২০১৭ সাল থেকে নিজের বাড়িতে বড় করে লক্ষ্মীপুজো করেন অভিনেত্রী চৈতি ঘোষাল। আলপনা থেকে ভোগ, কোনও কিছুতেই ঘাটতি থাকে না তাঁর পুজোয়। পটুয়াপাড়া থেকে প্রতিমা এনে পুজো করেন প্রতি বছর। কিন্তু এ বার সেই ধারাবাহিকতায় বাধা পড়ল। মন থেকে আড়ম্বর করে লক্ষ্মীপুজো করতে পারছেন না এ বার। চৈতি জানান, গোটা দুর্গাপুজোতেও তাঁর মন উৎসবে মাততে সায় দেয়নি।
দুর্গাপুজো শুরু হওয়ার ঠিক আগেই স্বজনহারা হয়েছেন চৈতি। পিসিকে হারিয়েছেন তিনি। অভিনেত্রীর কথায়, “পিসিকে ঠিক পুজোর আগে হারালাম। লক্ষ্মীপুজোয় পিসির বড় ভূমিকা থাকত প্রতি বছর। তাই ওঁকে ছাড়া কী ভাবে অত হইহই করে লক্ষ্মীপুজো করি?” তবে শুধু সেটাই নয়। আরও কিছু কারণে এ বার মন থেকে পুজোর কোনও অনুভূতিই ছিল না অভিনেত্রীর। তিনি বলেন, “শুরুটা হয়েছে পিসির চলে যাওয়া থেকে। তথাকথিত ‘পুজো ভাইব’ বা পুজোর আবহ এ বার আমি পাইনি। পুজোর আগে থেকেই সারা দেশ জুড়ে এমন সব ঘটনা ঘটছে, বুঝতে পারছি না, এটা সত্যিই আনন্দের সময় কি না।”
১৭ অক্টোবর কলকাতার চোরবাগান পুজো মণ্ডপের ঘটনাতেও ভেঙে পড়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, “বহু দিনের প্রতিশ্রুতি ছিল, তাই একটি পুজোর অনুষ্ঠানে যেতে হয়েছিল। কিন্তু ওই ঘটনা শোনার পরে নতুন করে আর কোথাও যেতে ইচ্ছাই করেনি। ভিতর থেকে মন সায় দেয়নি কিছুই।” চোরবাগানের ঘটনা নিয়েই তিনি আরও বলেন, “মানুষ তো সাজগোজ করে ঠাকুর দেখতে গিয়েছিলেন। আমিও তো আমার ছেলেকে নিয়ে ঠাকুর দেখতে যেতাম। কিন্তু যাঁরা ঠাকুর দেখতে গিয়ে ফিরে এলেন না, তাঁদের পরিবারের কী হবে?”
গত বছর লক্ষ্মীপুজোয় চৈতি ও অমর্ত্য।
এই ভাবনাই তাড়া করে বেড়াচ্ছে চৈতিকে। বামেদের বইয়ের স্টল ভাঙচুর নিয়েও মুখ খোলেন অভিনেত্রী। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “পৌরাণিক বা ধর্মীয় বই হোক বা মার্ক্সীয় দর্শনের বই, গল্পের বই হোক বা প্রবন্ধের, কিন্তু বই নর্দমায় গড়াগড়ি খাচ্ছে, এ কেমন সংস্কৃতি?” এই সব খারাপ লাগার মধ্যে কেবল একটি ইতিবাচক দিকই খুঁজে পেয়েছেন চৈতি। নবমীতে অ্যাকাডেমিতে মঞ্চস্থ হয়েছে তাঁর নাটক ‘রক্তকরবী’। অভিনেত্রীর কথায়, “এত খারাপের মধ্যে ওটুকুই পাওনা। মানুষ হল ভর্তি করে নাটক দেখেছেন। কিন্তু এর বাইরে আর কিছুই ভাল লাগেনি।
প্রতি বছর লক্ষ্মীপুজোয় চৈতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে কাজ করে পুত্র অমর্ত্য। কিন্তু এ বার তিনিও কাজের জন্য মুম্বইয়ে। এ সব কারণ মিলিয়ে এ বছর একেবারে ঘরোয়া আবহে লক্ষ্মীপুজো করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অভিনেত্রী। তবে এই প্রথম নয়। ২০২৪ সালেও আরজি কর কাণ্ডের জেরেও দুর্গাপুজোর আনন্দ থেকে নিজেকে বিরত রেখেছিলেন তিনি। লক্ষ্মীপুজো সে বারও ছিল আড়ম্বরহীন।
