জীবনের গতিপথ সবসময় সমান থাকে না, কখনো নেমে আসে গভীর অন্ধকার,
মানুষের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, বা সামাজিক জীবনের যেকোনো সংকটেই ধৈর্য ও চেষ্টার পর সফলতা আসা বিধাতার এক অমোঘ নিয়ম।
পৃথিবীর যত বড় বড় অর্জন ও বড় পরিবর্তন এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে অসীম ত্যাগ এবং কষ্টের গল্প।
কঠিন সময় চিরস্থায়ী নয় এই চিরন্তন আশার বাণী উঠে এসেছে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন: فَإِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا
"নিশ্চয় কঠিন কষ্টের সাথেই রয়েছে স্বস্তি। (সূরা ইনশিরাহ: ৬)
হাদিসে এসেছে "একটি কষ্ট কখনো দুইটি স্বস্তির ওপর জয়ী হতে পারে না।" অর্থাৎ মানুষের জীবনে বিপদের চেয়ে তার উত্তরণের পথ ও সম্ভাবনা সবসময় বেশি থাকে।
রাসূল (সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর জীবন ছিল বাস্তব উদাহরণ।
মক্কার জীবনে সাহাবীদের সাথে চরম সামাজিক বয়কট, শারীরিক নির্যাতন ও মদিনায় হিজরতের মতো কঠিন পথ পাড়ি দিতে হয়েছিল তাঁকে।
কিন্ত সেই চরম কষ্টের পর আসে ঐতিহাসিক মক্কা বিজয় এবং বিজয়ের মাধ্যমে এক শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠা। একইভাবে হযরত ইউসুফ (আ.)এর জীবনে একের পর এক কূপের অন্ধকার, দাসত্ব ও দীর্ঘ কারাবাস নেমে এলেও ধৈর্য ও সঠিক বিশ্বাসের ফলে পরবর্তীতে মিসরের শাসনভার লাভ করার মাধ্যমে তাঁর জীবনে স্বস্তি ও সফলতা আসে।
আমাদের দৈনন্দিন জীবনেও যেকোনো পরীক্ষা বা বিপদ আসলে আমরা প্রায়ই ভেঙে পড়ি। চাকরি হারানো, ব্যবসায় ক্ষতি, পারিবারিক কলহ কিংবা সামাজিক
অস্থিরতা প্রতিটি কঠিন পরিস্থিতির আড়ালে লুকিয়ে থাকে নতুন কোনো ইতিবাচক সম্ভাবনা। কষ্টের সময়ে হতাশ না হয়ে ধৈর্য ধারণ করা এবং চেষ্টা চালিয়ে যাওয়াই মূল চাবিকাঠি।সময়ের ব্যবধানে প্রতিটি পরিবার বা ব্যক্তি তার কষ্টের বিপরীতে এক বড় ধরনের সফলতা বা স্বস্তির মুখ দেখতে পায়।
অন্ধকারের পরই আলোর আবির্ভাব ঘটে এটিই প্রকৃতির নিয়ম।
জীবনের পথচলায় কঠিন সময় আসতেই পারে, তবে সেই কষ্ট দেখে আশা ছেড়ে দেওয়া যাবে না। স্রষ্টার ওপর অবিচল বিশ্বাস, অদম্য ধৈর্য এবং কঠোর পরিশ্রম ধরে রাখলে কষ্টের দিন শেষে সফলতা আসবেই।
আজকের সংকটই মূলত আগামী দিনের বড় কোনো জয়ের ভিত্তি গড়ে দেবে ইনশাআল্লাহ।
