Published on
:
2 min read
ভারতের (India) হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পরেও জায়গা পাকা করতে পারেননি। দল থেকে বাদ পড়া, ঘরোয়া ক্রিকেটে সুযোগ না পাওয়া এবং খারাপ ফর্ম— একসঙ্গে একাধিক ধাক্কা সামলাতে হয়েছিল তাঁকে। সেই কঠিন সময়ে দেড় বছর অবসাদে ভুগেছিলেন ভারতের প্রাক্তন লেগ স্পিনার অমিত মিশ্র (Amit Mishra)। মনের কথা বলার মতো কাউকে পাশে পাননি। সম্প্রতি প্রাক্তন ভারতীয় ওপেনার তথা ধারাভাষ্যকার আকাশ চোপড়ার (Aakash Chopra) সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে কেরিয়ারের সেই কঠিন অধ্যায়ের কথা প্রকাশ্যে এনেছেন তিনি।
‘কী ভুল করেছিলাম, শুধু সেটাই ভাবতাম’
২০০৩ সালে একদিনের ক্রিকেটে ভারতের হয়ে অভিষেক হয়েছিল অমিতের। কিন্তু তার পরেই দল থেকে বাদ পড়েন তিনি। জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ার ধাক্কা সামলানোর পাশাপাশি ঘরোয়া ক্রিকেটেও একের পর এক সুযোগ হারাতে থাকেন। ফর্মও ভালো যাচ্ছিল না। সব মিলিয়ে মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিলেন এই লেগ স্পিনার। অমিত বলেন, ‘আমি দেড় বছর অবসাদে ভুগেছি। বারবার ভাবতাম, আমি কী ভুল করেছি? বিভিন্ন জায়গায় খেলছিলাম, কিন্তু মাথায় একটাই প্রশ্ন ঘুরত— আমি কী এমন ভুল করেছিলাম যে আমার সঙ্গে এ রকম হচ্ছে?’
‘খারাপ সময়ে কথা বলার মতো কেউ ছিল না’
ভারতের হয়ে খেলার পর দল থেকে বাদ পড়েছিলেন অমিত। এর পর দলীপ ট্রফিতেও জায়গা পাননি। জ়োনাল প্রতিযোগিতার জন্য ভারতীয় ‘এ’ দলেও সুযোগ হয়নি তাঁর। কেন এমন হচ্ছে, কিছুতেই বুঝতে পারছিলেন না তিনি। একটা মরশুম খারাপ যাওয়ার পর এক নির্বাচক তাঁকে জানিয়ে দেন, তাঁর পারফরম্যান্স ভালো হচ্ছে না। অমিতের বলেন, ‘ভারতের হয়ে খেলার পর বাদ পড়লাম। তার পর দলীপ ট্রফিতে জায়গা পেলাম না। জ়োনাল প্রতিযোগিতার জন্য ভারতীয় এ দলেও সুযোগ হয়নি। কী হচ্ছে, কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। একটা মরশুম খারাপ গেল। এর পর এক নির্বাচক আমাকে বলেছিলেন, আমি ভালো পারফর্ম করছি না। তখন বসে ভাবলাম, বুঝতে পারলাম, আমি শুধু ভারতের হয়ে খেলার কথা ভাবছিলাম। কিন্তু ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো পারফর্ম করতে পারছিলাম না।’
সেই সময় নিজের মনের কথা পরিবারের সঙ্গেও ভাগ করে নিতে পারেননি অমিত। তাঁর আশঙ্কা ছিল, সব কথা জানালে পরিবারের লোকজন আরও বেশি চিন্তায় পড়ে যাবেন। ফলে কঠিন পরিস্থিতিতে একাই লড়াই করতে হয়েছিল তাঁকে। অমিত বলেন, ‘সত্যি বলতে, খারাপ সময়ে কথা বলার মতো কেউ ছিল না। পরিবারকেও কিছু বলতে পারিনি। কারও সঙ্গে এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করতে পারতাম না। নিজের লড়াই নিজেকেই লড়তে হয়েছে। তবে বুঝতে পেরেছিলাম, ভালো পারফর্ম না করলে কিছুই বদলাবে না। আমাকে ব্যাটিংয়েও উন্নতি করতে বলা হয়েছিল। সেটাও নিয়ে কাজ শুরু করি।’
২০০৮ সালে জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তন, আইপিএলেও নজির
পরিশ্রমের ফল পেতে অবশ্য বেশি দেরি হয়নি। একটি মরশুমে ভালো পারফর্ম করার পর দলীপ ট্রফিতে সুযোগ পান অমিত। তখনই বুঝতে পারেন, জাতীয় দলে ফেরার পথ তৈরি করতে হলে ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক ভাবে ভালো খেলতে হবে। তিনি বলেন, ‘এক মরশুমে মোটামুটি ভালো খেলেছিলাম। তার পর দলীপ ট্রফিতে সুযোগ পাই। তখন বুঝতে পারি, এ ভাবেই এগোতে হবে। আমার কোনও গডফাদার ছিল না। তাই জানতাম, বারবার নিজেকে প্রমাণ করতে হবে। আমার কোচও আমাকে এই কথাই বলেছিলেন।’
২০০৮ সালের অক্টোবরে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক হয় অমিতের। এর পর ভারতের হয়ে ২২টি টেস্ট, ৩৬টি একদিনের ম্যাচ এবং ১০টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন তিনি। শুধু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেই নয়, আইপিএলেও সফল অমিত। ১৬২টি ম্যাচে তাঁর ঝুলিতে রয়েছে ১৭৪টি উইকেট। আইপিএলের ইতিহাসে একমাত্র বোলার হিসেবে তিনটি হ্যাটট্রিক করার নজিরও রয়েছে তাঁর। কেরিয়ারের শুরুর দিকে দেড় বছরের মানসিক লড়াই পেরিয়ে এ ভাবেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন ভারতের এই প্রাক্তন স্পিনার।