ঢাকার ধামরাইয়ে এক প্রতিবন্ধী তরুণীকে (২২) বাড়িতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। ঘটনার পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ এখনো প্রধান অভিযুক্ত রবিন হোসেনকে (৩০) গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
গত শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার কুশুরা ইউনিয়নের ভুড়বাড়িয়া গ্রামের একটি বাড়িতে এ ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণীর বাবা বাদী হয়ে গত কয়েক দিন আগে ধামরাই থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
অভিযুক্ত রবিন হোসেন একই গ্রামের মহিউদ্দিনের ছেলে। তিনি বিবাহিত এবং পেশায় একজন কৃষক বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার সকালে ভুক্তভোগী তরুণীর বাবা বাড়ির পাশের জমিতে কৃষিকাজে যান। এই সুযোগে ওই তরুণী জুতা কেনার জন্য বাড়ির কাছের একটি ভ্যানের কাছে গেলে অভিযুক্ত রবিন তাকে ‘তার মা ডাকছেন’ বলে কৌশলে নিজের বাড়িতে ডেকে নিয়ে যান। পরে বাড়ির একটি ফাঁকা কক্ষে নিয়ে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়।
এ সময় ভুক্তভোগীর চিৎসকার ও কান্নাকাটি শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে রবিন পালিয়ে যান। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসা শেষে গত বৃহস্পতিবার তাকে বাড়িতে আনা হয়।
ভুক্তভোগীর বাবা বলেন, ‘আমি গরিব মানুষ, মাঠে কৃষিকাজ করে সংসার চালাই। আমার সরল-সোজা প্রতিবন্ধী মেয়েটাকে একা পেয়ে এই পশুটি যা করল, আমি তার ফাঁসি ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। মামলা করেছি পাঁচ দিন হলো, কিন্তু পুলিশ এখনো আসামিকে ধরতে পারছে না। আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছি।’
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ধামরাই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. লিয়াকত খান বলেন, ‘প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই আসামি রবিন হোসেন পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। খুব দ্রুতই তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
