নাটোরের গুরুদাসপুরে স্বামী ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে যৌতুকের জন্য নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করা সুবর্ণা খাতুন (২২) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় তাঁর বাবা গোলাম মোস্তফা থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করেছেন।
নিহত সুবর্ণা উপজেলার মশিন্দা ইউনিয়নের সাহাপুর গ্রামের গোলাম মোস্তফার মেয়ে। চার বছর আগে বিয়াঘাট ইউনিয়নের যোগেন্দ্রনগর ভাটোপাড়া গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে আলামিন হোসেনের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে আরিশা খাতুন নামে দুই বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, গত ১১ অক্টোবর রাতে পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্বামী আলামিনের সঙ্গে সুবর্ণার কথা-কাটাকাটি হয়। পরদিন ১২ অক্টোবর সকালে তিনি নিজ ঘরে ঘাস মারার বিষপান করেন। প্রথমে তাঁকে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
সুবর্ণার পরিবারের অভিযোগ, যৌতুকের চাপ, স্বামীর পরকীয়া এবং স্বামী ও শাশুড়ির নির্যাতনের কারণে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। বিষপানের পর রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর স্বামী ও শাশুড়ি তাঁকে সেখানে রেখে তাঁর গহনা ও দুই বছরের শিশুকন্যাকে নিয়ে চলে যান বলেও অভিযোগ করেছেন পরিবারের সদস্যরা। পরে সুবর্ণাকে আবার গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে বুধবার সকালে সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়।
সুবর্ণার বাবা গোলাম মোস্তফা ও ভাই হাফিজুল ইসলাম অভিযোগ করেন, স্বামী ও শাশুড়ির নির্যাতন এবং যৌতুকের চাপের কারণে সুবর্ণা আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। তাঁরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান জানান, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। পুলিশ মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
The post গুরুদাসপুরে স্বামীর নির্যাতনে যৌতুকের বলি গৃহবধূ appeared first on ভোরের চেতনা.
