আবুধাবির প্রচণ্ড গরমে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট জয়ের স্বপ্ন পূরণ হয়নি বাংলাদেশের। তবে একটি হ্যাটট্রিকেই পাল্টে গেছে অনেক কিছু। সেই ইতিহাসের নায়ক হাসান মাহমুদ এবার নিজের নাম তুলেছেন আইসিসির র্যাঙ্কিংয়ের আলোচনাতেও। আফগানিস্তানের বিপক্ষে আবুধাবি টেস্টে বাংলাদেশের প্রথম পেসার হিসেবে হ্যাটট্রিক করার পর বোলারদের তালিকায় সাত ধাপ এগিয়েছেন তিনি!
শুধু হাসান নন, একই ম্যাচে বল হাতে আলো ছড়ানো ইবাদত হোসেনও পেয়েছেন বড় স্বীকৃতি। ফলে জয়হীন টেস্টের পরও বাংলাদেশের পেসারদের জন্য এসেছে সুখবর!
আজ বুধবার প্রকাশিত আইসিসির সর্বশেষ সাপ্তাহিক র্যাঙ্কিংয়ে হাসান মাহমুদের অবস্থান এখন ৩৮তম। সাত ধাপের এই উন্নতিতে নিজের ক্যারিয়ারসেরা অবস্থানে ফিরে এসেছেন ডানহাতি পেসার। এর আগে গত আগস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভালো বোলিং করে প্রথমবার এই অবস্থানে উঠেছিলেন তিনি। আবুধাবিতে আবারও নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে সেই জায়গা পুনরুদ্ধার করলেন।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টটি হাসানের ক্যারিয়ারে আলাদা করে মনে রাখার মতো। প্রথম ইনিংসে পরপর তিন উইকেট নিয়ে হ্যাটট্রিকের কীর্তি গড়েন তিনি। বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে পেসারদের মধ্যে এমন কীর্তি ছিল না। হ্যাটট্রিকের পাশাপাশি প্রথম ইনিংসে পাঁচ উইকেট এবং দ্বিতীয় ইনিংসে আরও একটি উইকেট নিয়ে ম্যাচে নিজের কার্যকারিতা প্রমাণ করেন এই পেসার। সেই পারফরম্যান্সের প্রতিফলন পড়েছে র্যাঙ্কিংয়েও।
হাসানের সাফল্যের পাশে সমানভাবে জায়গা করে নিয়েছেন ইবাদত হোসেন। আবুধাবির কঠিন কন্ডিশনে দুই ইনিংস মিলিয়ে সাত উইকেট শিকার করেন তিনি। তার বোলিংয়ের পুরস্কার হিসেবে টেস্ট বোলারদের তালিকায় ১১ ধাপ এগিয়েছেন। বর্তমানে ৬৭তম স্থানে রয়েছেন এই পেসার।
ইবাদতের এই সাফল্যকে ঘিরে রয়েছে ব্যক্তিগত আবেগের এক কঠিন অধ্যায়। টেস্ট চলাকালীন তার চাচা মারা যান। এমন শোকের মুহূর্তেও দলের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকে আবুধাবিতে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এরপর মাঠে নেমে সাত উইকেট শিকার করে দলের জন্য অবদান রাখেন। তার এই মানসিক দৃঢ়তা ও পারফরম্যান্স তাই র্যাঙ্কিংয়ের সংখ্যার চেয়েও বেশি গুরুত্ব বহন করে।
বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে আরও উন্নতি হয়েছে মেহেদী হাসান মিরাজের। চার উইকেটের সুবাদে এক ধাপ এগিয়ে ২২তম স্থানে উঠেছেন তিনি। তবে তিন ধাপ পিছিয়ে ১৮তম স্থানে নেমেছেন তাইজুল ইসলাম। তারপরও বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে সবার ওপরে রয়েছেন তাইজুল। বিশ্ব টেস্ট বোলারদের তালিকায় শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন অস্ট্রেলিয়ার মিচেল স্টার্ক। তার ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছেন নিউজিল্যান্ডের ম্যাট হেনরি; দুজনের রেটিং পয়েন্টের ব্যবধান মাত্র চার।
ব্যাটিং র্যাঙ্কিংয়েও বাংলাদেশের কয়েকজন ক্রিকেটারের অবস্থানের উন্নতি হয়েছে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৫৩ এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ১০২ রান করা লিটন দাস তিন ধাপ এগিয়ে উঠে এসেছেন ২৯তম স্থানে। ভারতের লোকেশ রাহুলের সঙ্গে যৌথভাবে এই অবস্থানে আছেন তিনি। প্রথম ইনিংসে অর্ধশতক করা তানজিদ হাসানের উন্নতিও চোখে পড়ার মতো। ১০ ধাপ এগিয়ে তার অবস্থান এখন ৯২তম।
অবশ্য মুশফিকুর রহিম ও নাজমুল হোসেন শান্তকে এক ধাপ করে পিছিয়ে যেতে হয়েছে। মুশফিক এখন ১৮তম এবং শান্ত ২১তম স্থানে রয়েছেন। তারপরও বাংলাদেশি ব্যাটারদের মধ্যে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন অভিজ্ঞ মুশফিক।
আফগানিস্তানের ক্রিকেটারদের র্যাঙ্কিংয়েও এসেছে বড় পরিবর্তন। বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই ইনিংসে ধারাবাহিক ব্যাটিং করা রহমত শাহ ১৩ ধাপ এগিয়ে ১৩তম স্থানে উঠেছেন। তার রেটিং পয়েন্ট ৬৯৩, যা আফগানিস্তানের কোনো ক্রিকেটারের জন্য সর্বোচ্চ। দ্বিতীয় ইনিংসে সেঞ্চুরি করা সেদিকউল্লাহ আতাল তো এক লাফে ৪১ ধাপ এগিয়ে ৯১তম স্থানে উঠে এসেছেন।
ব্যাটারদের র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন ইংল্যান্ডের হ্যারি ব্রুক। দ্বিতীয় স্থানে আছেন অস্ট্রেলিয়ার স্টিভ স্মিথ। অন্যদিকে টেস্ট অলরাউন্ডারদের তালিকায় নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। দক্ষিণ আফ্রিকার মার্কো ইয়ানসেন ও ভারতের রবীন্দ্র জাদেজার পর তৃতীয় স্থানেই রয়েছেন তিনি।
