১১ মিনিট আগে
সর্বশেষ আপডেট: ১১ মিনিট আগে
স্পোর্টস ডেস্ক
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মতো ইউরোপের ঐতিহ্যবাহী ক্লাবের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচ। এমন মঞ্চে আলো ছড়ানোর স্বপ্ন নিশ্চয়ই দেখেছিলেন নিকো পাজ। কিন্তু বাস্তবে যা ঘটল, তা যেন তার কল্পনাকেও ছাড়িয়ে গেছে। জোড়া গোল করার পাশাপাশি আরেকটি গোলে সহায়তা করে ইউনাইটেডকে একাই প্রায় বিধ্বস্ত করেছেন আর্জেন্টাইন এই তরুণ। ৪-১ গোলের ঐতিহাসিক জয়ের পর কোমোর এই ফুটবলার জানালেন, ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা রাতটি কখনো ভুলবেন না তিনি।
বুধবার রাতে ইতালির স্তাদিও জিউসেপ্পে সিনিগালিয়ায় চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ৪-১ গোলে হারিয়েছে কোমো। সেস্ক ফাব্রেগাসের দলের এই জয়ের নায়ক পাজ। ম্যাচের শুরুতেই গোল করে দলকে এগিয়ে দেন তিনি। দ্বিতীয়ার্ধে সতীর্থকে দিয়ে আরেকটি গোল করানোর পর নিজেই করেন দলের তৃতীয় গোল।
ইউরোপের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ক্লাব প্রতিযোগিতায় এমন দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত ২২ বছর বয়সী এই আর্জেন্টাইন। ম্যাচ শেষে স্কাই স্পোর্ট ইতালিয়াকে পাস বলেন, ‘এটি আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সুন্দর ম্যাচগুলোর একটি। এই রাত আমি কখনো ভুলব না।’
নিজের পারফরম্যান্সের চেয়েও দলের এমন সাফল্য তাকে বেশি আনন্দ দিয়েছে। পাজের কথায়, ‘আমি যা স্বপ্ন দেখেছিলাম, এটি তার চেয়েও বেশি কিছু। আমরা অবিশ্বাস্য একটি ম্যাচ খেলেছি। আমাদের এভাবেই এগিয়ে যেতে হবে। কোমোর সঙ্গে জড়িত সবার জন্য এটি ঐতিহাসিক এক রাত।’
ইউনাইটেডের বিপক্ষে ম্যাচের মাত্র তৃতীয় মিনিটেই গোল করেন পাজ। ডি-বক্সের ভেতর বল পেয়ে বাঁ পায়ের দুর্দান্ত বাঁকানো শটে প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক সেন্নে লামেন্সকে পরাস্ত করেন তিনি। বল আশ্রয় নেয় জালের ওপরের কোণায়। প্রথমার্ধে এই এক গোলেই এগিয়ে ছিল কোমো। বিরতির পর ব্যবধান বাড়াতে অবশ্য বেশি সময় লাগেনি স্বাগতিকদের।
৪৯ মিনিটে পাসের নিখুঁত পাস থেকে গোল করেন গ্রিক ফরোয়ার্ড তাসোস দুভিকাস। এরপর ৫৭ মিনিটে আবারও নিজের সামর্থ্য দেখান আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার। মাঝমাঠে কার্লোস বালেবার কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে দ্রুত আক্রমণে উঠে যান তিনি। প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে ডি-বক্সে ঢুকে ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠান।
তাতে স্কোরলাইন হয়ে যায় ৩-০। জোড়া গোলের পর হ্যাটট্রিকের সুযোগও তৈরি করেছিলেন পাজ। তবে তার আরও একটি প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন ইউনাইটেড গোলরক্ষক। ৭৬ মিনিটে জ্যাকোবো রামনের হেডে চতুর্থ গোল পায় কোমো। যোগ করা সময়ে বদলি হিসেবে নামা জশুয়া জিরকজি একটি গোল শোধ করলেও ইউনাইটেডের বড় হার এড়ানোর জন্য তা যথেষ্ট ছিল না।
তিনবারের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে এমন জয় কোমোর জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ক্লাবটির প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ অভিযানে এই জয় স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আর সেই ইতিহাসের কেন্দ্রে থাকলেন পাজ।
তবে ব্যক্তিগত সাফল্য কিংবা বড় প্রতিপক্ষকে হারানোর আনন্দে আত্মতুষ্ট হতে চান না আর্জেন্টাইন তারকা। সতীর্থদেরও একই মানসিকতা ধরে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি, ‘আমাদের এভাবেই এগিয়ে যেতে হবে। কত দূর যেতে পারব, তা নিয়ে ভাবলে চলবে না। প্রতিটি ম্যাচ এমনভাবে খেলতে হবে, যেন সেটিই আমাদের শেষ ম্যাচ।’
ইউনাইটেডের বিপক্ষে নিজের প্রথম গোলটি নিয়েও কথা বলেছেন পাজ। অসাধারণ সেই শট নেওয়ার সময় কী ভাবছিলেন, জানতে চাইলে তার জবাব ছিল বেশ সরল, ‘আমি শুধু ফাঁকা জায়গা দেখেছি এবং শট নিয়েছি। পরিবারের সামনে এমন রাতের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পেরে আমি খুব খুশি।’
আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের এই তরুণের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের বিপরীতে আরও সংকটে পড়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা সাত ম্যাচ জয়হীন মাইকেল ক্যারিকের দল।
