এইতো সেদিনের কথা -চোখের সামনে আব্বুর সেই টকটকে ফর্সা চেহারাটা এখনো যেন রঙিন ছবির মতো ভাসে। হালকা এক চিলতে গোঁফ, প্রাণবন্ত হাসি।কিন্তু আজ? সেই চেনা মুখটাতে বিষাক্ত ক্যানসার, কেমোথেরাপি আর রেডিওথেরাপির নীল ছায়া।।ভদ্রলোকের ফুসফুসের ক্যান্সার উইথ বোন মেটাস্টাসিস। কখনো মুখ দিয়ে রক্ত ওঠে,কখনো জ্বরে থরথর করে কাপতে থাকে। থার্মোমিটার আর রিপোর্টের পাতাগুলো যখন খেলা করে—প্লাটিলেট ১৫,০০০, হিমোগ্লোবিন ৫.৫.তখন সময় যেন থেমে থাকে থমথমে এক স্ট্রেচারে।ব্যথায় কাতর হয়েও হঠাৎ আমাকে বলে ওঠে তুমি আমার জন্য অনেক দৌড়াদৌড়ি, অনেক কষ্ট করতেছো। কিন্তু তুমি তোমার ক্যারিয়ারে ফোকাস কর।তুমি বিদেশে পিএইচডির জন্য যাও। আমি ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকি আর মনে মনে ভাবি জান্নাত কিনার এই সুযোগ হাতছাড়া করি কিভাবে? তাকে বুঝ দেই বিসিএস ক্যাডারে টিকছি আমার পিএইচডি না করলেই বা কি?
কিন্তু বিধাতার নাটকের শেষ অংক তখনও বাকি ছিল!
৪৫তম বিসিএসের এই দীর্ঘ পাঁচ বছরের রক্তঝরা মহাকাব্যিক পথচলা শেষে—চূড়ান্ত গেজেটে আমার নামটা আর লেখা হলো না। আচ্ছা এই সংক্ষিপ্ত জীবনে এতো বঞ্চনা, এতো বৈষম্য করে কার কি লাভ? রিজিকের ফয়সালা কি আপনি করতে পারবেন? কিন্তু সেটা তো আসমানে হয় জমিনে না।
আচ্ছা আপনারা কি ভাবছেন? আমার কি মন খারাপ? ভীষণ খারাপ?সত্যি বলতে আমার কেনো জানি হাসি পাচ্ছে-অট্টহাসি।আচ্ছা এভাবে কি একটা সিস্টেম চলতে পারে?
না আমি বলবো না যে আমাকে আমার প্রাপ্য বুঝিয়ে দেন, গেজেটের জন্য উচ্চবাক্যও করবো না আমি।দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আজ আমি ক্লান্ত।আমি চুপ করে থাকবো-বোবার মত।সহ্য করে যাবো।কারণ সহ্য যে আমাকে করতেই হবে- এই দেশে যে জন্মেছি।
মো সানি মেরাজ জিহান
৪৫ তম-বিসিএস গণপূর্ত ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত
বাট নট গেজেটেড।
