জীবনে কখনো কখনো মানুষ শত্রুর ভয়, অন্যের ষড়যন্ত্র, অন্যায়-অত্যাচার কিংবা সম্ভাব্য বিপদের আশঙ্কায় মানসিক অস্থিরতায় ভোগে। এমন পরিস্থিতিতে একজন মুমিনের প্রধান আশ্রয় হলেন মহান আল্লাহ। তার কাছে সাহায্য চাওয়া, নিয়মিত দোয়া করা এবং কুরআন-সুন্নাহর নির্দেশনা অনুসরণ করা মুমিনের ইমানি দায়িত্ব।
রাসুলুল্লাহ আমাদের শিখিয়েছেন, বিপদের আশঙ্কায় আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতে হবে এবং সকাল-সন্ধ্যায় নিয়মিত কিছু সুরা ও দোয়া পাঠ করতে হবে। শত্রুর অনিষ্ট থেকে বাঁচতে নবীজি (সা.)-এর শেখানো একটি বিশেষ দোয়া এবং তিন কুল পাঠের আমল সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
১. শত্রুর অনিষ্ট থেকে বাঁচতে নবীজি (সা.)-এর বিশেষ দোয়া
শত্রুর আক্রমণ, ক্ষতি কিংবা অনিষ্টের আশঙ্কা হলে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চেয়ে নিচের দোয়াটি পড়া যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে বর্ণিত দোয়াটি হলো—
اللَّهُمَّ إِنَّا نَجْعَلُكَ فِي نُحُورِهِمْ، وَنَعُوذُ بِكَ مِنْ شُرُورِهِمْ
উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা ইন্না নাঝআলুকা ফি নুহুরিহিম, ওয়া নাঊজু বিকা মিন শুরুরিহিম।’
অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমরা আপনাকেই তাদের মোকাবিলায় রাখছি এবং তাদের অনিষ্ট থেকে আপনার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।’
এই দোয়ায় আল্লাহর ওপর নির্ভরতা এবং শত্রুর অনিষ্ট থেকে তার আশ্রয় চাওয়ার বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। ভয়, হুমকি বা অন্যায়ের আশঙ্কার সময় আন্তরিকতার সঙ্গে দোয়াটি পড়া যায়। (আবু দাউদ ১৫৩৭, নাসাঈ ৫৫০২)
২. শত্রুর ষড়যন্ত্র ও অনিষ্ট থেকে সুরক্ষায় তিন কুল পাঠ
সকাল-সন্ধ্যায় নিয়মিত আমলের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি হলো সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক ও সুরা নাস পাঠ করা। এই তিনটি সুরাকে একত্রে সাধারণভাবে ‘তিন কুল’ বলা হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) সকাল ও সন্ধ্যায় এগুলো তিনবার করে পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে খুবাইব (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে বলেন—
قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ وَالْمُعَوِّذَتَيْنِ حِينَ تُمْسِي وَحِينَ تُصْبِحُ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ تَكْفِيكَ مِنْ كُلِّ شَيْءٍ
‘সন্ধ্যায় ও সকালে তিনবার সুরা ‘কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ’ এবং দুই আশ্রয় প্রার্থনার সুরা (সুরা ফালাক ও সুরা নাস) পাঠ করবে। সবকিছুর মোকাবিলায় তা তোমার জন্য যথেষ্ট হবে।’ (আবু দাউদ ৫০৮২)
৩. ভয় ও বিপদের সময় কুরআনের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা
শত্রুর ভয় কিংবা কঠিন পরিস্থিতিতে মুমিনের উচিত আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা। পবিত্র কুরআনে মুমিনদের দৃঢ় নির্ভরতার একটি সুন্দর উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে। তা হলো—
حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ
উচ্চারণ: ‘হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি‘মাল ওয়াকিল।’
অর্থ: ‘আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট, আর তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।’ (সুরা আল-ইমরান: আয়াত ১৭৩)
এই বাক্যটি আল্লাহর ওপর ভরসা ও নির্ভরতার শিক্ষা দেয়। বিপদের আশঙ্কায় এটি পাঠ করে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া যায়। পাশাপাশি বাস্তব বিপদ থেকে বাঁচতে প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও বৈধ পদক্ষেপ গ্রহণ করাও জরুরি।
শত্রুর ভয়, অন্যায়ের আশঙ্কা কিংবা ষড়যন্ত্রের মুখে একজন মুমিনের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো আল্লাহর ওপর অবিচল আস্থা রাখা। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো দোয়া পাঠ করা, সকাল-সন্ধ্যায় সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক ও সুরা নাস তিনবার করে পড়া এবং ‘হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি‘মাল ওয়াকিল’ বলা— এসব আমল মুমিনকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতে ও তার ওপর ভরসা রাখতে শেখায়।
তবে দোয়া ও আমলের পাশাপাশি বিপদের বাস্তব কারণগুলো মোকাবিলা করাও প্রয়োজন। কেউ হুমকি দিলে বা আক্রমণের আশঙ্কা থাকলে নিরাপদ স্থানে যাওয়া, বিশ্বস্ত মানুষের সহায়তা নেওয়া এবং প্রয়োজন হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাহায্য চাওয়া উচিত। দোয়া কখনোই প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও নিরাপত্তাব্যবস্থার বিকল্প নয়।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সব ধরনের অনিষ্ট, অন্যায়-অত্যাচার ও বিপদ থেকে হেফাজত করুন। আমাদের অন্তরে সাহস, ইমান ও তার ওপর পূর্ণ ভরসা দান করুন। আমিন।