তেমন নয়। আরও দুই বছর আগে ধারাবাহিকের পরিকল্পনা করেছিলাম। সে সময় নিলয় ভাই একক নাটক নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু সিরিজ জনপ্রিয়তা পাওয়ায় উনিও আগ্রহী হয়েছেন। আমারও মনে হয়েছে, এখন সিরিজ নির্মাণের ভালো সময়।’ প্রথম প্রেমের গল্প ধারাবাহিকে আরও অভিনয় করছেন ফারিন খান, আলী রাজ, সুজাতা, ফারজানা চুমকি, জাহিদ হোসেন শোভন প্রমুখ। প্রতি সোম ও মঙ্গলবার এনএএফ এন্টারটেইনমেন্ট ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ পাচ্ছে ধারাবাহিকটির নতুন পর্ব।

সেরা রাঁধুনীর নতুন সিজনে বিচারক জয়া আহসান
রান্নাবিষয়ক রিয়েলিটি শো ‘সেরা রাঁধুনী’। এখন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হওয়া আট সিজনের চারটিতেই বিচারকের আসনে দেখা গেছে চিত্রনায়িকা পূর্ণিমাকে। গত সিজনেও তিনি প্রতিযোগীদের রান্না চেখে নির্বাচন করেছেন সেরাদের। নতুন খবর হলো, সেরা রাঁধুনীর সিজন ৯-এ পূর্ণিমার বদলে দেখা যাবে দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসানকে। এক ভিডিও বার্তায় বিচারকের দায়িত্ব পালনের খবরটি নিজেই নিশ্চিত করেছেন জয়া। এর আগে রিয়েলিটি শোর বিচারকের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা থাকলেও রান্নার অনুষ্ঠানে এবারই প্রথম বিচারকার্যে দেখা যাবে জয়া আহসানকে। ভিডিও বার্তায় জয়া আহসান বলেন, ‘কুকিং রিয়েলিটি শো সেরা রাঁধুনী সিজন ৯-এ বিচারক হিসেবে আমি থাকছি। যারা রান্না করতে ভালোবাসেন বা রান্না নিয়ে নানা রকম স্বপ্ন দেখেন তাদের জন্য এই আয়োজন। ২০ বছর ধরে এমন অনেক রাঁধুনীর জীবন বদলের রেসিপি হচ্ছে সেরা রাঁধুনী। সেই রাঁধুনীদের সঙ্গে শিগগির দেখা হচ্ছে সেরা রাঁধুনীর মঞ্চে।’ জয়া আহসানের সঙ্গে সেরা রাঁধুনীর নতুন এই সিজনে বিচারক হিসেবে থাকবেন দুই পেশাদার শেফ শুভব্রত মৈত্র এবং শাহিদ শাহিন। ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে সেরা রাঁধুনী সিজন ৯-এর রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া। চলবে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত। পুরস্কার হিসেবে বিজয়ী পাবেন ১৫ লাখ টাকা। অনুষ্ঠানটি প্রচার হবে মাছরাঙা টেলিভিশনে। খবর ছড়িয়েছে, মা হতে যাচ্ছেন পূর্ণিমা। এ কারণেই সেরা রাঁধুনীর নতুন সিজন থেকে বেরিয়ে এসেছেন তিনি। গত শুক্রবার এক রিয়েলিটি শোতে অংশ নিয়েছিলেন পূর্ণিমা। সেই অনুষ্ঠানের ভিডিও ঘিরেই তৈরি হয়েছে তার মা হওয়ার গুঞ্জন। তবে এখনো মা হওয়ার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি পূর্ণিমা।

আট বছর পরও ভক্তহৃদয়ে অমলিন আইয়ুব বাচ্চু
যে কণ্ঠে মুগ্ধ হয়েছেন প্রজন্মের পর প্রজন্ম, যে গিটারের সুরে মুখর হয়ে উঠত কনসার্টের মঞ্চ, সেই কিংবদন্তি শিল্পী আইয়ুব বাচ্চুকে হারানোর আট বছর পূর্ণ হয়েছে গতকাল। শারীরিকভাবে তিনি না থাকলেও গান, সুর আর গিটারের জাদুতে আজও অসংখ্য ভক্তের হৃদয়ে বেঁচে আছেন তিনি। ২০১৮ সালের ১৮ অক্টোবর না ফেরার দেশে পাড়ি জমান বাংলা ব্যান্ডসংগীতের অন্যতম পথিকৃৎ আইয়ুব বাচ্চু। সময়ের ব্যবধানে আট বছর পেরিয়ে গেলেও তার সৃষ্টি ও সংগীতের আবেদন এতটুকু কমেনি। বাংলাদেশের ব্যান্ডসংগীতকে জনপ্রিয় ও সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এই শিল্পী। বরাবরের