মোহাম্মদ নাঈম শেখের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি ও মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসে লেখা হলো চতুর্থ উইকেটে জুটির রেকর্ড।
Published : 25 Oct 2026, 01:47 PM
Updated : 25 Oct 2026, 01:47 PM
এসএম মেহেরব হাসানের ঝুলিয়ে দেওয়া ডেলিভারি উড়িয়ে মারলেন মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। ব্যাটের ওপরের অংশে লেগে বল উঠে গেল ওপরে। লং অন থেকে দৌড়ে এসে সহজ ক্যাচ নিলেন শফিকুল ইসলাম। হতাশায় আকাশপানে তাকালেন অঙ্কন। অন্যপ্রান্তে তখন টানা গ্লাভস-ব্যাটে তালি দিয়ে অধিনায়ককে অভিবাদন জানালেন মোহাম্মদ নাঈম শেখ।
ক্ষণিকের ভুলে নিজের উইকেট হারালেও নাঈমের সঙ্গে মিলে চতুর্থ উইকেটে রেকর্ড জুটিই গড়েছেন মাহিদুল। জাতীয় ক্রিকেট লিগের চতুর্থ রাউন্ডে রাজশাহীর বিপক্ষে ঢাকার দুই ব্যাটসম্যানের জুটিতে সংগ্রহ ৩৬৩ রান।
ড্রেসিং রুমে ফেরার আগে ১৪ চার ও ৮ ছক্কায় ২৮৯ বলে ১৬৫ রান করেন মাহিদুল। প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে এটিই তার সর্বোচ্চ ইনিংস। মাহিদুলের বিদায়ের কিছুক্ষণ পর ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিকে আড়াইশতে নিয়ে যান নাঈম।
দেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এই প্রথম চতুর্থ উইকেটে দেখা মিলল সাড়ে তিনশ ছাড়ানো জুটির। এত দিন চতুর্থ উইকেটে সর্বোচ্চ জুটি ছিল অলক কাপালি ও রাজিন সালেহর। ২০১৪-১৫ মৌসুমের জাতীয় লিগে ৩৪৮ রান যোগ করেছিলেন সিলেটের অভিজ্ঞ দুই ব্যাটসম্যান।
চতুর্থ উইকেটে বিশ্ব রেকর্ড থেকে অবশ্য অনেক আগেই থেমেছে নাঈম-মাহিদুল জুটি। ১৯৪৬-৪৭ মৌসুমের রাঞ্জি ট্রফিতে ৫৭৭ রানের জুটি গড়েছিলেন বারোডার বিজয় হাজারে ও গুল মোহাম্মদ। ৯১ রানে তৃতীয় উইকেট পড়ার পর দলকে ৬৬৮ রানে নিয়ে যান তারা।
দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটে যে কোনো উইকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ জুটির রেকর্ড থেকেও বেশ দূরে নাঈম-অঙ্কন। ২০১২-১৩ মৌসুমের বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগে পঞ্চম উইকেটে ৪৯৪ রানের জোট বেধেছিলেন সেন্ট্রাল জোনের মার্শাল আইয়ুব ও মেহরাব হোসেন জুনিয়র।
রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামে শনিবার দ্বিতীয় সেশনের শুরুর দিকে জুটি বাধেন নাঈম ও অঙ্কন। ৩০.৩ ওভারে ঢাকার সংগ্রহ তখন ৩ উইকেটে ৮৮ রান।
দিনের বাকি অংশে আর উইকেট পড়তে দেননি ছন্দে থাকা দুই ব্যাটসম্যান। প্রথম দিন শেষে চলতি লিগে টানা তৃতীয় সেঞ্চুরিতে ১৭৬ রানে অপরাজিত থাকেন নাঈম। অঙ্কনের ব্যাট থেকে আসে ৮৪ রান।
রোববার একই ছন্দে নতুন দিনের খেলা শুরু করেন তারা। রাজশাহীর বোলার-ফিল্ডারদের তেমন সুযোগ না দিয়ে মধ্যাহ্ন বিরতির আগে দুজন মিলে যোগ করেন আরও ৯৭ রান।
ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরিতে আগের সর্বোচ্চ ১২২ রান ছাড়িয়ে যান অঙ্কন। অন্য প্রান্তে নাঈম পেয়ে যান ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরির স্বাদ। এবারের লিগে কোনো ব্যাটসম্যানের এটি দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরি।
দ্বিতীয় সেশনে তুলনামূলক দ্রুত রান তোলা শুরু করেন দুজন। লাঞ্চ বিরতির পর ১০ ওভারে যোগ হয় ৫৫ রান। শফিকুলের অফ স্টাম্পের বাইরের বল আলতো ছোঁয়ায় পয়েন্ট দিয়ে সীমানায় পাঠিয়ে জুটির সাড়ে তিনশ রান পূর্ণ করেন নাঈম। একই ওভারে স্কয়ার লেগ দিয়ে ছক্কা মারেন অঙ্কন।
পরের ওভারে আরেকটি বড় শটের খোঁজে সমাপ্তি ঘটে ৫৩৪ বলের ম্যারাথন জুটির।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ১২৪ ওভারে ঢাকার সংগ্রহ ৪ উইকেটে ৪৭০ রান। ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসে ট্রিপল সেঞ্চুরির আশা জাগিয়ে ২৫৪ রানে অপরাজিত নাঈম।
