আর্দা গুল্যার ও কিলিয়ান এমবাপের চোখধাঁধানো গোলে সাত মিনিটের ব্যবধানে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় রিয়াল মাদ্রিদ। বিরতির পর পানেনকা কায়দায় পেনাল্টি থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন এমবাপে। শেষ দিকে ইয়ান ডিওমান্ডের দুর্দান্ত গোলে সেভিয়াকে ৪-১ ব্যবধানে হারিয়ে লা লিগার শীর্ষস্থানীয় দলগুলোর সঙ্গে ব্যবধান কমিয়েছে জুজে মরিনিয়োর দল।
রোববার রাতে সান্তিয়াগো বের্নাবেউয়ে অনুষ্ঠিত ম্যাচে স্বাগতিকদের হয়ে গোল করেন গুল্যার, এমবাপে ও ডিওমান্ডে। সেভিয়ার একমাত্র গোলটি করেন মানু বুয়েনো। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বুধবার লাইপজিগের বিপক্ষে এবং লা লিগায় আগামী রোববার বার্সেলোনার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে এই জয় রিয়ালকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাবে।
৯ ম্যাচে সাত জয় ও ২১ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে মরিনিয়োর দল। তাদের চেয়ে এক পয়েন্ট বেশি নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আতলেতিকো মাদ্রিদ। ২৭ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে বার্সেলোনা। শুরুতে কয়েকবার রেয়ালের রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করে সেভিয়া।
১৬তম মিনিটে গোলের কাছাকাছি পৌঁছেও হতাশ হতে হয় সফরকারীদের। বক্সের ভেতর থেকে রুবেন ভার্গাসের জোরালো হাফ ভলি পোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে যায়।
ধীরে ধীরে নিজেদের গুছিয়ে নেয় রিয়াল। ২১তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে এন্দ্রিকের নিচু শট সরাসরি গোলরক্ষকের হাতে যায়। দুই মিনিট পর বাঁ দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে ডিওমান্ডের নেওয়া শট লাগে পাশের জালে। ওই আক্রমণের সময় মাঝমাঠে গুল্যারের কনুইয়ের আঘাতে মাটিতে পড়ে যান সেভিয়ার ফের্নান্দেস।
তাঁকে টেনে তুলতে যান রেয়ালের ডিফেন্ডার ডিন হাউসেন। পরে দুই দলের একজন করে খেলোয়াড়কে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। এ ঘটনায় বেশ কিছুক্ষণ খেলা বন্ধ থাকে।
৩০তম মিনিটে দারুণ এক গোলে রিয়ালকে এগিয়ে দেন গুল্যার। ডিওমান্ডের পাস পেয়ে বক্সের ঠিক বাইরে থেকে বাঁ পায়ের বাঁকানো শটে বল জালে পাঠান তুরস্কের এই মিডফিল্ডার। তিন মিনিট পর ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিলেন এমবাপে।
ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে তাঁর নেওয়া শট ঝাঁপিয়ে ঠেকান সেভিয়ার গোলরক্ষক। তবে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি রিয়াল সমর্থকদের। এরপরই অসাধারণ এক গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ফরাসি তারকা।
ডান দিক থেকে ডিওমান্ডের বাড়ানো বল জুড বেলিংহ্যাম ব্যাকহিল ফ্লিকে এমবাপের দিকে পাঠান। বক্সে ঢোকার মুখে প্রায় ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে বল নিয়ন্ত্রণে নেন এমবাপে। এরপর প্রতিপক্ষের এক ডিফেন্ডার ও গোলরক্ষককে কাটিয়ে বল জালে জড়ান তিনি।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে দুর্দান্ত সেভে রেয়ালের জাল অক্ষত রাখেন তিবো কোর্তোয়া। বক্সের ভেতর থেকে সেভিয়ার এক খেলোয়াড়ের নিচু শট ঝাঁপিয়ে এক হাতে আটকে দেন বেলজিয়ান গোলরক্ষক। দ্বিতীয়ার্ধের দশ মিনিট পর গোলের সুযোগ নষ্ট করেন ডিওমান্ডে। এমবাপের পাস ধরে বক্সে ঢুকলেও তাঁর শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
৬৩তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন এমবাপে। বক্সের মধ্যে তাঁকে ফাউল করায় পেনাল্টি দেন রেফারি।
স্পটকিক থেকে পানেনকা কায়দায় বল জালে পাঠান ফরাসি ফরোয়ার্ড। চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে রেয়ালের হয়ে ১১ ম্যাচে এমবাপের গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১। এর মধ্যে লা লিগায় করেছেন ৯ গোল। ৮০তম মিনিটে মানু বুয়েনোর গোলে ব্যবধান কমায় সেভিয়া।
দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে নামা এই খেলোয়াড়ের নিচু শটে ম্যাচে সাময়িক উত্তেজনা ফিরে আসে। তবে দুই মিনিট পরই সেই উত্তেজনা শেষ করে দেন ডিওমান্ডে। মাঝমাঠ থেকে অহেলিয়া চুয়ামেনির পাস পেয়ে বাঁ দিক দিয়ে এগিয়ে যান তিনি।
সামনে থাকা প্রতিপক্ষের দুই খেলোয়াড়কে পেছনে ফেলে বক্সের বাইরে থেকে জোরালো শটে বল জালে পাঠান ১৯ বছর বয়সী এই ফুটবলার। এই হারে আসরে তৃতীয় পরাজয়ের মুখ দেখল সেভিয়া। ৯ ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে দলটি।
ডিসি/আপ্র/১৯/১০/২০২৬
