গাজীপুরের টঙ্গীতে সাত বছর বয়সী এক ছাত্রীকে চুমু দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ক্করীউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসায় হামলা, ভাঙচুর, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মারধর ও টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে।
মাদরাসা কর্তৃপক্ষের দাবি, ঘটনার সময় অফিসকক্ষের একটি ড্রয়ারে জমি কেনার জন্য রাখা নগদ ১৭ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার ভিডিও মাদরাসার সিসিটিভি ক্যামেরায় সংরক্ষিত রয়েছে বলেও দাবি করেছেন তাঁরা।
এই ঘটনায় শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মাদরাসা প্রাঙ্গনে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সভা করেছে জাতীয় খতিব ফাউন্ডেশন।
এসময় তারা বলেন, যেকোনো অভিযোগ থাকলে তা দেশের প্রচলিত আইনে বিচার হবে। আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে হামলা, ভাঙচুর ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মারধর কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁরা এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
সভায় উপস্থিত ছিলেন শানে শাহাবা খতিব ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুফতি শামীম মজুমদার, প্রাইভেট মাদ্রাসা ঐক্য পরিষদের সভাপতি মুফতি আরিফুল ইসলাম, ইত্তেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া গাজীপুর মহানগরের সভাপতি মুফতি আব্দুল মমিন এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিম হোসেন।
পুলিশ জানায়, এঘটনায় টঙ্গী পশ্চিম থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। শিশুটিকে চুমু দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় অভিযুক্ত খণ্ডকালীন শিক্ষক মো. মোসলেম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আদালতের নির্দেশে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে মাদরাসায় হামলা ও টাকা লুটের মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
এ বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, প্রথম শ্রেণির এক ছাত্রীকে চুমু দেওয়ার অভিযোগে শিশুটির বাবার করা মামলায় খণ্ডকালীন শিক্ষক মোসলেম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
মাদরাসায় হামলা, ভাঙচুর, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মারধর ও টাকা লুটের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ বাদী হয়ে পৃথক আরেকটি মামলা করেছেন। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।
অপর দিকে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও চলছে আলোচনার ঝড়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং হামলা ও টাকা লুটের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
