দৈনিক মজুরি বৃদ্ধি, রেশনিং ব্যবস্থা চালু এবং উৎসব বোনাস প্রদানসহ সাত দফা দাবিতে চট্টগ্রামে মিছিল, মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছেন জেলা ও মহানগর কমিউনিটি সেন্টার ও ডেকোরেটার্স শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা।
আজ রবিবার (১৮ অক্টোবর) বেলা ১২টায় সংগঠনের উদ্যোগে নগরীর কাজীর দেউড়ি কাঁচাবাজার প্রাঙ্গণে এই শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে লাল পতাকায় সজ্জিত একটি মিছিল নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে একটি মানববন্ধন ও সংহতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনের সভাপতি মো. পারভেজের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. শাহিনের সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র (টিইউসি) চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি তপন দত্ত।
এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার কামাল খান, টিইউসি কেন্দ্রীয় কমিটির সংগঠক ফজলুল কবির মিন্টু এবং বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মো. আব্দুর রহিম। এছাড়া হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা উপস্থিত থেকে কর্মসূচির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, বর্তমানে কমিউনিটি সেন্টারগুলোর ভাড়া ক্ষেত্রভেদে ১৫-২০ হাজার টাকা থেকে বেড়ে দুই থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত হয়েছে। অথচ এসব প্রতিষ্ঠানের মূল চালিকাশক্তি শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি মাত্র ৪০০ টাকাতেই আটকে আছে। কাজ নিয়মিত না থাকায় অনেক শ্রমিকের মাসিক আয় পাঁচ হাজার টাকাও হয় না। বিপরীতে, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিবিএস) তথ্যমতে, চার সদস্যের একটি পরিবারের ন্যূনতম মাসিক খরচ ৩০ হাজার টাকার বেশি। চার বছর আগের নির্ধারিত এই সামান্য মজুরি দিয়ে বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে শ্রমিকদের পরিবার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
আরও পড়ুন
বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশ্ন তোলেন, অনুষ্ঠানের ভাড়া ও অন্যান্য খরচ অনায়াসে বাড়ানো গেলেও ওয়েটার ও ডেকোরেটার্স শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি বাড়াতে মালিকপক্ষের আপত্তি কেন? বর্ষাকাল ও রমজান মাসে কাজ কমে যাওয়ায় বছরের প্রায় অর্ধেক সময় শ্রমিকদের চরম অভাব ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাতে হয় বলেও উল্লেখ করেন তারা।
এ পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের জন্য ন্যায্যমূল্যে চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহে রেশনিং ব্যবস্থা চালু এবং কর্মহীন মৌসুমে বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ার জোর দাবি জানানো হয়।
সমাবেশ থেকে উত্থাপিত মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, কমিউনিটি সেন্টার শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ন্যূনতম ৭০০ টাকা এবং ডেকোরেটার্স শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৮০০ টাকা নির্ধারণ করা। আগামী ১ নভেম্বর ২০২৬ থেকে এই বর্ধিত মজুরি কার্যকর করা এবং দুই ঈদে ২০ দিনের মজুরির সমপরিমাণ দুটি উৎসব বোনাস প্রদান করা।
