পুরোনো ভাঙা হারমোনিয়ামের ভেতরে লুকানো ছিল দুটি বিদেশি পিস্তল, সাতটি গুলি ও দুটি ম্যাগাজিন। যাত্রীবাহী বাসে করে অস্ত্রগুলো নিয়ে যাওয়ার সময় টাঙ্গাইলের যমুনা সেতু পূর্ব এলাকায় তল্লাশিচৌকিতে ধরা পড়েন মো. বারেক ব্যাপারী। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মুন্সীগঞ্জে অভিযান চালিয়ে আরও দুজনকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, চারটি গুলি এবং নগদ ৪১ লাখ ১৯ হাজার ৫০০ টাকা জব্দ করা হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাত ২টার দিকে টাঙ্গাইলের যমুনা সেতু পূর্ব থানার পূর্ব গোলচত্বর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিকেল ৫টার দিকে ময়মনসিংহে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) ১৪’র সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বাহিনীটির অধিনায়ক মাসুদ রানা।
এসআরবি জানায়, আটক বারেক ব্যাপারীর বয়স ৪৯ বছর। তার বাড়ি পাবনা জেলায়। তিনি ঈশ্বরদীতে থাকেন। কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা রিয়াজ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসে যাচ্ছিলেন তিনি। যমুনা সেতু পূর্ব থানার পূর্ব গোলচত্বরে বাসটিতে তল্লাশির সময় তার কথাবার্তা ও আচরণ সন্দেহজনক মনে হয়। পরে তার সঙ্গে থাকা পুরোনো হারমোনিয়ামটি তল্লাশি করে দুটি বিদেশি পিস্তল, সাতটি গুলি ও দুটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়।
বারেককে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে এসআরবি জানায়, পিস্তল দুটি মুন্সীগঞ্জের সুজন ব্যাপারী নামের এক ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল। বারেকের দাবি, সুজন কুষ্টিয়া থেকে পিস্তল দুটি কিনেছেন।
এ তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার সকাল ৭টার দিকে এসআরবি-১১’র নারায়ণগঞ্জের একটি দল মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার শিরোলই এলাকায় সুজন ব্যাপারীর বাসায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে সুজন ব্যাপারী (৩২) ও তার বড় ভাই মনির হোসেনকে (৪৫) আটক করা হয়।
এসআরবি জানায়, তাদের বাসা থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, চারটি গুলি, দুটি ম্যাগাজিন, তিনটি মুঠোফোন এবং নগদ ৪১ লাখ ১৯ হাজার ৫০০ টাকা জব্দ করা হয়েছে।
দুই দফার অভিযানে সব মিলিয়ে তিনটি বিদেশি পিস্তল, ১১টি গুলি, চারটি ম্যাগাজিন, তিনটি মুঠোফোন ও নগদ ৪১ লাখ ১৯ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে এসআরবি-১৪’র অধিনায়ক মাসুদ রানা বলেন, এ ঘটনায় টাঙ্গাইলের যমুনা সেতু পূর্ব থানা ও মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে। উদ্ধার করা অস্ত্রের উৎস, কারা কীভাবে এসব অস্ত্র সংগ্রহ করেছে এবং আটক ব্যক্তিরা কত দিন ধরে এ কর্মকাণ্ডে জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে জানা যাবে।
