৩ মিনিট আগে
সর্বশেষ আপডেট: ৩ মিনিট আগে
স্পোর্টস ডেস্ক
ফ্র্যাঞ্চাইজি ফুটবল লিগ চালুর প্রথম উদ্যোগ থমকে যাওয়ার এক দশক পর আবার সেই পথে হাঁটছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বিএফএফ)। বড় বাজেটের একটি টুর্নামেন্ট আয়োজনের উদ্দেশ্যে বাফুফে ভবনে ‘বাংলাদেশ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে দেশের ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা।
এর আগে ২০১৬ সালে বেশ ঢাকঢোল পিটিয়ে ‘বাংলাদেশ সুপার লিগ’ (বিএসএল) চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সেটির নেপথ্যে মূল ভূমিকা ছিল শিল্পপতি ও ক্রীড়া সংগঠক তরফদার রুহুল আমিনের। কিন্তু জমকালো আয়োজনে লোগো উন্মোচিত হলেও অবকাঠামোগত ঘাটতির কারণে শেষ পর্যন্ত মাঠে গড়ায়নি টুর্নামেন্টটি।
বাংলাদেশের ফুটবলের পুরোনো বহু সংকট এখনো অমীমাংসিত। এর মধ্যেই আগামী বছর থেকে ‘বাংলাদেশ সুপার লিগ’ (বিডিএসএল) চালুর একটি নতুন প্রস্তাব পেল বাফুফে। তবে সই হওয়া চুক্তিটি বাধ্যবাধকতাহীন (নন-বাইন্ডিং), অসংরক্ষিত (নন-এক্সক্লুসিভ) ও ঐচ্ছিক (নন-অবলিগেটরি)। চূড়ান্ত ও পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব জমা দেওয়ার জন্য যুক্তরাজ্যভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠানটিকে ছয় মাস সময় দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপের নির্বাহী চেয়ারম্যান নাজির আলম নতুন এই উদ্যোগ উপস্থাপন করেন। তার দাবি, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া অঙ্গনে তাদের ২ হাজার কোটি ডলারেরও (২০ বিলিয়ন ডলার) বেশি মূল্যের পোর্টফোলিও রয়েছে। সমঝোতা সই শেষে নাজির জানান, প্রবাসী উদ্যোক্তাদের মালিকানাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে, যাদের আন্তর্জাতিক ফুটবল ও বিনিয়োগ নিয়ে কাজের অভিজ্ঞতা আছে।
উদ্যোগ বাস্তবায়নের পথ যে সহজ নয়, তা মানছেন নাজির। তবে বাণিজ্যিক দিক থেকে বড় সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্বকাপের সময় আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলকে ঘিরে বাংলাদেশিদের আবেগ-উচ্ছ্বাস এবং দেশীয় ফুটবলের ওপর পরিচালিত গবেষণা তাদের আশাবাদী করছে।
প্রস্তাবিত প্রতিযোগিতাটি ১০টি দল নিয়ে একটি ‘হাইব্রিড মডেলে’ আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬টি আঞ্চলিক ফ্র্যাঞ্চাইজি দল এবং দেশের প্রথাগত ৪টি ক্লাব অংশ নেবে। খেলা হতে পারে ডাবল রাউন্ড-রবিন পদ্ধতিতে। মূল টুর্নামেন্টের পাশাপাশি ফুটবল একাডেমি প্রতিষ্ঠা ও অবকাঠামো উন্নয়নকেও রাখা হয়েছে এই মহাপরিকল্পনায়।
বাফুফের নবনির্বাচিত সহসভাপতি ফাহাদ করিম জানান, ফ্র্যাঞ্চাইজির সংখ্যা, বিনিয়োগ পরিকল্পনা, পরিচালনা পদ্ধতি ও আয়োজকদের বিস্তারিত বিবরণ উল্লেখ করে একটি পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রতিষ্ঠানটিকে।
ফাহাদ বলেন, ‘তারা সিলেট, চট্টগ্রাম ও ঢাকার মতো বিভাগ বা জেলা প্রতিনিধিত্বকারী ৫ থেকে ৬টি আঞ্চলিক দল অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে আমাদের সভাপতি শর্ত দিয়েছেন, বিদ্যমান ঘরোয়া লিগের শীর্ষ চার বা পাঁচটি ক্লাবকেও এতে রাখতে হবে।’
অতীতের ব্যর্থ অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নাজির ও ফাহাদ—উভয়েই চ্যালেঞ্জের কথা স্বীকার করেছেন। তবে বাস্তবায়নের মুখ দেখলে এই টুর্নামেন্ট দেশের ফুটবলে নতুন দিগন্ত খুলবে বলেই আশাবাদী তারা।
