ভারতে এবার গণতান্ত্রিক অধিকার বা প্রতিবাদ জানাতেও গুনতে হবে মোটা অঙ্কের টাকা। রাজধানী নয়াদিল্লিতে আন্দোলনকারীদের প্রধান স্থান জন্তরমন্তর থেকে সরাতে তিনটি নতুন বিকল্প জায়গা ঠিক করা হয়েছে।তবে এসব স্থানে সভা-সমাবেশ করা এখন অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের।
সম্প্রতি দিল্লি পুলিশ সিদ্ধান্ত নিয়ে জন্তর মন্তরকে প্রতিবাদের স্থান থেকে বাদ দিয়েছে। বদলে বিকল্প হিসেবে রামলীলা ময়দান, শাহদারার সিবিডি গ্রাউন্ড এবং উত্তর-পশ্চিম দিল্লির বুরারি ময়দানকে বেছে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রামলীলা ময়দান ও সিবিডি গ্রাউন্ড দুটিই অর্থের বিনিময়ে বুক করতে হয়।
সবচেয়ে বড় সমস্যা তৈরি হয়েছে রামলীলা ময়দানকে নিয়ে। এটি মূল শহরের কাছে হলেও সেখানে এক দিন প্রতিবাদ করতে খরচ হবে ১ লাখ ২১ হাজার রুপি। এর মধ্যে মাঠের দৈনিক ভাড়া ৫০ হাজার রুপি। সিকিউরিটি ডিপোজিট হিসেবে আগে জমা দিতে হবে আরও ৫৫ হাজার রুপি। এর সঙ্গে কর ও অন্যান্য খরচ যুক্ত হবে।
এই স্থানে বিনামূল্যে আন্দোলন করার সুযোগ নেই বললেই চলে। কেবল ১৫০ জনের মতো ছোট একটি দলের জন্য খুব সামান্য জায়গা বিনামূল্যে দেওয়া হয়। তবে বড় কোনো আন্দোলনের জন্য পুরো মাঠ বুক করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এটি সাধারণ নাগরিক সংগঠন ও ছোট দলগুলোর জন্য বড় বাধা।
আর্থিক খরচের পাশাপাশি বুকিং নিয়ে বড় জটিলতা দেখা দিয়েছে। অধিকাংশ দিনই এই মাঠ বিভিন্ন মেলার জন্য আগেই বুক হয়ে আছে। ফলে চলতি বছর আন্দোলন করার জন্য মাত্র তিনটি দিন খালি রয়েছে। ২৯, ৩০ ও ৩১ ডিসেম্বর— এই তিনটি দিনই কেবল বুকিং দিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ করতে পারবেন আন্দোলনকারীরা।
অন্যান্য নতুন নির্ধারিত স্থানগুলোর অবস্থাও জটিল। শাহদারার সিবিডি গ্রাউন্ডও বুকিং ফি দিয়ে নিতে হয়। এটি ঘনবসতিপূর্ণ এবং বাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত। ফলে সেখানে আন্দোলন করলে যানজট তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে বুরারি ময়দান শহরের মূল প্রশাসনিক কেন্দ্র থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে। এটি বেশ দূরবর্তী স্থান। তাই সেখানে বিক্ষোভ করলে তা গণমাধ্যম ও সরকারের নজরে আসবে না বলে অভিযোগ উঠছেন।
আন্দোলনকারীরা বলছেন, জন্তরমন্তরে আন্দোলনের জন্য এমন কোনো বড় ফি দিতে হতো না। শহরের কেন্দ্র থেকে দূরে পাঠানো এবং অতিরিক্ত ফি নির্ধারণ করার এই পদক্ষেপের কারণে এখন সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রকাশের পথ কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
