চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানার সুলতানপুর গ্রামে জমি জবরদখল, নির্যাতন ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে সাংবাদিক সম্মেলন হয়েছে। এসব ঘটনার কারণে প্রায় ১৭ বছর ধরে নিজ গ্রাম ছেড়ে জীবননগরে আশ্রয় নিয়ে বসবাস করছেন বলে অভিযোগ করেছেন আনারুল ইসলাম নামের এক কৃষক।
তার দাবি, পৈতৃক ও ওয়ারিশসূত্রে পাওয়া জমি দখল করে নেওয়ার পাশাপাশি তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়েছে। এ ঘটনায় একাধিক মামলা-মোকদ্দমা হলেও তিনি এখনো জমি ফিরে পাননি।
ওই ব্যক্তি হলেন সুলতানপুর গ্রামের মৃত ইসাহাক দফাদারের ছেলে মো. আনারুল ইসলাম। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে দর্শনা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
লিখিত বক্তব্যে আনারুল ইসলাম জানান, সুলতানপুর ও কামারপাড়া মৌজায় তাঁর এবং তার ছয় বোনের নামে থাকা জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। তার অভিযোগ, প্রায় ১৬ থেকে ১৭ বছর আগে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি জোরপূর্বক তাদের জমি দখল করে নেন। জমি উদ্ধারের চেষ্টা করেও প্রতিকার না পেয়ে এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে তিনি গ্রাম ছেড়ে জীবননগর উপজেলার নারায়ণপুর এলাকায় বসবাস শুরু করেন।
আনারুলের দাবি, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে তাকে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি দেখানো ও নির্যাতন করা হয়েছে। প্রাণনাশের আশঙ্কায় নিজ বসতভিটা ছেড়ে থাকতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। দীর্ঘদিন পরিবার ও নিজস্ব জমিজমা থেকে বিচ্ছিন্ন থাকায় আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলেও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জমিসংক্রান্ত একাধিক দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলার কথা উল্লেখ করেন। লিখিত বক্তব্যে মামলার নম্বর ও বিভিন্ন আদালতের রায়ের তথ্য তুলে ধরে আনারুল দাবি করেন, জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া চললেও বাস্তবে তিনি তার জমির অধিকার ফিরে পাননি। আদালতের রায় ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের আলোকে বিষয়টি পুনরায় তদন্ত করে দেখার দাবি জানান তিনি।
আনারুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে দেশে জনবান্ধব সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করছে। এ পরিস্থিতিতে তার নামে থাকা দলিল এবং ওয়ারিশসূত্রে পাওয়া জমির কাগজপত্র যাচাই করে দখল হয়ে যাওয়া জমি উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চান তিনি। একই সঙ্গে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও দাবি জানান।
