আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে চুয়াডাঙ্গা সীমান্ত এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাতে চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি) থেকে প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামী ১৬ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত ৭ দিনব্যাপী ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও সমন্বিত নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
বিজিবি সদর দপ্তরের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার আলোকে প্রণীত এই নিরাপত্তা পরিকল্পনার আওতায় চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরের তিন কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত দুটি এবং আন্তর্জাতিক সীমান্তের আট কিলোমিটারের মধ্যে থাকা ২২টি পূজামণ্ডপকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নির্ধারিত এই সময়সীমাজুড়ে মণ্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্ব পালন করবেন বিজিবি সদস্যরা।
সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যাতে উৎসবমুখর পরিবেশে ও শান্তিপূর্ণভাবে তাদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব উদ্যাপন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং স্থানীয় পূজা উদ্যাপন কমিটির সঙ্গে নিবিড় সমন্বয় রেখে কাজ করবে সীমান্তরক্ষী এই বাহিনী। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেকোনো ধরনের গুজব, অপতথ্য ও সাম্প্রদায়িক উসকানি প্রতিরোধে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হলে তা দ্রুত ও কার্যকরভাবে মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে বিজিবি।
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি)-এর পরিচালক ও অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হাসান জানান, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের অংশ। আসন্ন দুর্গাপূজার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। এই কার্যক্রম সফল করতে সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ ও গণমাধ্যমের আন্তরিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অধিনায়ক সবাইকে যেকোনো ধরনের গুজব ও অপপ্রচার থেকে সতর্ক থাকার এবং যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার বা শেয়ার করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। পাশাপাশি কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি, বস্তু কিংবা অস্বাভাবিক কার্যকলাপ চোখে পড়লে তা দ্রুত নিকটস্থ বিজিবি ক্যাম্প অথবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করার অনুরোধ জানান তিনি।