মতোই মৃত্যুবার্ষিকীতে আইয়ুব বাচ্চুকে ঘিরে ছিলো নানা আয়োজন। পারিবারিকভাবে তাকে স্মরণ করে দোয়া মাহফিল করা হয়। এছাড়া ব্যান্ড সমাজ থেকেও তাকে স্মরণ করা হয়। ১৯৬২ সালের ১৬ আগস্ট চট্টগ্রামের পটিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন আইয়ুব বাচ্চু। পরিবারের অমত থাকলেও ব্যান্ডের প্রতি তার ভালোবাসা জন্মায় একেবারে শৈশবেই। ছেলের এমন আগ্রহ দেখে ১১তম জন্মদিনে বাবা একটি গিটার কিনে দেন। কিন্তু তখন কি আর কেউ কল্পনা করেছে, এই এগারোর কিশোর একদিন দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে জনপ্রিয় গিটারিস্ট ও ব্যান্ড তারকা হয়ে উঠবেন! কলেজ জীবনে ওঠার পরই বন্ধুদের নিয়ে একটি ব্যান্ড গঠন করেন আইয়ুব বাচ্চু। প্রথমে এর নাম ছিল ‘গোল্ডেন বয়েজ’। পরে অবশ্য নাম বদলে ‘আগলি বয়েজ’ রাখেন। এই ব্যান্ডের গায়ক ছিলেন কুমার বিশ্বজিৎ। আর গিটারিস্ট ছিলেন আইয়ুব বাচ্চু। তারা স্থানীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান করতেন। ১৯৭৭ সালে ‘ফিলিংস’ ব্যান্ডে গিটারিস্ট হিসেবে যোগ দেন এবি। সেখানে তিনি জেমসের সঙ্গে বাজিয়েছিলেন। তবে আইয়ুব বাচ্চুর উত্থানের সূচনা মূলত ১৯৮০ সালে ‘সোলস’-এ যোগদানের পর। এই ব্যান্ডের হয়ে দশ বছর পারফর্ম করেছিলেন তিনি। অতঃপর ভাবলেন, নিজে কিছু করা যাক। সেই ভাবনা থেকে ১৯৯০ সালে গড়ে তোলেন ‘লিটল রিভার ব্যান্ড’। যা পরবর্তীতে ‘লাভ রানস ব্লাইন্ড’ বা ‘এলআরবি’ নামে বিপুল খ্যাতি লাভ করে। ব্যান্ডের হয়ে আইয়ুব বাচ্চু উপহার দিয়েছেন এলআরবি, সুখ, তবুও, ঘুমন্ত শহরে, ফেরারি মন, স্বপ্ন, আমাদের বিস্ময়, মন চাইলে মন পাবে, অচেনা জীবন, মনে আছে নাকি নেই, স্পর্শ এবং যুদ্ধ অ্যালবামগুলো। এছাড়া একক শিল্পী হিসেবে তার অ্যালবামের মধ্যে রয়েছে- রক্তগোলা, ময়না, কষ্ট, সময়, একা, প্রেম তুমি কি!, দুটি মন, কাফেলা, প্রেম প্রেমের মতো, পথের গান, ভাটির টানে মাটির গানে, জীবন, সাউন্ড অব সাইলেন্স (ইন্সট্রুমেন্টাল, রিমঝিম বৃষ্টি, বলিনি কখনো, জীবনের গল্প। এর বাইরে তার গাওয়া গানের অসংখ্য মিক্সড অ্যালবাম রয়েছে। আইয়ুব বাচ্চুর গাওয়া অসংখ্য কালজয়ী গানের মধ্যে রয়েছে- ‘সেই তুমি’, ‘কষ্ট পেতে ভালোবাসি’, ‘এখন অনেক রাত’, ‘মেয়ে’, ‘কেউ সুখী নয়’, ‘হাসতে দেখো গাইতে দেখো’, ‘এক আকাশের তারা’, ‘ঘুমন্ত শহরে’, ‘রুপালি গিটার’, ‘উড়াল দেবো আকাশে’, ‘একচালা টিনের ঘর’, ‘তারাভরা রাতে’, ‘বাংলাদেশ’, ‘বেলা শেষে ফিরে এসে’, ‘আমি তো প্রেমে পড়িনি’, ‘আম্মাজান’, ‘ফেরারি মন’ ইত্যাদি। অডিও গানের পাশাপাশি বেশ কিছু চলচ্চিত্রের গানেও তিনি কণ্ঠ দিয়েছেন। তারমধ্যে দারুণ জনপ্রিয় ‘আম্মাজান’ ছবির ‘আম্মাজান’ শিরোনাম গানটি। এছাড়াও ‘এক ঝাক পাখি উড়ে আকাশে’, ‘অনন্ত প্রেম’ ইত্যাদি গানগুলোও বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছিলো। সংসারজীবনে তিনি স্ত্রী, ফাইরুজ সাফরা আইয়ুব নামে এক কন্যা ও আহনাফ তাজওয়ার আইয়ুব নামে এক পুত্রসন্তান রেখে গেছেন। নন্দিত এই শিল্পীর শ্রদ্ধায় তার জন্মশহর চট্টগ্রামের প্রবর্তক মোড়ে একটি গিটার ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছে। ‘রূপালি গিটার’ নামের সেই ভাস্কর্য মাথা উঁচিয়ে এই কিংবদন্তির অবদানের কথা জানান দেয় বিভিন্ন প্রজন্মের মানুষকে।

