ছবি: সৌজন্যে সিনিয়র সাংবাদিক আনিস মাহমুদ
ভোরে ঘাসের ডগায় শিশির, রাতের তাপমাত্রায় কিছুটা পরিবর্তন-প্রকৃতিতে হেমন্তের আগমনী বার্তা। তবে ঋতু বদলালেও সিলেটে দিনের গরম কমছে না।
অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়েছে। সকালে কিছুটা স্বস্তি মিললেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে গরমের তীব্রতা।
বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী, কার্তিক ও অগ্রহায়ণ এই দুই মাস হেমন্তকাল। সাধারণত এ সময়ে বর্ষার বৃষ্টিপাত কমে আসে, আকাশ তুলনামূলক পরিষ্কার থাকে এবং রাতের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। ভোরে শিশির পড়ার অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়, কোথাও কোথাও অনুভূত হয় হালকা শীত। তবে দিনের বেলায় সূর্যের তেজ থাকায় গরম পুরোপুরি বিদায় নেয় না। সিলেটেও দিনের গরম ও রাতের তুলনামূলক কম তাপমাত্রার মধ্যে পার্থক্য দেখা যাচ্ছে।
সিলেট আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৩ থেকে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত সাত দিনে জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৩ দশমিক ৭ থেকে ৩৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে। ১৩ অক্টোবর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ১৪ অক্টোবর তা কমে দাঁড়ায় ৩৩ দশমিক ৮ ডিগ্রিতে। ১৫ অক্টোবর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪ ডিগ্রি এবং ১৬ অক্টোবর ছিল ৩৪ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
তবে ১৭ অক্টোবর তাপমাত্রা বেড়ে ৩৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়। পরদিন ১৮ অক্টোবর তা কমে ৩৩ দশমিক ৭ ডিগ্রিতে নেমে আসে। ১৯ অক্টোবর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৪ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
অন্যদিকে, ১৪ থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত সিলেটে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২১ দশমিক ৭ থেকে ২২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে। এ সাতদিনে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়নি। তাপমাত্রার এ হিসাব থেকে দেখা যায়, দিনের বেলায় গরম থাকলেও রাতে তাপমাত্রা তুলনামূলক কম ছিল।
সিলেট নগরের রিকশাচালক ফজর আলী বলেন, ‘দিনের বেলা এখনো বেশ গরম লাগে। রোদে রিকশা চালাতে শরীর ঘেমে যায়, ক্লান্তিও আসে। সকালবেলা কিছুটা আরাম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গরম বাড়ে। এ সময় আবহাওয়া একটু ঠান্ডা হওয়ার কথা, কিন্তু দুপুরে এখনো গরম থেকে রেহাই পাওয়া যাচ্ছে না।’
সিলেটের বাইশটিলা এলাকার কৃষক নুর হোসেন বলেন, ‘সকালে মাঠে গেলে আবহাওয়ায় কিছুটা পরিবর্তন বোঝা যায়। তবে বেলা বাড়লে রোদের তেজ থাকে, তখন মাঠে কাজ করতে কষ্ট হয়। হেমন্তে দিনের বেলা এমন গরম থাকায় কাজের সময় শরীর দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে। সকাল ও দুপুরের আবহাওয়ার মধ্যে বেশ পার্থক্য মনে হয়।’
সিলেট আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজিব হোসাইন বলেন, ‘হেমন্তকাল বা শরৎকাল এগুলো আবহাওয়ার শ্রেণিবিভাগ নয়। আবহাওয়াবিজ্ঞানে আমরা মৌসুমি বায়ু, প্রাক-মৌসুমি বায়ু ও শীতকাল এভাবে সময়কে বিবেচনা করি। সেই হিসাবে এখন চলছে প্রাক্-মৌসুমি সময়।’
তিনি আরও বলেন, ‘সিলেটে শীতের অনুভূতি পেতে নভেম্বর পর্যন্ত সময় লাগবে। এখনই শীতের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। তবে রাতের তাপমাত্রা কমছে। এটি প্রাক্-মৌসুমি সময়।’
গুগলে আমাদের খবর পেতে
