Published on
:
2 min read
রাজ আমলের ঐতিহ্য ও প্রাচীন রীতি মেনে সম্পন্ন হলো কোচবিহারের ঐতিহাসিক বড় দেবীর বিসর্জন। দেবীর দশমী পুজো দিয়ে শুরু হয় দিনের আচার। ভক্তরা মাকে সিঁদুর পরিয়ে দেন। এর পর শুরু হয় জমজমাট সিঁদুর খেলা। সমস্ত প্রথা মেনে মন্দির থেকে প্রতিমা বের করে কোচবিহারের যমুনা দিঘিতে বিসর্জন দেওয়া হয়। শতাব্দী প্রাচীন এই বিদায়পর্বকে ঘিরে গোটা কোচবিহার জুড়ে আবেগঘন পরিবেশ।
প্রতি বছরের মতো এ বারও সকাল থেকে দেবী বাড়ি চত্বরে প্রচুর মহিলা ভিড় করেন। মাকে সিঁদুর পরিয়ে বিদায় জানানোর পরে তাঁরা নিজেরা মেতে ওঠেন সিঁদুর খেলায়। চারদিকে ছিল উৎসবের মেজাজ। কিন্তু তার ভিতরেই বেজে ওঠে বিদায়ের সুর। একদিকে সিঁদুরের রঙে রাঙা আনন্দ, অন্যদিকে মায়ের বিদায়ের ক্ষণে বহু ভক্তের চোখে জল। দেবী বাড়ি মন্দির থেকে প্রতিমা একটি ট্রলিতে তোলা হয়। স্থানীয় ক্লাবের যুবক ও সাধারণ মানুষ সেই ট্রলি দড়ি দিয়ে টেনে যমুনা দিঘির ঘাটে নিয়ে যান। সেখানেই নিয়মানুযায়ী বিসর্জন হয়।
বড় দেবী প্রতিমা বিসর্জনের পাশাপাশি মায়ের ঘটটি নিয়ে যাওয়া হয় শহরের মদনমোহন মন্দিরে। সেখানে কাঠামিয়া দুর্গা মা, মা ভবানী এবং বড় দেবী—এই তিন দেবীর ঘটের জল একসঙ্গে মেশানো হয়। এর পর সেই পবিত্র শান্তিজল উপস্থিত সমস্ত ভক্তদের ওপর ছিটিয়ে দেওয়া হয়।
রাজ পুরোহিত হীরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, এ দিন মন্দিরে বিশেষ অপরাজিতা পুজো অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেই পুজোয় পাঁঠা, পায়রা, মাগুর মাছ, চালকুমড়ো এবং আখ বলি দেওয়ার প্রাচীন রীতি পালন করা হয়। এর পর বিকেল তিনটে নাগাদ তোর্সা নদীর ঘাটে কাঠামিয়া দুর্গা মাকে নিয়ে নৌকাবিহার করানো হবে এবং তার পর সেখানে তাঁর বিসর্জন হবে।