কক্সবাজারের ইনানী পাটোয়ারটেক এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন আরও সাত জন। এরমধ্যে নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের আট জন রয়েছেন।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৭টায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটে। বেলা ১১টার দিকে আগুন পুরোপুরি নেভানো হয় বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া কর্মকর্তা তালহা বিন জসীম।
স্থানীয়দের ভাষ্য, শনিবার সকাল সাতটার দিকে রিসোর্টটির রান্নাঘর থেকে বিকট শব্দ শোনা যায়। এর পরপরই সেখানে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো রিসোর্টে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় ভেতরে থাকা ব্যক্তিরা বিপাকে পড়েন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছে, টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টটি কাঠের তৈরি। এতে মোট রুম ছিল ৯টি। গতকাল শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাতে তিন রুমের পর্যটক চেকআউট হয়ে চলে যান। বাকি ৬ রুমে ১৬ জন পর্যটক অবস্থান করছিলেন।
রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের দাবি, অগ্নিকাণ্ডের সময় ছয়টি কক্ষে ১৮ জন পর্যটক অবস্থান করছিলেন। রেফ্রিজারেটরের বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে তাদের ধারণা। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
রিসোর্টটির বেশির ভাগ অংশ কাঠ দিয়ে তৈরি হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভবনের পেছনের অংশ ইট দিয়ে নির্মিত। প্রতিটি কক্ষে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) ও রেফ্রিজারেটর থাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি আরও বেড়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।
এ দিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঘটনায় কোনও ধরনের অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান।
তিনি বলেন, নিহতদের পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে। পাশাপাশি রিসোর্টটির প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে পুলিশ অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও সার্বিক পরিস্থিতি তদন্ত করছে।
