আজকাল ওয়েবডেস্ক: ফিফা সভাপতি পদে জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর চতুর্থ মেয়াদের পক্ষে সমর্থন জানাল এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (AFC)। মাত্র দু'মাস আগেই ফিফা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রকাশ করেছিল তাঁরা। এরমধ্যে এএফসির এই অবস্থান পরিবর্তন যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। শুক্রবার টোকিওতে এএফসির বিশেষ কংগ্রেসে সভাপতি শেখ সলমন বিন ইব্রাহিম আল খলিফা ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থনের কথা ঘোষণা করেন। ২০২৭ সালের মার্চে ফিফা সভাপতি নির্বাচন। তার আগে এশিয়ার ৪৭টি সদস্য দেশের সমর্থন ইনফান্তিনোর অবস্থান আরও শক্ত করবে। দক্ষিণ আমেরিকার কনমেবল এবং আফ্রিকার সিএএফও ইতিমধ্যে তাঁকে সমর্থন জানিয়েছে। ২২টি আরব ফুটবল সংস্থাও ইনফান্তিনোর পাশে থাকার কথা জানিয়েছে।
এএফসির অবস্থান বদলের নেপথ্যে রয়েছে ফিফার ৪.২ বিলিয়ন ডলারের পরিত্যক্ত বাণিজ্যিক পরিকল্পনা। বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব পরিচালনার জন্য নতুন একটি সংস্থায় ২০ শতাংশ অংশীদারিত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা করেছিল ফিফা। সেই প্রস্তাব নিয়ে স্বচ্ছতা, পরিচালনব্যবস্থা এবং সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে পর্যাপ্ত আলোচনার অভাব নিয়ে আগস্টে উয়েফা এবং কনকাকাফের সঙ্গে এএফসিও আপত্তি জানিয়েছিল। তবে টোকিওর সভায় সেই বিরোধ ভুলে যাওয়ার বার্তা দেন শেখ সলমন। ইনফান্তিনোকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, 'ফিফা সভাপতি হিসেবে নতুন মেয়াদে আপনার নেতৃত্বকে সমর্থন করতে আমরা সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।'
সলমন আরও জানান, অতীতে দু'পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও সেটিকে ভবিষ্যতের সম্পর্কের পথে বাধা হতে দেওয়া উচিত নয়। জুরিখে বৈঠকের মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে বোঝাপড়া তৈরি হয়েছে বলেও জানান তিনি। সম্প্রতি ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ পরিকল্পনা নিয়ে ফিফা কাউন্সিলের কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন ইনফান্তিনো। পরামর্শ এবং যোগাযোগের প্রক্রিয়ায় ভুল হয়েছিল বলে স্বীকার করলেও, ফুটবলে বিনিয়োগ বাড়ানোই সেই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য ছিল বলে দাবি করেন তিনি। এরপর বিভিন্ন কনফেডারেশনের প্রতিনিধিদের নিয়ে ফিফার পরিচালনব্যবস্থা পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে বিতর্ক পুরোপুরি থামেনি। পরিত্যক্ত বাণিজ্যিক উদ্যোগ এবং ফিফার পরিচালনব্যবস্থা নিয়ে উয়েফা মোট ১২টি বিষয়ে ৪২টি প্রশ্নের উত্তর চেয়েছে। ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের দাবি, ইনফান্তিনোর ক্ষমাপ্রার্থনায় তাঁদের প্রয়োজনীয় স্পষ্টতা মেলেনি।
২০১৬ সাল থেকে ফিফার সভাপতি পদে রয়েছেন ইনফান্তিনো। ২০২৭ সালের নির্বাচনে জয়ী হলে ২০৩১ সাল পর্যন্ত দায়িত্বে থাকবেন তিনি। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ১৮ নভেম্বর। এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নাম সামনে আসেনি। এশিয়া, আফ্রিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকার সমর্থন ইনফান্তিনোকে গুরুত্বপূর্ণ ভোটব্যাংকের সমর্থন এনে দিয়েছে। যদিও এএফসির ৪৭টি সদস্য সংস্থাই শেষপর্যন্ত একইভাবে ভোট দেবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। ইউরোপ এবং উত্তর ও মধ্য আমেরিকার কিছু অংশে তাঁর বিরোধিতা অব্যাহত রয়েছে। ফলে নির্বাচন যত এগোবে, ফিফার নেতৃত্ব, স্বচ্ছতা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্কও আরও জোরালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
