বহুজাতিক ব্রিটিশ ব্যাঙ্ক ‘বার্কলেস’-এ ছাঁটাই। ইতিমধ্যে চাকরি খুইয়েছেন ১,০০০ জন। সংবাদ সংস্থা বিবিসি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, বছর শেষের আগেই সব মিলিয়ে ৫,০০০-এ পৌঁছোবে এই সংখ্যা। শুধু তা-ই নয়, সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি তাদের বিশ্বব্যাপী কর্মীসংখ্যার পাঁচ শতাংশ হ্রাস করতে চলেছে বলেও স্পষ্ট করেছে তারা।
ছাঁটাই প্রসঙ্গে ইতিমধ্যেই গণমাধ্যমে মুখ খুলেছেন ‘বার্কলেস গ্রুপ’-এর চিফ এগ্জ়িকিউটিভ সিএস ভেঙ্কটাকৃষ্ণণ। তিনি জানিয়েছেন, ব্যাঙ্কিং পরিষেবাকে আরও সহজ ও উন্নত করার লক্ষ্যে কৃত্রিম মেধা বা এআই (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) প্রযুক্তিতে বিপুল বিনিয়োগ করা হচ্ছে। সেই কারণেই কর্মীসংখ্যা কমাচ্ছেন তাঁরা। তবে, এই পরিস্থিতির জন্য শুধুমাত্র নতুন প্রযুক্তিকে দায়ী করা ঠিক নয়।
সূত্রের খবর, কাজ হারানো কর্মীদের অধিকাংশই ‘বার্কলেস’-এর অপারেশন এবং সহায়ক বিভাগ কর্মরত ছিলেন। এ ব্যাপারে জনপ্রিয় মার্কিন গণমাধ্যম ‘ব্লুমবার্গ’কে ভেঙ্কটাকৃষ্ণণ বলেন, ‘‘আমরা আগামী দিনে ব্যাপক ভাবে এআই ব্যবহার করব। আসলে কৃত্রিম মেধাকে কোনও কেক-এর উপরের আইসিং বলা যেতে পারে, সেটি কখনও মূল কেক নয়।’’
এআই প্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে নানাবিধ পরিকাঠামোগত উন্নতির দিকে নজর দিয়েছে সংশ্লিষ্ট বহুজাতিক ব্রিটিশ ব্যাঙ্ক। সেখানেও মোটা টাকা খরচ হচ্ছে তাদের। আর তাই কর্মী কমিয়ে সেই ব্যয়ে কিছুটা রাশ টানতে চাইছে ‘বার্কলেস’, বলছেন বিশ্লেষকদের একাংশ। উল্লেখ্য, তিন বছর ধরে আর্থিক প্রতিষ্ঠানটিতে চলছে ছাঁটাই প্রক্রিয়া।
বিশেষজ্ঞদের অনুমান, আগামী দিনে ‘বার্কলেস’-এ কাজ হারাতে পারেন ডেভেলপার ও সহায়ক বিভাগের প্রায় ৬০ শতাংশ কর্মী। অন্য দিকে, চলতি আর্থিক বছরের (২০২৬-’২৭) সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকে তাদের মুনাফার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৩০ কোটি পাউন্ড। গত অর্থবর্ষের (২০২৫-’২৬) সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকের তুলনায় যেটি সামান্য বেশি। কিন্তু, তার পরেও লাভের অঙ্ক প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।
