প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও নার্সের অভাব, সঙ্গে চিকিৎসা সরঞ্জামের তীব্র সংকট- নানা সমস্যায় জর্জরিত হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শত শত মানুষ অসুস্থতা নিয়ে এসে কাক্সিক্ষত সেবা না পেয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। হাসপাতালটিকে কাগজে-কলমে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও বাস্তবে এটি এখনও পরিচালিত হচ্ছে ৩১ শয্যার পুরনো কাঠামো ও সীমিত জনবল দিয়ে। ফলে শয্যাসংখ্যার তুলনায় রোগীর বাড়তি চাপ সামলাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ৭০ জনেরও বেশি রোগী ভর্তি থাকেন। কিন্তু চিকিৎসাসেবা প্রদানের মূল চালিকাশক্তি জনবলের এখানে ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী চারজন কনসালট্যান্টসহ মোট ৩৬ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র ১১ জন। বিশেষ করে মেডিসিন, সার্জারি ও গাইনি বিভাগের মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো দীর্ঘদিন ধরে খালি পড়ে রয়েছে। অন্যদিকে, ২৫ জন নার্সের পদের বিপরীতে আছেন মাত্র ১৬ জন।
চিকিৎসকের ঘাটতির পাশাপাশি হাসপাতালটির অন্যতম বড় সমস্যা আধুনিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ না থাকা। দামি যন্ত্রপাতি থাকা সত্ত্বেও দক্ষ জনবলের অভাবে তা তালাবদ্ধ ঘরে পড়ে রয়েছে। সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালটিতে একাধিকবার ইসিজি ও আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন সরবরাহ করা হলেও সংশ্লিষ্ট টেকনিশিয়ান না থাকায় রোগীরা বাইরে থেকে বেশি খরচে এসব পরীক্ষা করাতে বাধ্য হচ্ছেন।
আবার ঠিক বিপরীত চিত্র দেখা গেছে ডেন্টাল বিভাগে। সেখানে ডা. সাখাওয়াত হোসেন ও ডা. আফসানা বেগম নামের দুজন ডেন্টাল চিকিৎসক কর্মরত থাকলেও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামো না থাকায় তাদের মেধা ও দক্ষতাকে কাজে লাগানো যাচ্ছে না। যন্ত্রপাতি ছাড়া সাধারণ পরামর্শ দিয়েই তাদের দিন পার করতে হচ্ছে।
সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কাজী শামসুল আরেফিন বলেন, ‘স্বল্প জনবল ও সীমাবদ্ধ অবকাঠামো নিয়ে ৫০ শয্যার একটি হাসপাতাল পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন। ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি রোগী ভর্তি থাকেন। আমাদের সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও ইসিজি ও আলট্রাসনোগ্রামের মতো সেবাগুলো জনবলের অভাবে দেওয়া যাচ্ছে না। আবার ডেন্টাল সার্জন থাকলেও সরঞ্জামের অভাবে পূর্ণাঙ্গ সেবা ব্যাহত হচ্ছে।’
তিনি আরও জানান, জনবল নিয়োগ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বরাদ্দের জন্য ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। উপজেলার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সঠিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত এসব সমস্যার সমাধান প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
