সলমন খানের দেশাত্মবোধক সিনেমা নিয়ে গত একবছর ধরে জটিলতা যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছিল না! কখনও বেজিংয়ের আপত্তি, কখনও সিনেমার নাম বদল, এযাবৎকাল নানাবিধ জটিলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে ‘মাতৃভূমি: মে ওয়ার রেস্ট ইন পিস’কে। জানা গিয়েছিল, ভারত-চিনের মধ্যে ক্রমশ উন্নত হতে থাকা কূটনৈতিক সম্পর্কে যাতে কোনও নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, তাই ‘মাতৃভূমি’ ছবি থেকে বেশ কিছু চিন প্রসঙ্গ বাদ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। ফলত, ফের নতুন করে চিত্রনাট্য সাজাতে হয় পরিচালক অপূর্ব লাখিয়াকে। সেই কাটা ঘায়ে নুনের ছিটে দিলেন মোদি বিরোধি ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি।
তাঁর দাবি, ভারত সরকার ‘ব্যাটেল অফ গালওয়ান’, থুড়ি ‘মাতৃভূমি’ নিয়ে আতঙ্কিত ছিলেন। তাই চিনের বেশ কিছু প্রসঙ্গ সরিয়ে নতুনভাবে চিত্রনাট্য সাজাতে কার্যত বাধ্য হয়েছ। গত ১১ অক্টোবর দিল্লিতে একটি সাংবাদিক সম্মেলনে সলমনের ছবি নিয়ে ধ্রুব রাঠির একটি ক্লিপিং সোশাল মিডিয়ায় দাবানলের গতিতে ছড়িয়ে পড়েছে। যেখানে তিনি সরকারের সাহস নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে বলেছেন, “সলমন খানের একটি ছবি মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল যেখানে চিনের বিরুদ্ধে কিছু বিষয় তুলে ধরা হয়েছিল। কিন্তু ছবি মুক্তিতে সরকার সাহসীকতার সঙ্গে সবুজ সংকেত দিতে পারেননি। তার বদলে চিত্রনাট্যে কাচি চালানোর নিদান দেয়। ফলে সলমন খানের সিনেমাটির পুনরায় শুটিং করানো হয়। বলা হয়েছিল, চিনের বিরুদ্ধে এতটা দুঃসাহস দেখাতে পারি না।”
Dhruv Rathee in his latest press conference on #SalmanKhan’s next film #Maatrubhumi, originally titled (Battle of Galwan) controversy: Under Modi even cinema faces political pressure. https://t.co/kYSvRvnK8U
— Pαѕнα (@ibeingxpasha_) October 11, 2026
এখানেই শেষ নয়, আরও একধাপ এগিয়ে রাঠির সংযোজন, “চিন, আমেরিকা এবং ইলন মাস্ককে নিয়ে সরকার ভীত।” একইসঙ্গে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন, তিনি একজন সাধারণ ব্যক্তি যিনি ইউটিউবে প্রকাশ্যে নিজের মতামত প্রকাশ করেন। এর সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক অভিসন্ধি জড়িত নেই। ধ্রুব রাঠির মন্তব্য ঘিরে নেটভুবনে শুরু হয়েছে আলোচনা ও বিতর্ক। প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সলমন খানের অনুরাগীরাও। অনেকেই তাঁর অভিযোগের সঙ্গে সহমত পোষণ করেছেন। কেউ আবার ছবির পরিবর্তন সংক্রান্ত দাবি নিয়ে নিজেদের মতামত প্রকাশ করেছেন।
জানা গিয়েছে, ‘মাতৃভূমি’ র সংশোধিত সংস্করণ দেখে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের তরফে ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ পেয়েছে সলমনের বহু প্রতীক্ষিত এই সিনেমা। বলিউড মাধ্যম সূত্রে খবর, ‘মাতৃভূমি’ নির্মাতাদের জমা দেওয়া সংশোধিত সংস্করণ দেখে কর্মকর্তারা সন্তুষ্ট হয়েছেন। চৈনিক ‘চাল শুধরে’ নিতেই অবশেষে এনওসি দেওয়া হয়েছে সলমনের ‘মাতৃভূমি’কে। গালওয়ান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে তৈরি এই ছবির নতুন ভার্সনে ভারত-চীন সম্পর্ককে আরও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে তুলে ধরা হয়েছে বলেই খবর।
আসলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ছবিটির মূল বিষয়বস্তুর কিছু দিক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করার পরই চিত্রনাট্যে বদল আনতে হয়। শোনা যাচ্ছে, চিন প্রসঙ্গ বাদ দিয়ে গান, রোম্যান্টিক দৃশ্য যোগ করে ‘মাতৃভূমি’র এক নতুন সংস্করণ তৈরি হয়েছে, যেখানে চিন বা গালওয়ান সংঘাতের নামোল্লেখ করা হয়নি।
