জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকার সাভারে পুলিশের সাঁজোয়া যান থেকে ফেলে আসহাবুল ইয়ামিনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামসহ ১৯ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি আগামী ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত মুলতবি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) আসামিপক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন।
প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। তার শুনানি শেষে আসামিপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আমির হোসেন। পরে আসামিপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি মুলতবি করা হয়।
আদালতের তথ্য অনুযায়ী, মামলার ১৯ আসামির মধ্যে ১৩ জন পলাতক এবং ছয়জন কারাগারে রয়েছেন। পলাতক আসামিরা হলেন- ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম, ঢাকা রেঞ্জের সাবেক উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সাবেক পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান রিপন, সাভার থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজামান, আশুলিয়া থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এএফএম সায়েদ, সাভার উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলম রাজিব, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. আতিকুর রহমান, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফখরুল আলম সমর, সাভার পৌরসভার সাবেক মেয়র আব্দুল গণির ছেলে মেহেদী হাসান তুষার, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান রাজিবের ব্যক্তিগত সহকারী রাজু আহম্মেদ, মো. ফরিদ, জামান খান ও শরীফ আশরাফুল আলম বাবুল।
কারাগারে থাকা ছয় আসামি হলেন- ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মোহাম্মদ আলী, নায়েক সুহেল মিয়া, কনস্টেবল মাহফুজ মিয়া এবং ঢাকা জেলা যুবলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান ওরফে জিএস মিজান।
ইয়ামিন হত্যা মামলায় সাইফুল ইসলামসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গত ২৬ জুলাই আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। ওই দিন পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়।
আসহাবুল ইয়ামিন মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচি চলাকালে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালান। ওই দিন দুপুর দেড়টার দিকে ইয়ামিনকে ধরে টেনেহিঁচড়ে পুলিশের একটি সাঁজোয়া যানের কাছে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁর বুকের বাঁ পাশে গুলি করা হয়। এতে তার বুকে অসংখ্য স্প্লিন্টার বিদ্ধ হয়। পরে তাকে টেনে সাঁজোয়া যানটির ওপর ফেলে রাখা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রসিকিউশনের ভাষ্য, আন্দোলনরত ছাত্র-জনতাকে ভীতি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা ইয়ামিনকে নিয়ে সাঁজোয়া যানটি এপাশ-ওপাশ ঘোরাতে থাকেন। একপর্যায়ে প্রায় মৃত অবস্থায় তাকে সড়কে ফেলে দেওয়া হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ওই সময় সাঁজোয়া যানের ভেতর থেকে একজন পুলিশ সদস্যকে বের করে ইয়ামিনের পায়ে আবারও গুলি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে ওই পুলিশ সদস্য ইয়ামিনকে মৃত ভেবে তার পায়ে গুলি করেননি। বরং তাকে রাস্তার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে টেনে নিয়ে সড়ক বিভাজকের পাশে ফেলে দেন।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ, তখনো গুলিবিদ্ধ ইয়ামিনের শ্বাস-প্রশ্বাস চলছিল। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রসিকিউশন এ ঘটনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
